in

ভারতের সেরা স্থাপত্য

কলকাতা শহরের অন্যতম প্রধান পর্যটক আকর্ষন হল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। তৎকালীন ভারতের মহারাণী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতির উদ্যেশ্যে এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কলকাতায় এমন মনোরম এবং উম্মুক্ত প্রাঙ্গন আর দ্বিতীয়টি নেই। বর্তমানে ভিক্টোরিয়া হল ভবনটি ভারতবর্ষে স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্চে। আজকে জানবো ভারতে অবস্থিত ইউরোপিয় স্থাপত্য রীতির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল সম্পর্কে।
১৯০১ সালে মহারানী ভিক্টোরিয়া ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ৬৩ বছর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাষন করা এই মহারানীর স্মৃতির উদ্যেশ্যে তৎকালীন কলকাতায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করার কল্পণা করেন। উপনিবেশিক স্থাপত্য রীতেতে নকশা করা হলেও এই ভবনটিতে মোগল ও ইসলামি স্থাপত্যের সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। যেমন এতে রয়েছে ইতালিয় রীতির মর্তি, মোগল রীতির গম্বুজ, তাজমহলের মত সাদা মারবেলে ব্যবহার এবং সু-উচ্চ স্তম্ভ শ্রেণি।
ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের উত্তর দিকে অবস্থিত কুইন্স ওয়ে, ডান্সিং ফাউন্টেন, তারপর বিস্তীর্ণ ব্রিগেড প্যারেড ময়দান; দক্ষিণে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস রোড এবং তারপর সেঠ সুখলাল কারনানি ওরফে পিজি হাসপাতাল; পূর্বে কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট পলস্ ক্যাথিড্রাল গির্জা, বিড়লা তারামণ্ডল, আকাদেমি অব ফাইন আর্টস্ এবং রবীন্দ্র সদন; আর পশ্চিমে কলকাতা রেসকোর্স ময়দান। স্মৃতিসোধ ভবনের উত্তর এবং দক্ষিণ দু-দিকেই বিশাল ফটক। উত্তর ফটক থেকে ভবন পর্যন্ত চওড়া রাস্তার দু-দিকে দুই প্রকাণ্ড জলাধার একাধারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শনের মনোরম শোভা বর্ধন করে। যে দৃশ্য চাক্ষুষ করে অথবা লেন্সবন্দি করে সব বয়সের প্রেমিকপ্রেমিকা-ই রীতিমতো নস্টালজিক হয়ে যায়! সুরম্য উদ্যান পরিবেষ্টিত বড়ো বড়ো গাছের কাণ্ডের খোপে খোপে অসংখ্য নবীন প্রেমীযুগলের অবস্থানে গোধূলিতে মৌনমুখরতার আবেশ পাওয়া যায় আজো! শ্বেতপাথরে নির্মিত সুবৃহৎ ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের নির্মাণকার্য শুরু হয় ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে। সৌধটির উদ্বোধন হয় ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে। সৌধের সর্বোচ্চ গম্বুজে বিউগল-ধারিণী বিজয়দূতীর একটি কালো ব্রোঞ্জমূর্তি রয়েছে। বায়ুপ্রবাহ শক্তিশালী হলে বল-বিয়ারিং যুক্ত একটি পাদপীঠের উপর স্থাপিত মূর্তিটি হাওয়ামোরগের কাজ করে। আই আই ই এস টি-প্রাক্তনী এ সি মিত্র ভিক্টোরিয়ার নির্মাণপ্রকল্পের কার্যনির্বাহী বাস্তুকার। এক উচ্চ পর্যায়ের পরিবেশ বিজ্ঞানীমহলের অভিমত হল, কলকাতার দূষণের ফলে ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধের সাদা পাথরে মলিনতার ছোঁয়া লাগছে। এই দূষণ থেকে শতাব্দীপ্রাচীন সৌধকে রক্ষা করাটা খুবই জরুরি; কেননা, ভিক্টোরিয়া স্মৃতিসৌধ কলকাতার গর্বের প্রতীকরূপে বিশ্বের অঙ্গনে প্রতিভাত!
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে প্রবেশ করলে প্রথমে চোখে পরবে রানী ভিক্টোরিয়ার বিরাট এক মূর্তি। এই মুক্তির দুই পাশে রয়েছে দুইটি বিশাল জলাশয়। মূল স্মৃতিস্তম্ভ, সাজানো বাগান ও পুকুর সহ পুরা আঙিনাটির আয়তন ৬৪ একর। ভবটির দৈর্ঘ্য ৩৩৮ ফুট এবং প্রস্থ্য ২২৮ ফুট। ভবনটির সর্বমোট ওজন হিসাব করা হয়েছে ৮০ হাজার ৩০০ টন। ভবনের উপরে স্থাপিত ভিক্টোরির মুর্তি পর্যন্ত এর উচ্চতা ১৮৬ ফুট এবং শুধু মুর্তিটির উচ্চতা ১৬ ফুট। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের মুর্তিটি বল বিয়ারিং এর সাহায্যে ব্যাধির সাথে সংযুক্ত। বাতাসের গতিবেগ অত্যন্ত বেশি হলে মুর্তিটি তার ব্যাধির উপর ঘুরতে পারে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ২৫ টি গ্যালারি রয়েছে। এর মধ্যে কুইন্স হলটি হচ্ছে আকর্ষনের মূল কেন্দ্র। এখানে রানীর স্মৃতির বিভিন্ন সামগ্রী সংরক্ষিত আছে। এছাড়া বর্তমানে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ভারতের ব্রিটিশ শাষনামলের প্রায় ৩ হাজার ৫’শ টি নিদর্শন রয়েছে।
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নির্মানে ব্যায় হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। এ সম্পূর্ণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল ভারতীয় ব্যবসায়ী ও দেশীয় রাজ্যের রাজাদের কাছ থেকে। বলা হয়ে থাকে যে ভবনের সম্পূর্ণ নির্মান সামগ্রীর পরিবহনের জন্য প্রয়োজন ছিল একটি ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রেনের। এখান থেকে সম্রাট শাহাজাহান তাজমহল নির্মানের জন্য মারবেল সংগ্রহ করেছিলেন।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

আবুধাবি কেন এত ধনী?

আমেরিকা বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে হয়ে উঠার ইতিহাস