in

মৃত সাগর এবং অন্যান্য সাগরের মধ্যে পার্থক্য

মধ্য প্রাচ্যে অবস্থিত ডেড সী বা মৃত সাগর প্রকৃতপক্ষে কোন সাগর নয়, এটি মূলত একটি হ্রদ। পৃথিবীর অন্যান্য সাগরের তুলনায় মৃত সাগরের পানি ১০ গুণ বেশি লবণাক্ত হবার কারণে এ জলে কোন উদ্ভদ বা মাছ বাঁচতে পারে না। আর তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে মৃত সাগর। অত্যদিক লবণের উপস্থিতির কারণে মৃত সাগরের পানির প্রবলতা এতই বেশি যে, এখানে আপনি অনায়াসে হাত পা ছড়িয়ে ডুববেন না এখানে। মৃত সাগরের পৃষ্ঠভাগ স্বাভাবিক সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৪০০ মিটার নিচে অবস্থিত। তাই এক ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে নিম্নভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পৃথিবীর অন্যতম এক বিষ্ময় মৃত সাগর সম্পর্কে জানব আজকের প্রতিবেদনে।
মৃত সাগরের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে জর্ডান এবং পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তান। প্রায় ৩০ লক্ষ বছর আগে বর্তমান জর্ডান নদী মৃত সাগর এবং ওয়াদি আরাবা অঞ্চল লোহিত সাগরের পানিতে একাধিক বার প্লাবিত হওয়ার ফলে একটি সরু উপসাগরের সৃষ্টি হয়। উপসাগরটি লোহিত সাগরের সাথে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে প্রায় ২০ লক্ষ বছর আগে উপসাগর এবং লোহিত সাগরের মধ্য ভাগ ধীরে ধীরে উঁচু হতে থাকে। এক পর্যায়ে এই উপসাগরটি চার দিকে ভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে এক বিশাল হ্রদ এ পরিণত হয়। বর্তমানে এই হ্রদের গভিরতা ১২৪০ ফুট এবং এর দের্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার ও প্রস্থ্য সর্বোচ্ছ ১৮ কিলোমিটার। মৃত সাগরের জলে ভেসে থাকার জন্য আপনাকে কিছু করতে হবে না। যারা সাঁতার জানেন না তারাও নিশ্চিত এখানে ভেসে থাকতে পারবেন। এমন কি আপনি চাইলেও এ জলে ডুবে যেতে পারবেন না।
অত্যন্ত লবণাক্ততার কারণে এ জলের প্লবতা অনেক বেশি। প্লবতা হলো পানিতে ভাসমান কোন বস্তুর উপর পানির উর্ধমুখী বল। কোন বস্তুকে পানিতে ছেড়ে দেওয়া হলে বস্তুর ওজন নিচের দিকে একটা বল প্রয়োগ করে। সেই সাথে পানিও বস্তুকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। যদি বস্তুর ওজন বেশি হয় তবে বস্তু ডুবে যায় আর যদি পানির উর্ধমূখী বল বেশি হয় তাহলে বস্তু ভাসতে থাকে। অর্থাৎ পানিতে কোন ভাসমান বস্তুর উপর উপযুক্ত পানির উর্ধমূখী বল ই হল প্লবতা। মৃত সাগরের অধিক প্লবতার কারণে এখানে অনায়াসে ভেসে থাকা যায়। মৃত সাগরের পানির প্লবতা এত বেশি হওয়ার কারণ হলো এর জলে অত্যদিক লবণাক্ততা। এই পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ প্রায় ৩৪.০২ শতাংশ। অর্থাৎ মৃত সাগরের ১০০ গ্রাম পানিতে প্রায় ৩৪ গ্রাম লবণ। যা সাধারণ সাগরের পানির থেকেও ১০ গুণ বেশি লবণাক্ত। অন্যান্য মহাসাগরের পানি ও মৃত সাগরের পানিতে মিশে থাকা খনিজ উপাদান গুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। মৃত সাগরের পানিতে বিদ্যমান লবণে রয়েছে মেগনেশিয়াম ক্লোরাইড ৫০ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড ৩০ শতাংশ ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ১৪ শতাংশ এবং পটাসিয়াম ক্লোরাইড ৪ শতাংশ। এই অত্যধিক লবণাক্ততার কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিবেশে মাছ বা অন্য কোন জলজ প্রাণি বসবাস করতে পারে না। এই জলভূমিতে কোন প্রাণি বাঁচে না বলে একে মৃত সাগর নাম করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এখানে কিছু ব্যাকটেরিয়া ও সামান্য কিছু ছত্রাক জাতীয় কিছুর সন্ধান পাওয়া গেছে।
মৃত সাগর অঞ্চলটি দিন দিন চিকিৎসা শাস্ত্রের গবেষণার জন্য তীর্থস্থানে পরিণত হয়ে উঠছে। প্রাকৃতিক ভাবে হ্রদের পানিতে খনিজ দ্রব্যাদির বিপুল উপস্থিতি, বাতাশে এলার্জি উৎপাদক দ্রব্য, উচ্চ বায়ু মন্ডলীয় চাপ, সৌরবি কিরণে অতি বেগুনী রশ্মির কম উপস্থিতি ইত্যাদির কারণে মৃত সাগর অঞ্চলটি মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে অনেক নিচুতে অবস্থান হওয়ার কারণে পৃথিবীর অন্য কোন স্থানে তুলনায় এখানে অক্সিজেনের মাত্রাও প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এখানকার বায়ু প্রাকৃতিক ভাবে উৎপুল্ল কারক। বিশেষ করে শ্বাস কষ্টে থাকা রোগীদের জন্য এখান উচ্চ বায়ুমন্ডলীয় চাপ বেশ উপকারি। এছাড়া মৃত সাগরের লবণাক্ত কাদা ঔষধি ও প্রসাধনী গুনের কারণে প্রসিদ্ধ। নানা ধরনের চম্র রোগের চিকিৎসায় এই কাদা ব্যবহার করা হয়।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

স্বাদের খাবার

যে প্রাণী পুনুরুজ্জিবিত করা সম্ভব