in

সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগী প্রানীজগতের পাঁচ মা

বৈচিত্র্যপূর্ন এ প্রকৃতিতে রয়েছে প্রাণী জগতের অসংখ্য শ্রেণিবিভাগ । এদের একেক শ্রেনির আচরণ একেকরকম । প্রকৃতির মতো প্রাণীজগতেরও রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্র্য। সন্তানের জন্য আমাদের মা-বাবা কতোটা কষ্ট এবং ত্যাগ স্বীকার করে তা আমাদের অজানা নয় । কীন্তু শুধু মানুষ ই কি সন্তানের জন্য এমন কষ্ট করে ? নাকি প্রকৃতির অন্য প্রানীদের রয়েছে মাতৃত্ব এবং পিতৃত্বের মমতাময়ী অনুভুতি!
প্রকৃতিতে কিছু কিছু প্রানী টাডেড় সন্তানদের কোনপ্রকার যত্নই নেয় না । জন্মের পর ফেলে রেখে যায় যেখানে শক্তিশালী বাচ্চাগূলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে । আবার কিছু প্রানী তাদের সন্তান দের জীবনের শুরু টা সুন্দর করার জন্য নিজের সর্বস্বটাও ত্যাগ করতে দ্বীধা করেনা । প্রানী জগতের এমন ই ৫ মমতাময়ী মা-বাবাকে নিয়ে আমাদের এ প্রতিবেদন ।

ওয়েডেল সিল – WEDDEL SEAL
ওয়েডেল সিল প্রানীজগতের সেই সকল প্রজাতির মধ্যে একটি যাদের মায়েরা একাই সন্তান লালনের মত বিশাল কাজটি সম্পন্ন করে । অ্যাঁন্টার্কটিকার মতো সবচেয়ে কঠীণ আবহাওয়া সম্বলিত জায়গায় বসবাসের কারনে সন্তান জন্ম দেওয়া এবং লালন পালন করার কাজটি অনেকবেশি কষ্টসাধ্য হয় । আশার ব্যাপার হলো – এতো কষ্ট সহ্য করেও মা ওয়েডেল সিল তার সন্তান দের লালন পালনে কমতি রাখেনা ।
মা ওয়েডেল সিলের অবিশ্বাস্য ত্যাগের শুরুটা হয় ১১ মাসব্যাপী গর্ভধারনের মধ্য দিয়ে । বাচ্চা জন্ম হওয়ামাত্র অ্যাঁন্টার্কটীকার বিপদজনক পরিবেশে টিকে থাকার শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়ে যায় । বাচ্চার বয়স যখন মাত্র দু সপ্তাহ তখনই – মা সিলেরা বাচ্চাকে পানিতে নামতে উদবুদ্ধ করতে থাকে । একটি গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা হচ্ছে , পানির নিচের দিগন্ত চিনে পথ চলট্যাঁ পারা এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য বরফের মধ্যে ছিদ্রগুলো খুঁজে বের করা । ডাঙ্গায় আরেকটি গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা হলো দাতের সাহায্যে বরফের মধ্যে ছিদ্র তৈরি করা এবং পুরানো ছিদ্রগুলো ঠীক রাখা । নিশ্চিত করা বরফ জমে ছিদ্রগুলো বন্ধ না হয়ে যায় ।
এ হিমশিতল রাজ্যে ওয়েডেল সিল প্রতিবছর একটি বাচ্চার জন্ম দিয়ে থাকে এবং সারাবছর ধরে লালন পালন করে । যদিও তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাতে থাকে । মা সিল তাদের বাচ্চাকে যে দুধ খাওয়ায় তাতে প্রায় ৬০% ফ্যাট থাকে , যা বাচ্চাদের দ্রুত বেড়ে উঠতে সহায়তা করে ।

ওরাং ওটাং – Orangutang
অসাধারন এ বুদ্ধিমান প্রাণীদের সাধারণত সুমাত্রা (ইন্দোনেশিয়া) এবং বোর্নিওর (মালয়েশিয়া) রেইন ফরেস্টে দেখা যায় । ওরাং ওটাং মায়েরা তাদের শিশুদের আটবছর পর্যন্ত লালনপালন করে । যা মানুষব্যাতিত অন্যকোনো প্রানীর মধ্যে দেখা যায়না ।
সুমাত্রান মেয়ে ওরাংওটাংরা প্রতি নয় বছরে একটি করে বাচ্চা জন্ম দেয় । এভাবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে সন্তান জন্মদান । এত লম্বা সময় ধরে বাচ্চাদের লালন-পালন করার ফলে মা ও বাচ্চার মধ্যে অসাধারন বন্ধন তৈরি হয় ।
এ আট বছরে মায়ের কাছে শিশু ওরাং ওটাং অনেক কিছুই শিখে নেয় । উল্লেখযোগ্য শিক্ষাটী জঙ্গলের কোথায় ভালো ফল পাওয়া যায় , ফল কখন পরিপক্ক এবং খাওয়ার উপোযোগি হয় , ওরাংওটাং শিশুরা তা মায়ের কাছেই শেখে ।
মায়ের কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে জটীল কাজটি সম্ভবত ঃ বাসা তৈরি করা । ছয় মাস বয়স থেকে শিশু ওরাংওটাং শিশুরা তা মায়ের কাছেই শেখে ।
মায়ের কাছ থেকে শেখা সবচেয়ে জটিল কাজটি সম্ভবত ঃ বাসা তৈরি করা । ছয় মাস বয়স থেকে শিশু ওরাংওটাং বাসস্থান তৈরির অনুশীলন শুরু করে এবং তিন থেকে চার বছর বয়সে সফলভাবে গাছের মগডালে বাসস্থান তৈরি করে ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সিসিলিয়ানস – Caecilians
সিসিলিয়ালসদের মায়েরা সন্তান দের জন্য এতোটাই ত্যাগ স্বীকার করে যে , সন্তানের জীবণ রক্ষার্থে নিজেদের কে সন্তানের খাবারে পরিণত করে । পৃথিবীর প্রায় সকল রেইন ফরেস্টে তাদের পাওয়া যায় । এই অসাধারণ প্রানীটী তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে কাটীয়ে দেয় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন –
আন্টার্ক্টিকার শুন্য ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রায় অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন দের মা-বাবারা যেভাবে সন্তান লালনপালন করে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য !
পিতা আডিলি পেঙ্গুইন প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সঙ্গিনীর কাছে ফিরে আসে । যেখানে তারা বছরের পর বছর বংশবৃদ্ধি করে আসছে । ডিম সংরক্ষনের জন্য যে বাসা দরকার তা তৈরি হয় পাথর দিয়ে । একটি পরিপুর্ন বাসা তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমান পাথরের যোগাণ না মিললে অ্যাঁডিলি পেঙ্গুইন অন্যের বাসা থেকে চুরি পর্যন্ত করে থাকে ।
যখন মা এসে হাজির হয় এবং ডিম পারে ,বাবা মা পলাক্রমে ডীমে তাপ দেওয়ার দায়ীত্ব পালন করে থাকে । ডীম যদি ঠান্ডা আবহাওয়ায় পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে তবে সেই ডিম থেকে আর বাচ্চা ফুটানো সম্ভব নয় ।
অ্যাঁডীলী পেঙ্গুইন দের বাবারা প্রানী জগতের সবচেয়ে পরিশ্রমি বাবাদের একজন । যদি কোণো বাবা ফিরে না আসে , মা তার ডীম টা ফেলে রেখে চলে যায় । কারন তার একার পক্ষে ডীম ফুটিয়ে সন্তান কে বড় করার কাজটি সম্ভব নয় ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্লাঊন ফিশ
মা- বাবার অসাধারন ভালবাসা নিয়ে নির্মিত ফাইন্ডিং নিমো সিনেমায় অভিনয় করা ক্লাঊণ ফিশ বাস্তব জিবনেও অসাধারন বাবা মা । অ্যাঁডীলী পেঙ্গুইন দের মতো এরাও সন্তান লালনপালনের কাজটি করে মা-বাবা মিলেই করে থাকে । বাচ্চা জন্ম নেওইয়ার আগেই তারা পাথুরে একটি গর্ত পরিষ্কার করে রাখে নবজাতকের বাসস্থানের জন্য । এক বারে একটি একটি ক্লাউন ফিশ একশ থেকে এক হাজারটি পর্যন্ত ডিম দেয় । পুরুষ ক্লাউন ফিশ ডিমগুলো পাহারা দেয় । ৬ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম ফূটে বাচ্চা বের হয় । ডিম থেকে বাচ্চাগুলো বের হঊয়ার পর বাবা-মা দুজনই তাদের ফিনের (পাখনা ) সাহায্যে নবজাতককে সবসময় অক্সিজেন পরিপুর্ন বাতসের যোগাণ দিয়ে থাকে । যেনো বাচ্চাদের অধিকাংশের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় ।

What do you think?

Written by Raihan Yasir

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

যে প্রাণী পুনুরুজ্জিবিত করা সম্ভব

সমুদ্রের গভীরে ঘুরে আসুন