in

সমুদ্রের গভীরে ঘুরে আসুন

আপনি যখন উচ্চ বিল্ডিং এ চড়ের অথবা উঁচু পাহাড়ে তখন হইতো আপনার অনেক ভয় লাগে। হইতো উঁচু সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কিন্তু গভিরতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কতটুকু? এক কথায় পৃথিবীর যত জিনিস আছে সবকিছু মিলিয়েও যদি সমুদ্রকে ভরার চেষ্টা করা হয় তবুও তার ১ ভাগ ভরাট করা সম্ভব হবে না। এতটাই বড় আমাদের সমুদ্র। আমারা জানি পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানিতে ভরপুর। আর মাত্র ১ ভাগ মাটি। কিছু কথা জেনে নিই আগে আমরা। একটি মানুষের স্বাভাবিক উ্চ্চতা সাধারণত দেড় মিটার হয়ে থাকে। ঠিক একই ভাবে এক তলা একটি বিল্ডিং তিন মিটার হয়ে থাকে। যদি আমারা কোন দশ তলা বিল্ডিংকে দেখি তবে তার উচ্চতা মিটারে হিসাব করলে ৩০ মিটারের হয়ে থাকে। এখন তাহলে চলুন যাওয়া যাক সমুদ্রের ভিতর।

যখন আমরা সমুদ্রের ভিতর ৪০ মিটার পর্যন্ত চলে আসব মানে দশ তলা বিল্ডিং ছাড়েয়েও যখন ১০ মিটার বেশি গভীরে যাব তখন মেক্সিমাম লেভেল চলে আসবে স্কুবা ডাইবিং করার। প্রতিটা স্কুবা ড্রাইভার এতটুকু গভিরতাতে ড্রাইবিং করে। যখন আমরা সমুদ্রের ৭৩ মিটার গভীরে চলে যাব, তখন কুতুব মিনার বা তাজমহলকে এর উল্টো করে দাঁড় করিয়ে দিব। কারণ এর উচ্চতা ৭৩ মিটারের সমপরিমাণ। যদি আমাদের রেক অব লুসতানিয়া জাহাজ পর্যন্ত যেতে হয় তবে আমাদের সমুদ্রের ৯৩ মিটার গভীরে যেতে হবে। যখন আমরা ১০০ মিটার গভীর পর্যন্ত চলে আসব, তখন আমরা আর সাঁতার কাটতে পারব না। এখানে সাঁতার কাটাও চেলেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এখানে ডিকম্পেশান সিকনেস হয়ে থাকে। কিন্তু হারবার্ট নিথস নামের এক লোক ২১৪ মিটার গভীরে সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। ৩৩২ মিটার গভীরে আহমেদ গাবর নামের এক লোক স্কুবা ডাইবিং করে বিশ্ব রেকর্ড করেন। এর নিচে এখন পর্যন্ত কারো স্কুবা ড্রাইবিং করার সাহস হয়নি। এখন আমরা ৪৪৩ মিটার গভীর পর্যন্ত যাব। তখন যদি আমেরিকার State Empire বিল্ডিংকে উল্টো করে দাঁড় করায় তবুও এটি ডুবে যাবে। আর যখন আমরা ৫০০ মিটার গভীরে যাব, তখন আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী মানে ব্লু হোয়েলের রাজ্যে চলে যাব। বুঝতেই পারছেন আমরা অনেক গভীরে চলে এসেছি। কিন্তু ভয় পাবেন না। এগুলো মাত্র শুরু।

এখনো আমাদের অনেক গভীরে যেতে হবে। যখন আমরা ৫৩৫ মিটার গভীরে চলে যাব, তখন আমরা এম্পেরর পেঙ্গুইনদের এলাকায় চলে যাব। আরো নিচে যেতে যেতে যখন আমরা ৮৩০ মিটার গভীরে চলে আসব তখন আমরা এতটাই নিচে চলে যাব যে, যদি পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং ব্রুজ খলীফাকে উল্টো করে ধরি তবুও এটি ডুবে যাবে। ভাবেতে পারতেছেন কোথায় চলে এসেছি আমরা? আরো নিচে যেতে যেতে যখন আমরা ১০০০ মিটার গভীবে চলে যাব তখন আসবে স্ক্যারি জোন। এই স্তরটির নাম স্ক্যারি জোন এ জন্যই যে, এর পরের গভীরতায় সূর্যের কোন উষ্ণ রশ্মি পরে না। এই স্তরের পরে শুধ অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। এখানে কিছুক্ষণ থাকা আপনার পক্ষে এতটায় কষ্টে হবে যে, মনে হবে আপনি ভেনাস গ্রহে দাঁড়িয়ে আছেন। যেখানে দাঁড়ানো মাত্র মৃত্যু অনিবার্য। কিন্তু এটাকে আমরা সমুদ্রের গভীরতা বলতে পারি না। সমুদ্রের গভীরতা এর থেকেও অনেক বেশি গভীর। কথাটি এ জন্যই বললাম, আজ পর্যন্ত আমরা সমুদ্রের ৫ শতাংশ প্রাণি খুঁজে বের করতে পেরেছি। বাকি ৯৫ শতাংশ এখনো পর্যন্ত আমাদের নাগালের বাহিরে। এই ৯৫ শতাংশের ভিতর যেকোন কিছু থাকতে পারে। যা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণায় নেই। থাকতেই পারে কোন রহস্য যা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগী প্রানীজগতের পাঁচ মা

গ্রেট ডিপ্রেশন হিস্ট্রি