in

এই প্রাণীগুলোর কষ্টের গল্প, আপনার চোখের কোণে জল এনে দিতে পারে!

এ পৃথিবী আমাদের একার নয়। এই পৃথিবীতে আমদের যতটা অধিকার রয়েছে, ঠিক ততটা অধিকার রয়েছে একটা অবলা প্রাণীরও। কিন্তু আমরা অনেকে বুঝে বা না বুঝে এ সমস্ত প্রাণীদের বিভিন্ন সময় কষ্ট দিয়ে থাকি। আবার অবলা প্রাণীরাও একটু ভুলের কারণে প্রকৃতির কাছে হেরে গিয়ে সারাজীবন কষ্ট পায়। আজকে আমার তেমনি কিছু গল্প নিয়ে আলোচনা করব। যা শুনার পর হইতো আপনি নিজেও কেঁদে ফেলবেন।

এই কচ্ছপটির আকার খুবই অস্বাভাবিক। এর আসল কারণ জানলে আপনি হইতো একটু কষ্টও পেতে পারেন। আসলে এই কচ্ছপটি যখন ছোট ছিল তখন এই কচ্ছপটি একটি প্লাস্টিকের রিং এর ভিতর আটকা পরে যায়। আর দূর্ভাগ্যক্রমে সেই রিং টি কচ্ছপটির পেটের সাথে আটকে যায়। এরপর কচ্ছপটি আর কোনভাবে সেই রিং থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। এই ভাবে সে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। কচ্ছপটির শরীরে দুইটি ভাগ স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেলেও তার শরীরের মধ্যভাগটি প্লাস্টিকের রিং এর জন্য বৃদ্ধি পেতে পারেনি। অবলা এই প্রাণীটি কাউকে বুঝাতে পারছিলো না তার এ্ই কষ্টের কথা। আর এই ভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ১৯ বছর। অবশেষে ১৯ বছর পর কচ্ছপটি ধরা পরে মানুষের জালে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একজন প্রাণী বিশেষজ্ঞের কাছে। দীর্ঘ ১৯ বছর অপেক্ষার পর এই প্লাস্টিকের রিং থেকে মুক্তি পায় এই কচ্ছপটি। কিন্তু পরবর্তিতে সে আর কোন ভাবেই তার স্বাভাবিক আকার ফিরে পায়নি।

এটি হলো একটি সামুদ্রিক প্রাণী। প্রাণীটির নাম হলো সী-লায়ন। অর্থাৎ সমুদ্রের সিংহ। এই প্রাণীটি যখন ছোট ছিল তখন না বুঝে একটা গোলাকার দড়ির মধ্যে আটকে পরে। তারপর সে শত চেষ্টা করেও তার গলা থেকে দড়িটি বের করতে পারেনি। এরপর শুরু হয় তার কষ্টের জীবন। আর মাঝে মাঝে কষ্টটি সহ্য করতে না পেরে প্রাণিটি অসহায় এর মত চিৎকার করতো। এই ভাবে কেটে যায় দীর্ঘদিন। অবশেষে এক শিকারীর নজরে আসে এই ব্যাপারটি। তারপর সে ঐ প্রাণীটিকে বাঁচানোর উদ্যেগ নেই। কিন্তু সে কিছুতেই এই প্রাণীটির কাছে যেতে পারছিল না। প্রাণীটিকে ধরার জন্য সে এক বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে। সে অজ্ঞান করা ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রাণীটিকে দূর থেকে অজ্ঞান করে দেয়। আর তখন প্রাণীটি কিছুক্ষনের জন্য তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগে তিনি প্রাণীটির গলা থেকে সুতাটা কেটে প্রাণীটিকে মুক্তি করে দেন। দীর্ঘদিন প্রাণীটির গলায় দড়িটি আটকে থাকার কারণে প্রাণীটির গলায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল। যায় হওক অবশেষে প্রাণীটির কষ্টের অবশান হলো। এবং সে পুনরায় ফিরে যায় গভীর সমুদ্রে।

চিতাবাঘ কে তো আমরা সকলেই চিনি। আর চিতাবাঘ যেমনি হিংস্র তেমনি ভয়ংকর। কিন্তু এত ভয়ংকর প্রাণী হওয়া স্বত্তেও একবার এক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছিল চিতাবাঘ। এই ঘটনাটি ঘটে ভারতে। একবার খুব তৃষ্ণার কারণে এক চিতাবাঘ একটি সিলবারের হাঁড়ির মধ্যে তার মাথাটি ঢুকিয়ে দেয়। আর তখনি পড়ে যায় মহা বিপদে। হাঁড়িতে মুখ ঢুকানোর পরে হাঁড়িটি তার মাথার সাথে আটকে যায়। যার কারণে সে কিছু দেখতে পায় না। আর এমন বিপদে পরে বাঘটি এক প্রকার দিশাহারা হয়ে যায়। এবং এদিক ঐদিক ছুটাছুটি করতে আরম্ভ করতে শুরু করে দেয়। অবশেষে বাঘের এই করুণ পরিস্থিতি মানুষের নজরে আসে। এরপর বনোদপ্তরকে খবর দেওয়া হয়। বনোদপ্তরের কর্মীরা এসে বাঘটি অজ্ঞান করার ইনজেকশান দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তারপর হাড়িটি কেটে বাঘটিকে মুক্ত করে দেয়।

পরিবেশে বসবাস করা এই অসহায় প্রাণীদের সাহয্য করা আমাদের নৈতিক দায়ীত্ব। আমাদের একটু ভালবাসা ও সচেতনতা বাঁচাতে পারবে এই অবলা প্রাণী গুলোর মূল্যবান প্রান।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

কুকুর বিড়ালেরও পরিবার আছে।

যে আবিষ্কারগুলো গোপন রাখা হয়েছে