in

বিশ্বের রহস্যময় কিছু দরজা

মানুষের মধ্যে একটা স্বাভাবিক স্বভাব হলো নিষিদ্ধ কাজে বেশি আগ্রহ দেখানো কিংবা নিষিদ্ধ জায়গা খুঁজে বের করা। তাই তালা বদ্ধ একটি দরজা সেক্ষেত্রে লোভনীয় একটি কৌতুহলের কাজ করে। কেউ যখন দরজায় বেশ সময় নিয়ে অনেকগুলো তালা দিয়ে লক করে তখন সবাই ভাবে অবশ্যই ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে। কিন্তু দরজার ভিতরে এমন অনেক রহস্য রয়েছে যা অমিমাংসীত ছেড়ে দেওয়ায় ভাল। আজ আমরা কথা বলবো পৃথিবীর অদ্ভুদ এবং তালা বদ্ধ দরজা নিয়ে।

বেনিথ দ্যা মসেলিয়াম অফ দ্যা ফাস্ট কিন এম্পোরঃ ১৯৭৪ সালে চীনের ৫ ভাই মিলে একটি খনন কাজের মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ট কয়েকটি আবিষ্কারের মধ্যে একটি আবিষ্কার করে ফেলে। তারা জানতো যে, তাদের আবিষ্কার পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় আনলক দরজাগুলোর মধ্যে একটিকে খুঁজে বের করা তাদের প্রথম পদক্ষেপ। তারা এই গর্ত খনন করার সময় বুঝতেই পারছিলো তাদের জন্য বড় কোন কিছু অপেক্ষা করছে। গর্ত খনন করার পর পোরা মাটির কিছূ টুকরো খুঁজে পায়। সেইটি একটি বড় আকারের নিচু ভূমির গোরস্থানের আবিষ্কারের প্রথম ধাপ ছিল। গোরস্থানটি ছিল আকারে অনেক বড় এবং এর ছোট একটি অংশ খনন করতেও বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যায়। সম্রাটটির সমাধি রক্ষার্থে দাঁড়িয়ে থাকা আট হাজারেরও বেশি যোদ্ধা ও ঘোড়ার একটি দলের পোরা মাটির ভাস্কর্য ছিল অন্যতম আবিষ্কার। তবে সেই ভাই গুলো যারা কিনা এই আবিষ্কারের সাথে যুক্ত ছিল তারা খনন শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পরতে শুরু করে। তাদের পরিবার এবং তারা অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং মধ্যবিত্ত থেকে তারা খুব দরিদ্রে পরিণত হয়। এমন কি তাদের মাঝে কিছু রহস্যময় অসুখ ধরা পরে। তাদের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে, ঔষধ কিনার মত সেই সামর্থ ছিল না। এর মধ্যে এক ভাই তাদের এই দূর্দশা সইতে না পেরে নিজেকে মুক্ত করতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে এবং অন্য ভাইয়েরাও অর্থ শূণ্য হয়ে ধীরে ধীরে করুন মৃত্যুবরণ করেন। প্রচলিত একটি কথার বিশ্বাস রয়েছে। তারা যে সমাধি স্থলটির মাটি খনন করেছিল তা ছিল অবিশপ্ত এবং এটি নাকি তাদের দূর্ভাগ্যের একমাত্র কারন। যে সমাধি স্থলটি তারা আবিষ্কার করেছিল এর চারপাশে অনেকাংশে তখনো খোদায় করা বাদ ছিল। অনেকে এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, যেহেতু খননকারীরদের ভাগ্যে দুর্ভাগ্য নিয়ে আসে তাই সমাধি বদ্ধ করে রাখায় উচিৎ। কে জানে সে সামাধির দরজার রহস্যময়ের পিছনে অলৌকিক কি কান্ড অপেক্ষা করছে।

দ্যা হিডেন চেম্বার অফ তাজমহলঃ তাজমহল ভারতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম আকর্ষনীয় এবং পর্যটনের জায়গা। ১৬৩১ সালে সম্রাট শাহাজাহান তার স্ত্রীর উদ্যেশ্যে বিশেষ মহলটি তৈরি করেন। তার স্ত্রীর নাম ছিল মমতাজ। যে কিনা চৌদ্দতম সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যান। আর মমতাজের নাম অনুসারে এই মহলের নামকরণ করা হয়েছে তাজমহল। এই তাজমহলের সাথে একটি গল্প প্রচলিত আছে। এখানকার লোকজন বিশ্বাস করেন এর গোপন স্তরে এক হাজার উননব্বইটি কক্ষ আছে। আর এর মধ্যে আরো একটি ফ্লোর রয়েছে যেখানে আনুমানিক ২২ টি রুম হিন্দু প্রিন্ট ওয়ার্কের পিছনে লোকায়িত আছে। এমন কি এ মহলের প্রথম তলায়ও অসংখ্য রহস্যময় দরজা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যা কেউ খুলে দেখতে পারেনি। এমন কি আছে ঐ বন্ধ দরজার পিছনে। এক তথ্য অনুসারে তাজমহলের এই সিলমোহর করা এই দরজারগুলোতে আসলে নারীর স্মৃতিস্তম্ভ লোকিয়ে রাখা হয়েছিল। যেন সেগুলোকে কেউ ক্ষতি করতে না পারে। অনেকে এই থিওরিতে জোর দেন। শাহাজাহান গোপনে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে মোমি করে রেখেছিলেন। যেন তাকে মৃত্যুর পরেও তার নিকটেবর্তীতে রাখতে পারেন। এটি ভয়াবহ ইসলাম বিরোধী কাজ। ইসলামে মৃত্যুর পরবর্তীতে কবরের সাথে একধম সাংঘর্ষিক। তাই এই দরজাগুলোকে অত্যন্ত গোপন করা হয়। যেন বাহিরের মানুষ একেবারে জানতে না পারে। আসলে এই দরজার পিছনে কি হেতু, তা না খুললে কখনো জানা যাবে না।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

রোহিঙ্গা শিশুদের রক্ষা করবে কে?

কাঠের তৈরি ১৮ তলা ভবন!