in

কেমন ছিল ভয়েজার যান?

অজনাকে জানার, অচেনা চেনার কৌতুহল মানুষের বহু দিনের। তাই জানার এবং চেনার পরিধিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে মানুষ পরিশ্রম করে চলছে প্রতিনিয়ত। কখনো মাটির নিচে গভির খনী থেকে তুলে আনছে কয়লা, আবার কখনো মহাকাশ জানে পাড়ি দিচ্ছে চাঁদের উদ্যেশ্যে। আর মহাকাশের সাথে মানুষের সম্পর্ক বহু প্রাচীন। আসলে আমাদের এই মহাবিশ্ব এতটাই গভীর আর বিশাল যে, জ্ঞানের ভান্ডার কখনো পূর্ণ হয় না। বাকি থেকে যায় বহু রহস্যের অনুসন্ধান। নতুন রহস্যভেদ করতে বার বার গ্রহন করা হয় নতুন পদক্ষেপ। কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলেও বাকিটা থেকে যায় অধরা। মহাবিশ্বে মোট কয়টি নক্ষত্র বা গ্রহ আছে, ছায়াপথই বা কতগুলো, কোন ধুমকেতুর জন্ম হলো অথবা আর কোন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা এমন বহু প্রশ্নের উত্তর আজো আমাদের কাছে অজানা। কিন্তু মানুষ থেমে থাকেনি। প্রতিনিয়ত সে নতুন ভাবনা দিয়ে সে তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। আর মানুষের এই সৃষ্টিশীল ভাবনা থেকে জন্ম নিয়েছে ভয়েজার। আপনার সকলেই নিশ্চয় এই ভয়েজার মিশন সম্পর্কে অবগত। আজ আমাদের আলোচনা ভয়েজার মিশন নিয়েই। অসংখ্য খুটি নাটি তথ্য নিয়ে আজ আমারা আলোচনা করব।
কেমন ছিল ভয়েজার যানটি? আর এখন কোথায় আছে ভয়েজার? ভয়েজার মিশনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বা আশ্চর্যজনক কাজটি হলো মানুষকে মহাবিশ্বের এমন রত্ন খনীর অনুসন্ধান দেওয়া যেখানে মানুষের পক্ষে পৌছানো এক প্রকার অসম্ভব ছিল। তাই আজ আমরা প্রথমে জেনে নিব এই মিশনের গোরার কথা এবং একে একে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হব।
আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর আগে ১৯৭৭ সালে বৃহঃ, শনি ইউরেনাস ও নেপচুরেন উদ্যেশ্যে আমেরিকার নাসা পৃথিবী থেকে দুইটি মহাকাশ যান প্রেরণ করে। এদের নাম ছিল ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২, ১৯৭৭ সালে ২০ আগষ্ট ভয়েজার ২ কে লন্স করা হয়। এর ঠিক ১৬ দিন পর ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েজার ১ কে লন্স করা হয়। আজ ৪২ বছর পর এই দুই মহাকাশ যান ভয়েজার ১ এবং ভয়েজার ২ পৃথিবী থেকে যথাক্রমে ২১.৭৮ বিলিয়ন কিলোমিটার এবং ১৮ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই দুই মহাকাশ যান পৃথিবী থেকে এত দূরে অবস্থান করছে যে ভয়েজার ২ থেকে পৃথিবীতে ডাটা আসতে সময় লাগে প্রায় ১৬ ঘন্টা এবং ভয়েজার ১ থেকে মেসেজ আসতে সময় লাগে প্রায় ১৯ ঘন্টা। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এই যে ৪২ বছর পরেও এই দুইটি মহকাশ যান আজো সঠিকভাবে কাজ করছে এবং আমাদের ইউনিভার্স সম্পর্কিত নানন অজানা তথ্য দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করে চলেছে। তবে একটি চিন্তার বিষয় রয়েছে। এই মহকাশ যান গুলির বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে এদের ক্ষমতা কমে আসছে। তাই এদের থেকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য নাসা সারা বিশ্বে রেডিও সিগনাল ডিসিপ্লিন সেন্টার তৈরি করেছে। ঠিক যেমন আমরা কোন কারণে শহরের দূরবর্তী কোন স্থানে গেলে আমাদের মোবাইল গুলোতে নেটওয়ার্ক কভারেজ পেতে পরিশ্রম করতে হয়। তেমন ভাবে নাসা পৃথিবীর নানা জায়গায় স্যাটেলাইট ডিস লাগিয়েছে ভয়েজার থেকে আসা তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। ভয়েজার মিশনের প্রধান উদ্যেশ্য ছিল বৃহঃ এবং শনি গ্রহ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা। কিন্তু অসংখ্য অবাক করা এবং আশ্চর্যজনক তথ্য আবিষ্কারের পর এই মিশনের আরো নতুন কিছু কাজ স্থির করা হয়। ভয়েরাজ ২ কে পাঠানো হয়েছিল ইউরেনা ও নেপচুনের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। এখনো ভয়েজার ২ একমাত্র মহাকাশ যান যেটি এই দুটো গ্রহতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ভয়েজার ২ এপ্টেরওয়েট বিল্টের মধ্যে প্রবেশ করে। ১৬ দিন পর আরো বেশি গতি বেগে ভয়েজার ১ ভয়েজার ২ কে অতিক্রম করে যায়। ২০০২ সালে ভয়েজার ১ সৌর জগৎ ছেড়ে আরো দূরে চলে যায়। ভয়েজার ২ এখনো পর্যন্ত মানুষের তৈরি মহাকাশ যান তুলনায় সবথেকে বেশি গ্রহকে অনুসন্ধান করার জন্য রেকর্ড গড়েছে।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

গুজব একটি মর্মান্তিক ব্যাধি।

“হাওয়াই এর কচ্ছপ সংরক্ষণ”