in

গুজব একটি মর্মান্তিক ব্যাধি।

সম্প্রতি ছেলেধরা গুজবে কয়েকটি হতাহতের ঘটনা আমাদের সকলের তকমা লাগিয়ে দিয়েছে , যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো একজন মানুষ হয়ে মেনে নিতে পারাটা কষ্টসুলভ হয়ে যায়। আমাদের সমস্যা টা কোথায় সেটা আমাদের উতঘাটন করাটা রীতিমত জরুরি হয়ে পরেছে । একবিংশ শতাব্দী তে এসে আমরা মানসীক ভারসাম্যহীণ হয়ে গেলে এটা খূবই দুক্ষ জনক , এখন ২০১৯ , এই সময়ে এসে আমরা আজো গূজবে বিশ্বাসী হয়ে আছি , যেখানে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে তাদের চিন্তা চেতনার দিক দিয়ে , আর আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি গুজবের মত ভয়াণক ভাইরাসে কান দিয়ে , মাটীতে পিষিয়ে গুজব শুনে খুন করছি মানুষ ।
সদ্য একটি খবর শুনেছি যে আমাদের পাশের দেশ ভারত নাকি আর আটচল্লীশ দিন পর চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছে, আর আমাদের পা যাচ্ছে একজন শিক্ষিত নির্দোশ মহিলার এবং একজন মা এর উপর গুজবে কান দিয়ে গনপিটুনি দিতে , যা খুবিই নির্মম এবং বেদনাদায়ক । একটি শিশু সন্তান একটি মা হারালো অকারনেই ।
আপনি কি ভাবতে পারছেন শিশুটি যখন আরেকটু বড় হবে বুঝতে শিখবে তখন যখন সে শুনবে যে তার মা তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে গিয়ে ছেলেধরা নামক গুজবে গনপিটূণীতে মারা গিয়েছিলো তার ভেতরটা কতটূকূ দাউদাউ করে জ্বলে ঊঠবে , এই জাতীর প্রতি তার ঘৃনা গুলো কতটুকু প্রকোট হবে সেটা হয়তোবা সেই জানবে । এই জাতীর জন্য তার ভেতরের ঘৃনাগুলো যে দিনে দিনে বেড়ে ঊঠবে তা বলার অবকাশ রাখেনা । টূবার কাছে আমরা ব্যার্থ জাতি হিসেবে পরিচিতি পাবো যেটা একান্তই সত্যি ।
আমরা আর কতদিন গুজবে কান দিয়ে যাবো , ছোট্ট বেলায় আমাদের দাদা-দাদী নানা -নানীরা আমাদেরকে আনন্দ দেওয়ার জন্য নানা রকম রুপকথার গল্প শুনাতো যেগূলো হয়তো শুধু আমাদের কে বিনোদিত করার জন্যেই করা হতো কিন্তু আমরা ঠীকই বিশ্বাস করে নিতাম ,তাদের রুপকথার গল্প গুলো ছীলো আমাদের কে খাবার খাওয়ানোর জন্য উৎসাহিত করা । আমি মনে করি এই প্রচলন গুলো ঠিক ছিলোনা , কারন ছোট বেলায় একটা বাচ্চাকে মিথ্যা গল্প শুনিয়ে ইনিয়ে মিনিয়ে হয়তো খাওয়ানো যেতো , কীন্তু তার মস্তিকে যে সেই মিথ্যার প্রবনতা দিনকে দিন বেড়ে যেতে থাকে সেটা তারা ভেবে দেখেনা ।
সমসাময়ীক কীছূ আনন্দের জন্য গুজব শুনে হয়তো শিশু টা খেয়েই নিলো , তবে ভবিষ্যতে তার প্রতিফলন টা যে কতটা ভয়াবহ হয় তা সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা আমাদের কড়া নারিয়ে দিয়ে যাচ্ছে ।
সুতরাং গুজব শুনে আমাদের সেটা প্রথমে পর্যালোচনা করে সেটা কতটূকূ ভীত্তিহীণ সেগুলো ভেবে পদক্ষেপ নেওয়া ঊচিৎ।
প্রথমেই ভারতের চন্দ্রযান নিয়ে বলেছিলাম , আপনারা কি জানেন যে ভারতের দুইজন মহিলা পাইলট এই চন্দ্র যানের অভিযান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে । চন্দ্র অভিযানের গোটা টীমেও ছীল ভারতীয় ৩০ জন নারী ।
এদিকে আমাদের পাশের দেশ যখন চাঁদের দিকে পা বাড়ায় বাংলাদেশ তখন সেতুর পিলার মজবুত করতে বাচ্চাদের মাথা লাগবে গুজব বিশ্বাস করে , যার প্রতিফলন ঘটে বেড়াচ্ছে নিরীহ মানুষ কে ছেলেধরা নামক গুজবে কান দিয়ে গনপীটূনি দিয়ে মেরে ফেলা ।
আহা আমরা কোথায় আছি আর বিশ্ব কোথায় !
সবশেষ কথা গুজব হোক আর যাই হোক কেও কোনো অধিকার রাখেনা নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার , আইন শৃংখলা বাহিনী আছে তাদের সহায়তা নেওয়াটা একটি আইনি পদক্ষেপ ।
বাংলার মানুষের চিন্তা চেতনা বিস্তার পাক এটাই আশা , শ্রেষ্টত্ব প্রমান হয় জাতিগত কর্মগুনে , মানসিকতায় , মানবিকতায় । ভালো থাকুক বাংলাদেশ ।

What do you think?

Written by Raihan Yasir

Comments

Leave a Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

আইটিএইচএলএফ কনফারেন্সে দুই বাংলাদেশী শিক্ষক অংশগ্রহণ !!!

কেমন ছিল ভয়েজার যান?