in

NASA vs ISRO

মহাকাশ এখনো আমাদের কাছে এক অদ্ভুদ এবং এক আশ্চর্যজনক রহস্য। এ জন্য মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের রয়েছে অপার কৌতুহল। বর্তমানে বহু সিনেমায় বা ওয়েব সিরিজে মহাকাশের এই গভিরতা বা এই বিপুলতা নিয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা চলছে, যা আপনারা হইতো দেখেছেনও। কিন্তু বিজ্ঞান ভিত্তিক ম্যাগাজিনে লিখা অথবা তথ্য ভিত্তিক সিনেমা তৈরি করা এ সকল ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সরবরাহের জন্য আমাদের নির্ভর করতে হয় স্পেস এজেন্সির উপর। বর্তমান পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি স্পেস এজেন্সি আছে। এই সংস্থা গুলো মহাকাশ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আমাদের কাছে সরবরাহ করে। তার মধ্যে অন্যতম দুইটি সংস্থা হলো নাসা এবং ইসরো। কিন্তু তারা কিভাবে সেই তথ্য সংগ্রহ করে এবং আমাদের সেই জ্ঞাপন করে তা অনেকেরই অজানা। তাই আমারা আজকে আপনাদের জানাতে চাই নাসা এবং ইসরো সম্পর্কিত নানা তুলনা মূলক পার্থক্য।
দুই স্পেস এজেন্সি কি কি কাজ করে? এবং কি তাদের পার্থক্য?
NASA এর সম্পূর্ণ নাম National Aeronautics And Space Administration. নাসা হলো একটি আমেরিকান স্পেস এজেন্সি। অন্যদিকে ISRO এর সম্পূর্ণ নাম Indian Space Research Organization. ISRO ভারত বর্ষের স্পেস এজেন্সি। নাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৮ সালে ২৯ এ জু্লাই। অন্য দিকে ইসরো প্রতিষ্ঠিত হয় নাসার প্রায় ১১ বছর পরে ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট। নাসা প্রতিষ্ঠার পিছনে যে মানুষটার সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তিনি হলেন ডিডি আইজেন হাওয়ার এবং ইসরোর জনক হলেন বিক্রম শারাভাই। নাসার হেড কোয়াটার আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি তে অবস্থিত। অন্যদিকে ইসরোর হেড কোয়াটার ভারত বর্ষের বেঙ্গালোরেতে অবস্থিত। নাসার বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন চার্লস বোল্ডেন। তিনি বর্তমানে নাসার যাবতীয় দায়ীত্বভার পালন করেন। ইসরোর বর্তমান চেয়ারম্যান হলে ডক্টর কে. সিভান। ইসরোর সমস্ত রকম দায়ভার তিনি পরিচালনা করেন। জানলে অবাক হবেন যে, নাসায় কাজ করে অন্তত ১৭ হাজার মানুষ। যদিও তারা সবাই আমেরিকান নন। কারণ নাসা দেশ বিদেশের সমস্ত যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষদেরই তাদের সংস্থাতে কাজ করার সুযোগ দেই। এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ ভারতীয়।
অন্যদিকে ইসরোতে ১৬ হাজার ৭২ জন মানুষ কাজ করেন। এবং এর মধ্যে সবাই ভারতীয়। এক দিকে নাসার মূল কাজ হলো মহা বিশ্বে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত গ্রহদের সম্পর্কে তথ্য অনসন্ধান করা। অন্যদিকে ইসরোর সমস্ত প্রজেক্ট ভারত এবং তার আসে পাশে থাকা দেশ গুলোর সার্বিক উন্নতিতে নিয়োজিত রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দেশের আবহাওয়া জলবায়ু সমীক্ষা করা এর উদাহরণ। কিন্তু যেকোন প্রজেক্ট পিছু বাজেট সম্পর্কিত তুলনায় মূলক নাসা ইসরো থেকে অনেক গুণ এগিয়ে। যেখানে নাসার বাজেট ২০.৭ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ইসরোর বাজেট মাত্র ১.৬ বিলিয়ন ডলার। দুইটির মাধ্যে বাজেটের অনেক পার্থক্য।
নাসা অনেক ব্যয় করে। বিভিন্ন প্রজেক্ট সফল করার উদ্যেগ নেই এবং তারা সফলও হয়। এ কারণে নাসা পৃথিবীতে বিক্ষাত হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইসরোর প্রধান লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব খরচ কম করে সফল প্রজেক্ট উপহার দেওয়া এবং সেক্ষেত্রে ইসরোও সফল। এ কথা আপনারা নিশ্চয় জানেন যে, নাসার প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বাহিরের দেশে থেকে কিনে আনা হয় এবং বিভিন্ন দেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সাথে সংযোগের স্থাপন করে প্রজেক্টটি সম্পন্ন করে এবং ইসরো তার প্রজেক্টের জন্য বাহিরের কারো সাথে যোগাযোগ করেনা বললেই চলে।
নাসার সবথেকে সফল মিশন গুলো হলো পাইয়োনিয়ার, ভয়েজার, কেসিনি হাইগেইনস, হাবেল, এ্যাপেলো, ভাইকিং সহ আরো কয়েকটি রয়েছে। অন্যদিকে ইসরোর সফল মিশন গুলো হলো চন্দ্রযান-১, মঙ্গলযান-১, কার্টোসেট এবং পিএসএলবি সি-৩৭।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

“হাওয়াই এর কচ্ছপ সংরক্ষণ”

অলৌকিক ক্ষমতা !!!