in

প্রথম মহাকাশচারী লায়কার দূঃখের গল্প

আমরা যারা শৈশবে ঠিক ঠাক বই পড়েছি বা স্পেস নিয়ে একটু বেশি কৌতুহলী ছিলাম, তারা নিশ্চয় জানেন পৃথিবী থেকে প্রথম যে প্রাণিটি গিয়েছিল তার নাম লায়কা এবং সে ছিল একটি কুকুর। লায়কা নামক এই কুকুরটির নাম শুনে আমাদের আনন্দ হয়। আমরা হইতো মনে করি লায়কা সত্যি একটি লাকি কুকুর ছিল। কিন্তু সত্যি কি লায়কা একটি ভাগ্যবান কুকুর ছিল? আসলে তাকে আমরা যে ছবিতে দেখি, ম্যাগাজিন বা নিউজ পেপার বা আমাদের স্কুলে পড়ানোর সময় যেভাবে বর্ণনা করা হয় ঘটনাটি কি সত্যি তেমনি ছিল? যদি তেমনি না হয় তবে সত্যিটা কি? আজ আমরা সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
১৯৫০ সালের আগে মানুষকে স্পেস মিশনের জন্য পৃথিবী থেকে বাহিরে পাঠনো বৈজ্ঞানীকদের কাছে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। স্পেস মিশনে মানুষ ট্রাবেল করতে পারবে কিনা এটি জানার জন্য আলাদা আলাদা প্রাণিকে স্পেস মিশনে পাঠানো হয়। ১৯৫৭ সালে মস্কোতে অর্থাৎ রাশিয়ার রাজধানীতে লায়কা একটি সাধারণ কুকুরের মত ঘুরে বেরাচ্ছিল। আর এ সময় কুকুরটি বয়স ছিল তিন বছর। এই তিন বছরে সে হইতো এক দিনের জন্যও ভাবতে পারেনি যে, সে পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কুকুর হবে যে, সে স্পেস মিশনে যাবে।
আর ঠিক এ সময় সোভিয়াতে স্পেস প্রোগ্রাম, পৃথিবীর মধ্যে প্রথম স্পেস স্যাটেলাইট সফলতার সাথে লন্স করে। পৃথিবীর মধ্যে এত বড় কৃর্তী করবার পর সোভিয়াত রাশিয়া বিজ্ঞানীদের মাথায় যেইটা করবার ইচ্ছে প্রকাশ হয় সেইটা হলো, কোন জিবিত প্রাণিকে প্রথম স্পেসে পাঠানো। আর এই ইচ্ছে তাদের মধ্যে আসার পর তারা অতি ব্যাস্ত হয়ে পরে তাদের স্যাটেলাইটের মিশনকে পূরণ করবার জন্য। আর যে ব্যস্ততার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল লায়লা নামক এই কুকুরটিকে। সোভিয়েতের বিজ্ঞানীরা মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় স্পেস ক্রাপটি বানিয়ে ফেলেছিল। যাকে নির্দিষ্ট একটি কুকুরের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। আর এই স্পেস ক্রাপটের মধ্যে বিশেষত তিনটা জিনিস ছিল। একটি হলো অক্সিজেনের জেনারেটর, সি ও টু অবজার্ভার, আর কুকুরটিকে ঠান্ডা রাখার জন্য একটি ফ্যান। আর কুকুরটি সাত দিন বেঁচে থাকার জন্য ছিল কিছু খাবার।
লায়কাকে প্রায় ২০ দিনের মত ট্রেনিং দেওয়া হয় স্পেস মিশনের জন্য। যার ফলে লায়কা তৈরি হয়ে গিয়েছিল স্পেসে যাওয়ার জন্য। সোভিয়াত বিজ্ঞানীরা তখন জানতো কীভাবে স্পেসে যেতে হয়। কারণ তারা ইতিমধ্যে স্যাটেলাইট মিশনে সফলতা পেয়েছিল। কিন্তু তারা যেটা জানতো না, সেইটা হলো কীভাবে স্পেস থেকে ফিরে আসা যায়। তাই যদি একটু ভাল ভাবে দেখেন, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন এটি একটি সুইসাইড মিশন ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা হল লায়াকা নামক কুকুরটি জানতোই না কিছুক্ষন বা কিছুদিনের মধ্যে তার মৃত্যু হয়ে যাবে। কিন্তু সোভিয়াতের একজন বিজ্ঞানী একটিু হলেও মানবিকতা দেখায়। লায়কার মিশন শুরু হওয়ার আগে সোভিয়াতের সেই বিজ্ঞানী লায়কাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে যায়। নিজের বাচ্চাদের সাথে খেলতে দেয় এবং কিছু ভাল সময় লায়কাকে উপহার দেয়। ঠিক তারপরেই সময় চলে এসেছিল লায়কার পৃথিবী থেকে চির বিদায়ের। অর্থাৎ সময় চলে এসেছিল প্রথম কোন প্রাণির মহাকাশে যাবার। সর্বশেষে লায়কাকে বেঁধে স্যাটেলাইটে বসানো হয়। যাতে সে নিজের জায়গা থেকে বেশি মুভমেন্ট না করতে পারে। আর এরূপ পরিস্থিতিতে লায়কাকে তিন দিন পৃথিবীতে রেখে দেওয়া হয়। যাতে তার এই পরিস্থিতিতে অভ্যাস হয়ে যায়। থার্ড নবেম্বর ১৯৯৭ লায়কার জীবনের শেষ দিন। লায়লার এ মিশন পরবর্তীতে অনেক বড় বড় মিশনে ভূমিকা রেখেছে। লায়কার জীবন দেওয়ার কথা কখনো অস্বীকার করা যাবে না। লায়কা কি সত্যি ভাগ্যবান ছিল? যেমনটা আমরা স্কুলে, বইতে, ম্যাগাজিনে পড়েছি?

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

স্বাদের খাবার পার্ট ২

মৃত্যু!