in

এক কিলোমিটার যেতে প্লেনের কতটুকু তেল খরচ হয়?

দূরত্বটা বেশি হলে আমাদের গাড়ির সাহায্য নিতে হয়। বেশির ভাগ মানুষেই অফিস, স্কুল, কলেজ অথবা ভার্সিটির কাজ শেষ করে বাস, টেক্সি, অথবা ট্রেনের মত বিভিন্ন যানবাহনের সাহায্য নিয়ে থাকি। ঢাকার মত শহরে ছোট রোডেও অটো রিকশা অথবা মিনি বাসের সাহায্য নিয়ে থাকে অনেকে। তাছাড়া নিজের একটা দুই চাকা অথবা ৪ চাকার গাড়ির শখ কম বেশি সবার থাকে। আর পকেটে টাকা থাকলে সে শখ থেকে বিরত রাখার অধিকার কারো নেই। গাড়ি কেনার সময় প্রতিটা মানুষ গতির তুলনায় প্রাধান্য দেয় এর মাইলেজকে। কারণ আমাদের ব্যাস্ত রাস্তায় কোনভাবে গতির ঝড় তোলা সম্ভব নয়। আর তেলের দামটাও নজরে রাখতে হয়। তাই যে গাড়ি কম তেল খরচে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারে সে গাড়িকে বেচে নেন সাধারণ মানুষ। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অনেক মানুষ বিদেশে পাড়ি দিলেও এর সংখ্যাটা কিন্তু কম। এমন অনেক মানুষ আছে যারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও বিদেশে যাওয়া হয়নি। এয়ার লাইন থাকলেও ট্রেনের যাতায়াতটা বেছে নেন। কারণ প্লেনের খরচটা বেশি। বাহিরে যেতে গেলে বিমানে চড়তেই হবে। বড় ছোট যায় হওক না কেন, একটা বিমানের আয়তন কিন্তু কোন অংশে কম না। আর একটি বিমানের আয়তন যত বড় হয়, তার মালপত্র ধারন ক্ষমতাও তত বাড়ে। আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ায় জ্বালানি খরচ। কারণ যত ওজন, তত বেশি জ্বালানির প্রয়োজন।
যেমন ধরুন BOEING 747 বিমানটি প্রতি সেকেন্ডে ৪ লিটার তেল হজম করে থাকে। তাহলে ভাবুন এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে যেতে বিমানটির কতটা জ্বালানি খরচ হতে পারে। এক্ষেত্রে বিমানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লিটার। BOEING সংস্থার এর ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের 747 এই বিমানটি প্রতি কিলোমিটারে ১২ লিটার জ্বালানী খরচ করে থাকে। কেউ কেউ হইতো পাগলই হয়ে যাচ্ছেন পড়ে। পড়তে থাকুন। একটি BOEING 747 ৫৬৮ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম হয়। গড়ে হিসাব করলে যাত্রী সংখ্যা যদি ৫০০ জন ধরা হয়, তাহলে কিলোমিটার প্রতি ঐ সকল যাত্রির জন্য ১২লিটার জ্বালানি খরচ হয়। যার জনপ্রতি হিসাব দাঁড়াচ্ছে ০.০২৪ লিটার। এবার ১০ ঘন্টার লম্বা যাত্রা হিসাব করলে দেখা যায় মাথাপিছু জ্বালানি হিসাব দাঁড়াচ্ছে ৪২ কিলোমিটারে মাত্র এক লিটার। যেখানে নরমালি একটা প্রাইভেট কার ১৫ কিলোমিটার মাইলেজ দিয়ে থাকে প্রতি এক লিটারে। এবার কি ভাবছেন বিমান রাখলে ভাল হয় গাড়ির বদলে? কিন্তু বিমান রাখার খরচটাও যে হাতি পোষার সমান।
এবার একটা ছোট হিসাব করা যাক। ধরুন BOEING 747 বিমানটি আমেরিকা নিউইয়র্ক থেকে ইংল্যান্ডের লন্ডন যাচ্ছে। মাঝের হিসাব কিন্তু ৩০০০ মাইল অথবা ৪৮২৮ কিলোমিটার। বিমানটিতে যদি ৫০০ যাত্রি থাকে তাহালে সম্মেলিত যাত্রাপথ দাঁড়াচ্ছে ১৫ লক্ষ মাইল বা ২৪ লক্ষ ১৪ হাজার ১৬ কিলোমিটার। এবার যদি টিকিটের দাম ১ হাজার ডলার হয়ে থাকে সেখান থেকে যদি ১০% তেলের খরচ দেওয়া হয় তবে সব মিলিয়ে যাত্রীদের খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫০ হাজার ডলার বা ৪৩ লক্ষ টাকা। এক গ্যালন তেলের দাম হচ্ছে ৩ ডলার বা ২৫৩ টাকা। ফলে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বিমানটি প্রায় ১৬ হাজার ৬৬৭ গ্যালন তেল কিনতে পারবে। আর এই ১৬ হাজার গ্যালন জ্বালানিকে ১৫ লক্ষ মাইল দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায় এক গ্যালন তেল দিয়ে BOEING 747 প্রতি মাইলে বা প্রতি দেড় কিলোমিটারে ৯০ জন যাত্রি বহন করে থাকে। আর এই ভাবে বিমানের জ্বালানির খরচটা হিসাব করা হয়। যাত্রীর সংখ্যা যত কম হবে লোকসানের পরিমানও তত বেশি হবে। কেউ হইতো ভাবছেন টিকিটের মাত্র ১০% টাকাতো জ্বালানির ক্ষেত্রে খরচ হয়। বাকি ৯০ %? তাহলে বলেই রাখছি এই ৯০% টাকা থেকে বিমানের কর্তৃপক্ষকে এয়ারপোর্টে বিমান রাখার ভাড়া, যেখানে নামবে সেখানকার ভাড়া, যে দেশে যাচ্ছে সে দেশের সরকারকে কর দেওয়া, বিমানের পাইলট থেকে শুরু করে কেবিন ক্রুর বেতন, বিমানের ভেতর খাওয়া দাওয়া সহ যাবতীয় খরচ রয়েছে। যা সাধারণ মানুষ জানেন না। এত কিছুর খরচ মেটাতে মেটাতে টিকিটের মূল্য নেওয়া টাকাটা যেন প্রায় শেষ হয়ে যায়। আর বাদ বাকি যা থাকে তা বিমান সংস্থার লাভ থাকে বলতে পারেন।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

পাবজি গেমের আবিষ্কার কীভাবে? এর পার্শ্বপতিক্রিয়া কি?

মহাকাশে এরোপ্লেন চলাচল করতে পারেনা কেন?