in

মহাকাশে এরোপ্লেন চলাচল করতে পারেনা কেন?

এরোপ্লেন বা উড়োজাহাজ আমাদের সকলের কাছে একটা আকর্ষনীয় জিনিস। বাস্তবে এরোপ্লেনে চড়ে না থাকলেও অধিকাংশ মানুষ জীবনে অন্তত একবার হলেও এই অদ্ভুদ যানের যাত্রী হওয়ার তীব্র আকাঙ্খাকে লালন করেন। মাথার উপর দিয়ে আকাশ ছুঁয়ে যাওয়া এরোপ্লেনের দিকে তাকিয়ে দেখতে আমরাও ভুলিনা। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এরোপ্লেন আকাশ পথে যাত্রী নেয়ে চলচল করলেও কেন মহাকাশে যেতে পারে না? বা আরো সহজ ভাষায় বললে বলা যায় কেন এরোপ্লেন রকেটের মত মহাকাশে যেতে পারে না? এসব প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুরপাক খেলেও অধিকাংশ মানষই এর সঠিক উত্তর জানেন না। তাই আমরা আজ এ বিষয়ে নানা খুটি নাটি তথ্য নিয়ে তৈরি করেছি আজকের এই প্রতিবেদন।
প্রথমে আসি এয়ার ক্রাপ্ট এর কথায়। এয়ার ক্রাপ্ট বিভিন্ন প্রকারের হয়। এরোপ্লেন, জেট প্লেন, হেলিকপ্টার প্রবৃতি। এখন এরোপ্লেন মহাকাশে কেন যেতে পারে না তা জানার আগে আসুন জেনে নিই এরোপ্লেন আকাশে উড়ে কিভাবে? আকাশ পথে উড়ে বেড়ানোর জন্য সাধারণত এরোপ্লেনে দুটো মূখ্য অংশ আছে। প্রথমটি হলো এরোপ্লেনের লম্বা চওড়া উইং অর্থাৎ ডানা , যার সাহায্যে পাখির মত বাতাসে ভর দিয়ে প্লেনটি উড়ে। দ্বিতীয় অংশটি হলো এরোপ্লেনের বিশাল ও ভারি ইঞ্জিন, যা প্লেনটির গতিবেগ নিয়ন্ত্রন করে। তাহলে একটি প্লেনকে আকাশে উড়ার জন্য মূলত দুটি জিনিসের প্রয়োজন। এক হলো বাতাস , যার উপর ভর দিয়ে উইং এর সাহায্যে প্লেনটি মাটি থেকে উপরে উঠে এবং বাতাসে ভর দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়টি হলো অক্সিজেন, যার সাহায্যে প্লেনটির ইঞ্জিন চালিত হয়। বাতাস এবং বাতাসে মধ্যে থাকা অক্সিজেন এই দুইটি আমাদের এটমোসপেয়ারে মজুদ আছে এবং বেশির ভাগ এরোপ্লেন যেগুলো যাত্রী বহনের কাজ করে তাদের মধ্যে ইঞ্জিন লাগানো থাকে। কিন্তু প্রতিটা এরোপ্লেন গঠনদিক থেকে আলাদা হয়ে থাকে যেমন সাধারণ প্লেনগুলো ৪৫ হাজার ফুট। অর্থাৎ প্রায় ১৩ কিলোমিটার উঁচুতে চড়তে পারে আবার কর্পোরেট জেট গুলো ৫১ হাজার ফুট পর্যন্ত উঁচুতে উঠে। কিন্তু সত্যি কি আমরা এর থেকেও উঁচুতে উঠতে পারবো না? আসলে সমতলে বাতাসের ঘনত্ব সবথেকে বেশি থাকে। সমতল ছেড়ে যত উপরে উঠা যায়, বাতাসের ঘনত্ব মাধ্যাকর্ষনের প্রভাবে ততই কমতে থাকে। বাতাসের ঘনত্ব কম হওয়ার অর্থ বাতাসে থাকা অনুর সংখ্যা কমে যাওয়া। অর্থাৎ অক্সিজেনের সংখ্যাও কমে যাওয়া। বাতাসে অনু কমে যাওয়ার অর্থ হলো, এরোপ্লেনকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখার সম্ভবনা কমে যাওয়া। এবং অক্সিজেনের অভাব মানে প্লেনের ইঞ্জিন জ্বালানিকে যথেষ্ট পরিমাণে গ্রহন করতে না পারা। এবং সে প্রচন্ড গতিব্যাগ সৃষ্টি করতে না পারা, যার ফলে আকাশে প্লেনটি উড়ে বেড়াতে পারবে।
এবার আলোচনা করব কারমান লাইন নিয়ে। কারমান লাইন কি তা সম্পর্কে অনেকের ধারণা নেই। তাই জানিয়ে রাখি কারমান লাইন হলো সে অদৃশ্য লাইন যা আমাদের পৃথিবীর এটমোসপেয়ার থেকে মহশূ্ণ্যকে পৃথক করে রেখেছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উপরে এই লাইনটি প্রাচিরের মত অবস্থান করছে। অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে উঠলে আমরা মহশূণ্যে প্রবেশ করব।
এসমস্ত বিমান আকাশে উঠার জন্য এটমোসপেয়ারের উপর নির্ভরশীল হয়। উড়ার জন্য এদের পর্যাপ্ত বাতাস ও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা যতই উপরের দিকে উঠতে থাকি এটমোসপেয়ারের ঘনত্ব ততই বাড়তে থাকে। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠতে পারে রকেট কীভাবে এই এটমোসপেয়ার ছাড়িয়ে মহাশূণ্যে যায়? আসলে রকেটের মধ্যে ইঞ্জিনের সাথে থাকে একটি বিশাল অক্সিজেনের ট্যাংক। ফলে ইঞ্চিন চালানোর জন্য রকেটকে এটমোসপেয়ারের উপর নির্ভর করা লাগে না। তাই রকেট মহাশূণ্যে চলাচল করতে পারে। কিন্তু এ জন্য রকেটের ওজন অনেক ভারি হয়ে যায়। যেকোন বস্তুকে মহাশূণ্যে যেতে হলে পৃথিবীর মুক্তিবেগকে অতিক্রম করতে হয়।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

এক কিলোমিটার যেতে প্লেনের কতটুকু তেল খরচ হয়?

রেড সামার ১৯১৯