in

পৃথিবীর ভয়ংকর কিছু বিমান বন্দর

বর্তমানে এই ব্যস্ততার জীবনে একটু থেকে অনেক দূরবর্তী স্থানগুলোতে যাত্রার একটি প্রধান মাধ্যম হয়েছে হাওয়ায় যাত্রা। যা আপনাকে একটু অতিরীক্ত ভাড়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য স্থানে পোঁছাতে সাহায্য করবে। কিন্তু সমস্যা হলো এ যাত্রায় ঝুঁকিটাও থাকে অনেক বেশি। যেভাবে হওক প্লেনটিকে তো আকাশেই উড়তেই হবে। আর যার অবস্থা নির্ধারিত থাকে না। কিন্তু দূর্ঘটনা যদি হয় এয়ার পোর্টের আকার আকৃতি বা ভৌগোলিক পরিবেশের জন্য? হ্যাঁ এমন কিছু এয়ার পোর্ট আছে যা অতিরিক্ত ভয়ংকর। সাধারণ মানুষ এই এয়ারপোর্ট গুলোকে একটু এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। আপনার আমারও করা উচিৎ। প্রথমত এই এয়ারপোর্ট গুলো সম্পর্কে ভাল ভাবে জেনে রাখাতে হবে।

লুকলা এয়ারপোর্ট, নেপালঃ নেপালের এই এয়ারপোর্ট বিশেষ করে মাউন্ট এভারেস্ট যাত্রাকারিদের জন্য বানানো হয়েছে। যার জন্য এই এয়ারপোর্টটি ভয়ংকর হয়েছে তা হলো, এখানকার ছোট রান ওয়ে। ছোট রান ওয়ে হওয়ার জন্য প্লেনটিকে টেকঅফ করার জন্য কম সময়ের মধ্যে স্পিড কমিয়ে নিতে হয়। আর এমন করার সময় কোন রকম ভুলের প্রশ্নয় উঠেনা। কারণ রান ওয়ে শেষ হওয়ার পরে সামনে ৬’শ মিটার একটি গভির গর্ত আছে। ছোট রান ওয়ে এবং গভির গর্ত , এই দুটি কন্ডিশন এই এয়ারপোর্টকে এতটা ভয়ংকর করে তুলেছে। এ জন্য এখানে প্লেন ল্যান্ড এবং টেকঅফ করার জন্য পাইলটদের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়। নতুন পাইলটদের এখানে প্লেন চালানোর অনুমতি এখানে মোটেও নেই। টেকঅফ বা ল্যান্ড করার সময় সঠিক টাইমিং বা সঠিক ব্রেকিং এবং সচেতনতা বিশেষ প্রয়োজন। মেঘলা আকাশ আর কুয়াশার জন্য এই রান ওয়ে দিনের বেলাও অনেক সময় ঠিক ঠাক দেখা যায় না। এই কারণ গুলোর কারণে এই এয়ারপোর্টটি পৃথিবীর কয়েকটি ভয়ংকর এয়ারপোর্টের মধ্যে একটি।

আগাতি আইল্যান্ড এয়ারপোর্ট, ইন্ডিয়াঃ লাকশা দ্বীপের এই এয়ারপোর্টটি সমুদ্রের ঠিক মাঝ বরাবর অবস্থিত। মাত্র ৩০ মিটার চওড়া এবং ১০০৪ মিটার লম্বা। আর চারদিকে সমুদ্রের জলে ঘেরা রান ওয়েটিতে প্লেন ল্যান্ড করা বিপদজনক একটি কাজ। ছোট এই রান ওয়েতে ঠিক সময় ব্রেক দিয়ে কন্ট্রোল করতে না পারলে, প্লেনটি সোজা জলের মধ্যে গিয়ে গ্রাস করতে পারে। এই লম্বা আইল্যান্ডটিতে ১৯৮৮ সালে সাময়িকভাবে ছোট বিমান গুলোকে নামানোর জন্য এই বিমান বন্দরটি তৈরি করা হয়েছিল। যার জন্য এটিতে বেশি সুবিধা ছিল না।
চোরছিভেল এয়ারপোর্ট, ফ্রান্সঃ এই এয়ারপোর্টের রান ওয়ে পৃথিবীর সবথেকে ছোট রান ওয়ের মধ্যে একটি। এর দৈর্ঘ্য মাত্র ৫৩৭ মিটার। সাধারণত রান ওয়ে সোজা হয়, তার কারণে প্লেনকে সামলানোটাও বেশি সহজ হয়। কিন্তু ছোট হওয়ার সাথে সাথে এই রান ওয়েটি ঢালু অনেকটা। আর চারদিকে রয়েছে বরফের পাহাড়। তার ফলে এই রানওয়েতে সবসময় পিছল থাকে। সাধারণ কোন পাইলটের দ্বারা এই রানওয়েতে প্লেন টেকঅপ করা অনেকটা অসম্ভব হবে বলতে হবে। কারণ এখানে প্লেন উড়ানোর জন্য পাইলটকে স্পেশাল ট্রেনিং নিতে হয়। ছোট রান ওয়ে থেকে প্লেন উড়ানো এবং বরফ দ্বারা ঘেরা পিছল রান ওয়েতে প্লেনকে ল্যান্ড করাতে গিয়ে প্রত্যেকবার পাইলটকে অনেক সংঘর্ষ করতে হয়। যার ফলে যতক্ষন না প্লেন থেকে মানুষ বের হয়, ততক্ষন প্লেনের ভিতরে থাকা মানুষগুলোর নিঃশ্বাস ভিতরেই আটকে থাকে।
টনকন্টিনিয়ান এয়ারপোর্টঃ টনকন্টিনিয়ান এয়ারপোর্ট পৃথিবীর সবথেকে ছোট কমারর্শিয়াল এয়ারপোর্ট। এয়ারপোর্টটি মাত্র ৬১১২ মিটার কমার্শিয়াল রানওয়ে। এই এয়ারপোর্টটিতে সাধারণত বড় প্লেনগুলোকে ল্যান্ড করানো হয়। আর বড় প্লেনের তুলনায় এই রানওয়ে বিষন ছোট। সাধারণত বড় প্লেনের রান ওয়ে ১০ হাজার মিটারের থেকেও বড় হয়ে থাকে। কিন্তু এই এয়ারপোর্টের চারদিকে থাকা বড় বড় পাহাড় ছোট এই রানওয়েতে প্লেন ল্যান্ড করানোকে আরো বেশি কঠিন করে তুলেছে। এই পাহাড়ের কারণে বিমানকে নামানোর জন্য সোজা রাস্তা পাওয়া যায় না। প্লেনকে আকাশে উড়তে উড়তে টার্ন নিতে হয়। এমন করবার সময় অনেক বার প্লেন রানওয়ের কাছাকাছি আসার পরেও প্লেন সোজা হতে পারে না। তখন প্লেনটিকে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে হয়। বড় প্লেনকে ছোট রানওয়েতে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করানোটা বিষন ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া এ রানওয়ের শেষে রয়েছে একটি বড় পাহাড়।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ইসলামের সুন্নি-শিয়া বিভাজন (EXPLAINED)

ভিয়েতনাম ওয়ার