নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (NSU) এবং জঙ্গি

455
SHARE

আপডেট – গুলশানের ক্যাফেতে হামলাকারীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য গিয়াস উদ্দিন আহসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। (বিডিনিউজ২৪)

গুলশান ট্রাজেডির সন্ত্রাসীদের পর এবার শোলাকিয়ার আক্রমণের সন্ত্রাসীও NSU এর ছাত্র বের হল। পুলিশ ইতিমধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে। বাকিদের মত এই ছাত্রও বেশ অনেক দিন ধরেই নিখোঁজ। এর আগেও NSU ছাত্রদের এধরনের কাজে সম্পৃক্ততা পেয়েছিল বেশ কয়েকটি আক্রমণে। আসলে হচ্ছেটা কি? এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তেমন কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। কিন্তু কোন একটা সমস্যা তো কোথাও আছে। নর্থ-সাউথের স্টুডেন্টদের কে কি খুব সহজে সন্ত্রাসী কাজে পটানো যায়? মনে হয় না। তাহলে? কি সমস্যা থাকতে পারে? এ ব্যাপারগুলো কি বিবেচনা করা হচ্ছে?

আর এসব কারণে নর্থ-সাউথের বাকী ছাত্রছাত্রীদের কি সমস্যা হচ্ছে না? তারা কি একটা ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না? কারণ সবাই তো খারাপ না। শুধু ২/১ জন খারাপ। দেশ বিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকী হাজার হাজার ছাত্রদের কি ছোট করা হচ্ছে না এভাবে? ২/১ জন গাধার জন্য কেন তারা সাফার করবে? কিন্তু তারা করছে। অনেকেই ফেসবুক বা নানা জায়গায় পোস্ট দিচ্ছে অথবা নানা রকমের অনলাইন নিউজপেপার ফাটিয়ে ফেলছে নর্থসাউথের বদনামই কড়তে করতে (আমরা কোন পত্রিকা না, আমরা জাস্ট একটা ওয়েবসাইট বা ওয়েবটিভি – সচেতন করার জন্য )। তাদের কি আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত না? কোন প্রতিষ্ঠানের এসবে দোষ থাকতে পারে না।

তবে এটা একটা ফ্যাক্ট যে এসব ব্রেইনওয়াশড গাধা গুলো নর্থসাউথের কেন? তার মানে গোপনে কি নর্থসাউথে এমন কিছু একটা গোড়ে উঠেছে বা গোপন আইএস রিক্রটুওমেন্ট এজেন্ট যারা ছদ্মবেশে কাজ করছে নর্থসাউথের ভেতরে। এমনও তো হতে পারে টপ ম্যানেজম্যান্টের চোখ এড়িয়ে গেছে অথবা টপ ম্যানেজমেন্টের কেউ জড়িত বা পৃষ্ঠপোষক? কিন্তু তার মানে এই না যে পুরো NSU এটার জন্য দায়ী। আমাদের দেশে এধরনের ঘটনাগুলো বলতে গেলে প্রথমবারের মত হচ্ছে। সবাই অপ্রস্তুত। যেখানে সরকারও অপ্রস্তুত ছিল, সেখানে একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে প্রস্তুত থাকবে? আবার ২/১ জন কালপ্রিটের জন্য যেন বাকী হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীদের কোন সমস্যা না হয়। গতকাল কয়েকটা কথিত ফেসবুক সেলিব্রিটির পোস্ট পড়ে খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাদের মতে নর্থসাউথ নাকি এখন জঙ্গি তৈরির কারখানা। অবশ্যই এধরনের কথার কোন ভিত্তি নেই। এখন অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন চারিদিকে। কিন্তু এতে করে বিশাল এক ছাত্রগোষ্ঠীর চরম ক্ষতি করছেন আপনারা। তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

এখন দরকার সবকিছু হল্ট করে একটা তদন্ত চালানো। প্রশাসন এবং NSU ম্যানেজমেন্ট থেকেও। এটা বের কড়তে হবে কেন সন্ত্রাসীরা NSUকে বেছে নিল? নিশ্চয় কোন ধরনের সুবিধা তারা পেয়েছে। সেটা হতে পারে লোকেশন, সেটা হতে পারে এক্সেস অথবা সেটা হতে পারে অন্যকিছু। কিন্তু কিছু তো একটা আছে। এখানে সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারও অবশ্যই জড়িত থাকতে পারে। খুঁজে বের কড়তে হবে এই কারণগুলো। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল – ঠিক এই মুহুর্তে এধরনের কিছু ঘটছে কিনা – মানে কোন ধরনের প্রভাব বিস্তারকারী কোন টেরর ফোর্স ভেতরে কাজ করছে কিনা? এই মুহুর্তে ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে কিনা কোন ছাত্র সেটাও জানতে হবে। তাই, ভয় দিয়ে নয়, বরং ভালবাসা দিয়ে ছাত্রদের কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে যাতে করে তারা নিজে থেকে এসে যেন সমস্যার কথা বলে। শেয়ার করতে পারে। কঠোর না কোমল হয়ে এই সমস্যার মোকাবেলা কড়তে হবে।

আর একটা ব্যাপার অবশ্যই আমাদের করা উচিত না, বিশেষ করে স্যোশয়াল নেটওয়ার্কে, সেটা হল NSU ছাত্রছাত্রীদের আঘাত করে কোন কথা বলা। এবং সেটা এই মুহুর্তে খুব বেশী হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এটা বন্ধ করা উচিত। ২/১ জনের জন্য সবাইকে এক কাতারে রাখাটা খুব বড় ভুল হচ্ছে।

মনে রাখবেন – আইসিসকে আমরা দ্যা চিকেন স্টেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। আর এ নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে এই সপ্তাহে। যদি দেখতে চান আগে ভাগ্যে, তাহলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি এই লিঙ্কে গিয়ে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। ঠিকানা – YouTube.com/bangladeshism.

আপনার মন্তব্য

2 COMMENTS

  1. NSU should take this matter seriously. No doubt. No one is blaming the University for the whole JONGI matter, but there is some opportunity there for recruitment, that’s for sure. It could be both environmental or an individual. The govt & university authority should start investigate deeply into the subject, and the most importantly they need to find the connection. And I also think there should be a team of psychiatrist or psychologist working toward the reason of diverting a normal student become so terrible.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here