বীরের মৃত্যু নেই

3857
SHARE

ফারাজ আইয়াজ হোসেন,  তোমার এই অসময়ে পৃথিবী ছেড়ে  চলে যাওয়া, তোমার কাছের লোকদের মত বিশ্বের কোটি মানুষের প্রাণেও এই বেদনার অনুরণন প্রতিধ্বনিত হয়েছে । প্রতিধ্বনিত হয়েছে  সাত সমুদ্র তেরো নদীর  পারে আটলান্টার ইমরি ইউনিভার্সিটিতে ।আসলেই তরুণ ফারাজ আমাদের সবাইকে অবাক করে  দিয়েছে।

বন্ধুত্ব আর মরণের বর্ডারে দাঁড়িয়ে ফারাজ বন্ধুত্বকে বড় করতে যেয়ে মরণ কে আলিঙ্গন করলো   ছোট বেলায় পড়ে ছিলাম যে , তখন আরব দেশে বেদুঈন দস্যুদের খুব প্রাদুর্ভাব ছিল । তাই এক কিশোর মাতুলালয়ে বেড়াতে যাবে দস্যুর ভয়ে মা জননী কিশোরের জামার কলারের পেছনে ২০ টি মোহর সেলাই করে দিলেন যাতে দস্যুরা এর খোঁজ না পায় । যথা সময়ে , যথা দিনে কিশোর টি, মামাবাড়ির জন্য যাত্রা শুরু করলেন আর যথা রীতি পথি মধধে বেদুঈন দস্যু তাঁদের ঘিরে ধরল । তারপর যথা নিয়মে দস্যুরা সকলের কাছ থেকে মাল পত্র কেড়ে নিলো । আমাদের কিশোরটিও বাদ পড়ল না । সব কিছু লুট করার পর দস্যু সর্দার জিজ্ঞেস করলো , “ কারও  কাছে আর কিছু আছে ?” তখন আমাদের গল্পের নায়কটি বললেন , “ জী হ্যাঁ , আমার জামার কলারের ভেতর আমার মা , ২০টি মোহর সেলাই করে দিয়েছেন , সেটা আছে “ । দস্যু সর্দার এই কিশোরের সততায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাতি ছেড়ে দিয়েছিল ।   

ফারাজ আইয়াজ হোসেন আজ তোমায় কি বলব , এই কাহিনী ঘটেছিলো আনুমানিক ৭০০ সালে, তখন কিশোরের সততায় দস্যুদের প্রাণে শুভ বোধের উদয় হতো আর আজ দেখো তোমার মনুষ্যত্বের দাম দিতে হোল তোমার জান দিয়ে । তোমার দেশের , তোমার জাতির বাঙালি ভাই , তোমরা এক ভাষায় কথা বল , অথচ তোমার মানুষের প্রতি , বন্ধুদের প্রতি , নিজের জীবনের কথা না ভেবে , যে আত্মত্যাগ তুমি করলে তা ওই , তথাকথিত নোংরা তোমার বয়সী , ইসলামের ধারক বাহক জঘন্য আই এস দের বোধ জাগাতে পারেনি। কি নির্মম এক পৈশাচিকতা পেয়ে বসেছে ওই আই এস গুণ্ডাদের ।  এদের  পাষণ্ডদের মনে কোনই মায়া দয়া নেই। যেন কোন এক নেশাগ্রস্ত অসুস্থ জানোয়ার । যখন আই এস জঙ্গিরা তোমায়  চলে যেতে বলছে সেখানে তোমার বন্ধুদের ছাড়া তুমি যাবেনা … ভাবতে পারো ফারাজ আজ যে দেশে সততার লেশ মাত্র কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না , সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবিশ্বাস , ঘৃণা অনৈতিকতা যখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিরাজমান সেখানে তোমার এই সততা। আজ নিজের অজান্তেই তোমার বাবা মার প্রতি, তোমার নানাভাই এর প্রতি শ্রধধায়  মাথা নত হয়ে যায়।

এ কোন শিক্ষায় তোমায় মানুষ করেছে, এ কোন পরিবার তোমায় গড়ে তুলেছে, তোমার মতো স্বচ্ছ সুন্দর শুভ্র সুস্থ মানসিকতার সন্তান তো প্রতিটি ঘরে ঘরে প্রতিটি দেশে দেশে জন্মান উচিৎ। আজ এই তথাকথিত আই এস জঙ্গিরা সারা বিশ্বটাকে বিষিয়ে তুলছে । কবি কিশোর সুকান্ত বলেছিল , “ আজ জন্মেছে এক শিশু,  এ বিশ্বটাকে তার বাস যোগ্য করে তুলবো।

ফারাজ আইয়াজ হোসেন, আজ জনাব লতিফুর রহমানের গৃহে , তাঁর সান্নিধ্যে থেকেও যদি পৃথিবীটা তোমাদের  মতো সন্তানের বাস যোগ্য না হয়,  তাহলে এই পৃথিবীতে কারা সুন্দর করে বাঁচবে !!  আজ তোমার মাকে খুশী করার জন্য তাঁর কর্মচারীরা কতো মধুর বাক্য শোনাবে , অথচ ওই কর্মচারী সুযোগ পেলেই পয়সা চুরি , করবে । শেষে এই সমাজের একটা সত্য ঘটনা বলে বোঝাতে চাই যে তুমি কোন কাননের ফুল, তোমার তুলনায় যার কথা বলব সে তোমার বিষ্ঠা হবার যোগ্য নয় ।

একটি বেকার ছেলেকে এক লোক তাঁর অফিসে চাকরী দিলেন । ছেলেটি কদিন মনোযোগ দিয়ে চাকরী করে লোকটির মন জয় করলো । তারপর লোকটির সুন্দরী কন্যাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে টাকা  পয়সা, গহনা নিয়ে পালিয়ে যেয়ে, কয়েক বন্ধু মিলে  মেয়েটিকে রেপ করে  খুন করলো। এই হচ্ছে বর্তমান বাংলার অবস্থা ।

আজ আমাদের কিচ্ছু করার নেই … তোমার এই তিরোধান হয়ত পৃথিবীর কেও রোধ করতে পারবে না…

কিন্তু তোমার এই কুলখানিতে এই বিশ্বাস নিয়ে বলতে ইচ্ছা করে, জান দিয়ে হলেও আই এস জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে ঘাঁটি গড়তে দিব না , দিব না, দিব না… আমীন ।

লেখক – নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

আপনার মন্তব্য