জঙ্গী দমনে বিদেশী সাহায্য – সাজানো নাটক?

3402
SHARE

জঙ্গি হামলা আর জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে সারা দেশে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। আসলে কল্পনা না বলে সাধারন মানুষের উদ্বেগ বলা যেতে পারে। আর পত্রপত্রিকায় এ নিয়ে নানা রিপোর্টের ভয়াবহতায় পুরো দেশই সাইলেন্ট হয়ে গেছে। আর গুলশান ট্রাজেডীর শোক এত অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব না।

জঙ্গিদের বাংলাদেশের তৎপরতায় সবার উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারন, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সব খবর আমাদের কানে আসে। আমরা দেখি। আজকাল সব ধরনের কন্সপিরেসি আমরা বুঝি। খেয়াল করে দেখবেন, যেসব দেশে বিশেষ করে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে “জঙ্গি” তৎপরতার উল্লেখ করা হয়, সেসব দেশই কোন না কোনভাবে যুদ্ধে পতিত হয়। কিভাবে? খুবই সহজ। নীচের ঘটনাগুলো একটু মনযোগ দিয়ে পড়ুন। দেখুন ব্যাপারটা কতটা সহজ।

  • প্রথমে কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটবে।
  • এরপর ছোটখাটো দুইএকটা সঙ্গবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলা। এর ঠিক পর পর লিস্টেড সন্ত্রাসী বাহিনীর ঘোষনা “এ অকাজ আমরা করেছি” বলে ক্রেডিট নেয়া।
  • এরপর বড় হামলার হুমকি সেই একই সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছ থেকে।
  • এরপর বড় একটা সন্ত্রাসী ঘটনা। যেমন গুলশান ট্রাজেডী। যেহেতু এই ধরনের হামলা আমাদের কাছে প্রথম, তাই পুরো দেশ সহ স্তম্ভিত।
  • আগের মত একই কায়দায় এবারও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দায় স্বীকার।
  • বিশ্ব মিডিয়ার ফলাও করা কাভারেজ আর ব্রেকিং নিউজ। সেখানে বার বার জোর দিয়ে বলা “এই দেশে সন্ত্রাসী আছে, হ্যান আছে, ত্যান আছে”।
  • বিশ্ব মিডিয়ার নানা ধরনের বিচার-বিশ্লেষন। ভাড়া করে আনা নানা “নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ” দের মতামত – কথা একটাই – এই দেশে সন্ত্রাসী আছে।
  • এরপর বিদেশী সাহায্যের অফার। সব ধরনের সহায়তা করার প্রমিজ।
  • সাহায্য নেয়ার কথা নাকচ করে দিলে আবারও অফার। গায়ের উপরে এসে হেল্প করার অফার! না চাইলেও নিতে হবে টাইপের ব্যাপার।
  • এরপরেও যদি সেই অফার নাকচ করা হয় তাহলে আবারো বিশ্ব মিডিয়ায় নিন্দা।
  • আশে পাশের বন্ধ দেশগুলোকে দিয়ে একস্ট্রা নিন্দা করানো। নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করার বাসনা।
  • নানা ধরনের স্যাঙ্কশন – বিশেষ করে অর্থনীতিক।

ঠিক এর পর থেকে ঘটনা মোড় নিতে পারে ২ দিকে আর ফলাফল হবে একটাই, ঘটনা যেদিকেই মোড় নিক না কেন।

প্রথম দিকঃ বিদেশীদের আবারও নাকচ করা

এই ঘটনা ঘটার সাথে সাথে কঠিন সব নিষেধাজ্ঞা আসবে দেশের উপর। ডানে-বামে যেতে পারবে না সেই দেশ। সরকারে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। জিনিষ পত্রের দাম বেড়ে যাবে। রপ্তানীতে বজ্রপাত হবে। বিদেশী বায়ারদের সংখ্যা কমে যাবে। আশেপাশের তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্রগুলো হঠাত করেই উলটো পথে যাবে – ভাবটা এমন যেন তারা কোনদিন চিনেই নি। সন্ত্রাসী হামলার প্রবলতা বেড়ে যাবে। সন্ত্রাসীরা কোন এক অজানা জায়গা থেকে আরো বেশী শক্তি পেয়ে বসবে যেমন অনেকটা স্পন্সর পাওয়ার মত। তাদের সব সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ব মিডিয়ার খোরাক জোগাবে। চাপ আরো বাড়বে। এক পর্যায়ে পুরো দেশটাকেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা করবে। আর এরপর ক্ষমতাধর যুদ্ধবাজ ১টি দেশ (নাম না বললেও বুঝতে পারছেন) আরো ২/১ টা চামচা নিয়ে মনের খুশীতে আকাশ থেকে বোমা মারবে। একটা ঘাটি করবে। কোন একটি সুন্দর দ্বীপ বেছে নিবে এজন্য। সেই বোমাবাজি চলবে কয়েকবছর। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্ষান্ত দিবে সেই ক্ষমতাধর দেশটি। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তারা এক ধরনের অকার্যকর হয়ে ধীরে ধীরে ফিরে যাবে। ততক্ষনে দেশটাতে আর কিছুই থাকবে না। যাওয়ার সময় তারা তাদের অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে যাবে কোন একটি গোষ্ঠীকে। সেই অস্ত্র দিয়ে তারা গড়ে গুলবে আরেকটা সন্ত্রাসী বাহিনী। নিজেদের আই এস টাইপের একটা নাম দিবে। ইতিমধ্যে যুদ্ধে মরে যাওয়া মানুষগুলোর কাছের মানুষরা মিলে গড়ে তুলবে আরেকটি গোষ্ঠী যারা অন্যায় থেকে মুক্তি চাইবে। এরপর চলতে থাকবে এক সীমাহীন গৃহযুদ্ধ। ভাই ভাইকে মারবে, ছেলে বাপকে মারবে। দেশ হবে ১০ ভাগ। সারা বছর লাগবে অস্ত্রের সাপ্লাই, রসদের সাপ্লাই। সামান্য পানিও আমদানী করতে হবে। আর এগুলো সেদেশে বিক্রি করবে সেই ক্ষমতাধর দেশের কোন একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয় দিকঃ বিদেশীদের সাহায্যকে স্বাগতমঃ

উৎসব মুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে একটি চুক্তি হবে। চারিদিকে সাজ সাজ রব। বিশ্ব মিডিয়ায় দেশটির সুবুদ্ধির প্রশংসা। এরপর হাসিমুখে নৌপথে আর বিমানপথে সাহায্য করতে আসা হাজার হাজার ইউনিফর্ম পরা মানুষের আগমন। তাদের জন্য সব নিয়ম আলাদা। সবকিছুতে একটু মাথা ঘামানো যাদের স্বভাব হবে। কিছু করতে হলে আবার পারমিশন নিতে হবে। নাহলে মাইন্ড করবে। প্রক্সিওয়ার খেলবে মানে যুদ্ধ করবে আরেক দেশ আর করাবে আরেক দেশকে দিয়ে। যেমন আমেরিকা ভারত বা চীনকে কিছু একটা করতে চায়, আর বাংলাদেশ আগ বাড়িয়ে কিছু একটা করে বসবে টাইপের অবস্থা হবে। করাবে আমেরিকা এ ক্ষেত্রে। দেশের ইলেকশন, প্রশাসন সব কিছুর নিয়ন্ত্রন কেমন করে জানি অন্যদিকে চলে যাবে। ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী। কোন গোষ্ঠী হটাতে চাইতে বিদেশ থেকে সাহায্য করতে আসা সেসব মানুষদের আবার কেউ তাদের সাথে গিয়ে ভিড়বে। শুরু হবে অন্তর্কোন্দল। শুরু হবে গৃহযুদ্ধ। আর যুদ্ধ মানেই ব্যবসা। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে দরকার হবে ঘরে ঘরে অস্ত্রের। আর সেই সাথে দরকার হবে রসদের। গ্যাস তো আর লাইনে পাওয়া যাবে না। ১০ গুন দামে সিলিন্ডারে কিনে আনতে হবে কারন কন এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গ্যাসের খনিগুলো দখল করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। হাহাকার লেগে যাবে। মানুষের জীবনের মুল্য শুন্যের কোঠায় নেমে আসবে। পোকামাকড়ের চাইতে বেশী মরবে মানুষ। এক পর্যায়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। গৃহযুদ্ধ মারাত্মক রক্তক্ষয়ী এক হিংস্র্যতায় রুপ নেবে। দেশটির নিজেকে একটি দেশ বলার মত আর কিছুই থাকবেনা।

নিশ্চয় বুঝে গেছেন সব। এসব ঘটনা পড়ার সাথে সাথেই কি মনে হয় না কোথাও যেন শুনেছেন? কোথাও যেন পড়েছেন? বা দেখছেন? খুব কমন মনে হয় না?

এবার বলেন, প্রথম দিকে কোন কোন দেশ না গিয়ে থেকেছে অর্থাৎ বিদেশীদের সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে সাহায্য নাকচ করে দিয়েছে? চিন্তা করে দেখেন। আর এটাও ভাবেন সেসব দেশের এখন কি হাল?

এবার চিন্তা করেন, দ্বিতীয় দিক অর্থাৎ বিদেশীদের সাহায্যকে যারা স্বাগতম জানিয়েছে, তাদের মধ্যে কোন কোন দেশ আছে? এখন তাদের কি হাল? পাকিস্তানের দিকে একটু তাকাবেন নাকি? অথবা সৌদি-আরব অথবা…… কত উদাহরন টানবেন?

হতে দিবেন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মত? হতে দিবেন বাংলাদেশকে সিরিয়া বা লিবিয়ার মত?

ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে তারপরে জবাব দিন।

আপনার মন্তব্য

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here