দ্যা ‘রামপাল’ ইফেক্ট……

10093
SHARE

গত মঙ্গলবার, ১২/ ০৭/ ২০১৬ তারিখে  Bharat Heavy Electricals Ltd (BHEL)  কোম্পানি ও  Bangladesh-India Friendship Power Company Ltd (BIFPCL)  এর মধ্যে বহুল আলোচিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১.৬৮ বিলিয়ন ডলারের এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ঢাকার একটি হোটেলে। উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট গুরুতবপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে  চুক্তিতে BHEL এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রেম পাল জাদভ ও  BIFPCL এর পক্ষে এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য ।

BHEL ভারতের সবচেয়ে ব্ড় ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী। ভারতের ৬টি মহারত্ন কোম্পানির মধ্যে এটি একটি।  আর, BIFPCL হল ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কোম্পানী; যার ৫০ শতাংশ মালিকানা বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (BPDB )এবং ৫০ শতাংশ মালিকানা ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির ( NTPC ) ।  ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা ভাবে। এরপর ২০১২ সালের ২৯শে জানুয়ারি NTPC ও BPDB এর মধ্যে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র  বা “মৈত্রী প্রজেক্ট” নিয়ে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি মোতাবেক এই রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫০ শতাংশ মালিকানা  বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (BPDB ) ও ৫০ শতাংশ মালিকানা  ইন্ডিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির ( NTPC ) । আর দুই দেশের হয়ে  এই Power Trading এর কাজটি  করবে Bangladesh-India Friendship Power Company Ltd (BIFPCL) , এই লক্ষ্যেই  এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ।

চুক্তি মোতাবেক খুলনায় মংলা সমুদ্র বন্দরের কাছে ১৮৩৪ হেক্টর জমির  উপর গোড়ে উঠবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আর BHEL এর ভূমিকা হবে প্রকল্পের ডিজাইন করা, ইঞ্জিনিয়ারিং , ম্যানুফ্যাকচারিং, কনস্ট্রাকশন, টেস্টিং, কমিশনিং, সার্ভিসিং , পাওয়ার, ইন্ডাস্ট্রি,  ট্রান্সমিশন, ট্রান্সপোর্টেশন, নবায়নযোগ্য শক্তি, তেল ও গ্যাস  এবং প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।   

দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ দিনে ১৫০০মেগাওয়াট।  রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির  ১৩২০ মেগাওয়াট  বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি ঘুচেবে অনেকাংশে । যা অত্যন্ত জরুরী।

কিন্তু জাতিয় তেল, গ্যাস ও বন্দর রক্ষা কমিটি, বাম দল গুলো ও কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে প্রকল্পের কাজ এই পর্যন্ত কয়েক দফা পিছাল ! প্রশ্ন হল কেন এই তীব্র প্রতিবাদ ?!

সংগঠন গুলোর দাবি,  রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের ফলে  ধ্বংস হয়ে যাবে সুন্দর বন !!! হুমকির মুখে পড়বে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ !!! তাদের দাবি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি করতেই হয় তবে তা দেশের অন্য কোথাও, সুন্দরবনের কাছাকাছি কোন ভাবেই নয়।  কিন্তু সরকার লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধ্য পরিকর। পরিবেশবাদীদের দাবির বিপরীতে সরকারের যুক্তি গুলো হলঃ

১। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো যেমন আমেরিকা, জার্মানী, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি ভরত সবাই কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। BIFPCL এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী শক্তি উৎপাদনে কয়লার ব্যাবহারে পৃথিবীতে সবার থেকে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা, তাদের  ৯৩ % শতাংশ শক্তির উৎস কয়লা । তারপর ই আছে চীন, ৭৯%, অস্ট্রেলিয়া ৭৮%, ইন্ডিয়া ৬৮%, জার্মানী ৪১% , যুক্তরাষ্ট্র ৪০% । আর আমাদের বাংলাদেশ মাত্র ২.২৬% !

২। তাছাড়া রামপাল কেন্দ্রে ব্যাবহার হবে অত্যাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি। তাই পরিবেশ দূষণ হবে না । এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও মিলেছে। তারা বলছে, যে কোন ধরনের দূষণকে সহনীয় মাত্রায় রাখা হবে। কিভাবে? BIFPCL উন্নতমানের কয়লা আমদানি করবে,  ২৭৫ মিটার উঁচু চিমনী বানানো হবে ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হবে।

তাহলে সমস্যা কোথায় ?!?! এক্ষেত্রে পরিবেশবাদীদের যুক্তি কি ?

প্রকল্প বিরোধী আন্দলনকারীদের যুক্তি  BIFPCL শক্তি উৎপাদনে কয়লা ব্যাবহারকারী যেসব দেশের কথা বলছে তারা পৃথিবীর প্রথম সারির কয়লা উৎপাদনকারীদেশ। যেমন, কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে ১ম  চীন, ২য় যুক্তরাষ্ট্র, ৩য় অস্ট্রেলিয়া, ৪র্থ  ইন্ডিয়া , ৬ষ্ঠ রাশিয়া, ৭ম দক্ষিণ আফ্রিকা, ৮ম জার্মানী।  আর এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান  ৩০ এর মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা ।  তাই BIFPCL  যেসব দেশের উদাহরণ দিচ্ছে এসব দেশ নিজেদের উৎপাদিত কয়লা ব্যাবহার করছে , আর BIFPCL কে তা করতে হবে  উন্নতমানের কয়লা আমদানি করে । তাছাড়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি করতে হয় তা দেশের অন্য কথাও করা যেতে পারে, সুন্দরবনের কাছে রামপালে কেন ?

এছাড়াও আন্দোলনকারীদের দাবী উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে দূষণরোধের যে যুক্তি বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ও BIFPCL দিচ্ছে তা ভিত্তিহীন।  কারণ, কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি হল আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি। তার আগের প্রযুক্তিগুলো হল যথাক্রমে সুপার ক্রিটিক্যাল ও সাব ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি। কোন   

প্রযুক্তিতেই  দূষণ হীন ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয় ।

এখন জানা যাক, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে কি কি ধরণের দূষণ ছড়ায়ঃ  

১। বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড

২। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড

৩। পারদ

৪। সালফার

৫। সিসা  ও

৬। আর্সেনিক মিশ্রিত বিষাক্ত ছাই ।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতেও এই সমস্ত দূষণ হবে। শুধু  সুপার ক্রিটিক্যাল ও সাব ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি থেকে দূষণের পরিমাণ কিছুটা কম হবে, তাও মাত্র ২% থেকে ৫% কম !

তাহলে ঠিক কই পরিমাণ দূষণ হতে  পারে?!

সরকারের আরেক পরিবেশ সমীক্ষায় দেখা  যায় যে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে প্রতিদিন ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড ও ৮৫ টন  নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নির্গত  হবে। বছরে ৯ লাখ টন বিষাক্ত ছাই বাতাসে মিশবে। এছাড়া অন্যান্য উপাদান তো রয়েছেই !!! যা ধীরে ধীরে সুন্দর বনকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য যথেষ্ঠ।

অবস্থা দেখে মনে  হচ্ছে আন্দোলনকারীরাই ঠিক !  

এখন দেখা যাক সুন্দরবন আমাদের জন্য কতখানি জরুরী ?

এটা খুবই হাস্যকর একটা প্রশ্ন । যে কেউ চোখ বন্ধ করে সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বটা উপলব্ধি করতে পারে। কিন্তু তার সঠিক পরিমাণটা শুধু আমরা জানিনা। কারণ এ ধরণের  কোন পরিসংখ্যান কখনও চালানো হয়নি আমাদের দেশে  !

কিন্তু আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এ ধরণের  কোন পরিসংখ্যান হয়েছে !  আমরা সেখান থেকে শিখতে পারি । ভারত আমাদের দীর্ঘ দিনের বন্ধু । ভারতীয়দের দেশপ্রেম অনুসরণীয় । শুধু আয়তনে নয়, শক্তি ও বিচক্ষণতায়ও ভারত অদ্বিতীয় ! কথায় আছে, What India Thinks Today, The World Thinks Tomorrow !  সত্যিই তাই ! অসাধারণ একটি জাতী !!!  

চলুন দেখা যাক, যে সুন্দরবনকে নিয়ে আমাদের এত শোকের মাতম, সে সুন্দরবনকে নিয়ে বন্ধু ভারত কি করছে ?! কারণ, সুন্দরবন বাংলাদেশের একার সম্পদ নয়। ২০০শত বছর আগে এই বোনের আয়তন ছিল ১৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার । আর এখন মাত্র  ১০ হাজার কিলোমিটার, যার ৬০% বাংলাদেশের সীমানায় ও ৪০ % ভারতের  সীমানায় ! সুন্দরবনের ঐ অংশে ভারতের রয়েছে Sundarbans Tiger Reserve বা STR। এরকম Tiger Reserve  ভরতের আরও কিছু অংশে রয়েছে ।  ২০১৪ বা ১৫ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দর বনের ইন্ডিয়ান অংশে এক পরিসংখ্যান চালায় । তাতে বেরিয়ে আসে কিছু অভূতপূর্ব তথ্য !  যেমন,  STR এ রয়েছে ২২।৩৮ মিলিয়ন টন প্রাকৃতিক কার্বনের মওজুদ ! যার  বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৪১০ কোটি রূপি !!!! যার থেকে প্রতি বছর 0.৪৩ মিলিয়ন টন কার্বন উত্তোলন সম্ভব। যার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি রুপী। এছাড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি রোধে সুন্দরবন যে ভূমিকা অতীতে রেখেছে তার আর্থিক পরিমাণ প্রতি বছর  প্রায় ২৮ কোটি রূপী !!! প্রতি বছর STR থেকে  যে পরিমাণ মৎস সম্পদ আহরিত হয় তার পরিমাণ প্রায় ১৬০ কোটি টাকা !!! এটি কাঁকড়া ও আহরিত চিংড়ির হিসেব বাদে !!! STR এর standing stock of timber এর পরিমাণ প্রায় ৩২ মিলিয়ন কিউবিক মিটার । যার আর্থিক মূল্য ৬২, ৮৭০ কোটি রূপী !!! এই হিসেব সুন্দরবন থেকে আহরিত আরও অনেক কিছুকে বাদ দিয়েই এই !!!

ভারতের সুন্দরবন জীবমণ্ডল সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক প্রদীপ ভাস বলেন, ” যদি কোন ভাবে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ধ্বংস হতে শুরু করে তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। জীবন ও পরিবেশের সাথে সাথে মৎস সম্পদ আহরণের পরিমাণ কমে যাবে ৬০-৭০% । ”

এছাড়া STR এর আশপাশে ২৭০০০০ মানুষের বসবাস। STR এর কার্যক্রম  শুরু হবার পর যাদের বিভিন্ন ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যা বার্ষিক প্রায় ৩.২৫ কোটি রুপী !!!

এখন, এটা সহজেই বোধগম্য যে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশ আকার ও আয়তনে ব্যয়র হবার করণে এর সম্পদের পরিমাণও হবে অনেক বেশি !!! কিন্তু আমরা কি করছি ?! ধ্বংসের পথে হাঁটছি !!!  

দেখা যাচ্ছে যে, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে সুন্দরবন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে এটা প্রমাণিত। আবার, সুন্দরবনের রয়েছে বিশাল পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব; যা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ! শুধু কি তাই ?!?!?! না,  রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিশাল ও বিরূপ সামাজিক প্রভাবও  রয়েছে !!!

যেমন,

১। রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে ধীরে ধীরে এর বিরূপ প্রভাব গুলো মানুষ দেখতে শুরু করবে। কিন্তু তখন চাইলেও তা বাংলাদেশ একা বন্ধ করতে পারবেনা। কারণ, ৫০% মালিকানা ভারতের ! ফলে বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি হতে বাধ্য!

২। চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে BHEL । যা সুন্দর বনকে একটা Isolated Zone এ পরিণত করবে ! পার্বত্য অঞ্চলের মত সুন্দরবনেও বিচ্ছিন্নতা বাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠির আখড়া গোড়ে উঠতে পারে। তারা সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ করে শক্তিশালী হয়ে উঠবে ! যা শুধু প্রকল্প নয় , বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে !

৩। পরিবেশ পরিস্থিতি যদি কোনভাবে সত্যিই খারাপের দিকে যায় তাহলে দেশে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হবে। যা বহুমাত্রিক রূপ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। যা জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতিকে শেষ করে দিবে ক্যান্সারের মত !

এক্ষেত্রে জনমনে কিছু বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে ! যথা

১। ভারত কি তবে তার লকলকে লালসার জবীহবা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের দিকে ?!

২। ভারত কি তবে বন্ধুর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা  করছে?!

৩। ভারত কি সুন্দরবনের দখল নিতে চাচ্ছে?!

৪। সরকার কি দেশ বিক্রি করে দিচ্ছে ?!

৫। সরকার  কি দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে ?!

৬। সরকার কি তবে জঙ্গিবাদ কে উস্কে দিতে চাইছে ?!    

…………ইত্যাদি ইত্যাদি … !

এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর হল – “না” !!!

বিষয়টি হলঃ

১। সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের আরও অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ ও অঞ্চলের  মত অবহেলিতই ছিল। সরকার বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান ও ঐ অঞ্চলের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে রামপালকে নির্বাচন করে । সেটা ২০১০ সালের কথা !

আর ভারতের Centre for Ecological Services Management (CESM)  Sundarbans Tiger Reserve বা STR এ মূল্য যাচাই ও কর্ম্পরিকল্পনা নির্ধারনের জন্য যে পরিসংখ্যান চালিয়েছে তা শুধু এই অঞ্চলে নয় , বিশ্বেই প্রথম ! যার ফলাফল এলো কেবল গত বছর, ২০১৫ সালে । এর আগে এই হিসেব ভারতের কাছেই ছিল না ।

২। ২০১০ সালে সিদ্ধান্ত নেয়ার  পর সরকার ভারত সরকারের সাথে এ বিষয়ে চুক্তিতে আসে । কারণ, ভারত কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ  আর BHEL এই কাজে দক্ষ ।

৩। কিছুদিন পূর্বেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি কিছুটা হলে স্বাভাবিক ছিল । ফলে অনেক সম্ভাবনার কথাই তখন ভাবা হয়নি । এ ক্ষেত্রে উন্নয়নকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

৪। সুন্দরবনে যেকোন ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদ বা জঙ্গিবাদের উত্থান ভারতের জন্যও হুমকি স্বরূপ।

৫। ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে । এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য সম্ভাবনা যাচাই বাছাইয়ে সময়ের প্রয়োজন। যেটি হয়ে উঠছে না ।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে, আমাদের কি করণীয় ?!

ব্যাপার হল, এটা স্পষ্ট যে , সুন্দরবনের সম্ভাবনা প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ! তাই ভারতের অনুসরণে সুন্দরবনে Sundarbans Tiger Reserve বা STR এর মত বাস্তব মুখী প্রকল্প হাতে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র কখনই নয় ।  আমাদের  মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বঙ্গ বাঘিনী ! দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । যথাযথ রূপে বিষয় গুলো তাঁর বরাবর উপস্থাপিত হলে তিনি কখনওই  এই অপূরণীয় ক্ষতি হতে দিবেন না । তিনি এই বাংলা অঞ্চলের মাতৃস্বরূপ।

তাই পরিশেষে তাঁর সমীপে আকুল আবেদন এই, ” মা, মাগো, তুমি রামপাল কে মুক্তি দাও, মা ! বেঁচে থাক সুন্দরবন, বেঁচে থাক সম্ভাবনা , অটুট থাক সামাজিক, সাম্প্রদায়িক বন্ধন ! মা , তুমি বঙ্গ  বাঘিনী । তোমার নামের পাশে কি কলঙ্ক শোভা পায়, মা ! ”    

আপনার মন্তব্য