জোয়ার …… উন্নয়নের জোয়ার !

271
SHARE

মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম মহানগরের দুই-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে বুকসমান পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। যার ফলে দিনের পর দিন মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে৷ নগর পিতার শত আন্তরিকতা ও চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছেনা। কোথাও যেন পরিকল্পনার ঘাটঁতি পরিলক্ষিত হচ্ছে আবার এসব পরিকল্পনা কাগজে কলমে হলেও বাস্তবত কার্যকর হচ্ছেনা। এককথায় জল্বদ্ধতার ক্ষেত্রে আমাদের নগর পরিকল্পনাবিদদের সমস্ত পরিকল্পনাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত। সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা যায় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কেও প্রয়োজনে গড়েতো কিছুদিন পড়ে অন্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে তা আবার কাটে। এই হচ্ছে অবস্থা। ভাঙা গড়ার তালে পড়ে নগরবাসী দিশেহারা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র হতে জানা যায়, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত অর্থবছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও সুফল মিলছেনা৷ নগরীর বিভিন্ন খাল গুলি অত্যাধুনিক ড্রেজার দিয়ে খনন করা হচ্ছে, কিন্তু তাতেও জলাবদ্ধতার উন্নতি হচ্ছেনা বরং কিছু কিছু জায়গায় পূর্বের চেয়ে বেড়েছে। নগরের একাংশ ডুবে যাওয়া সেটাই প্রমাণ করে৷ বাণিজ্যিক নগরী হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভিড় বাড়ছে এই শহরে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। একদিকে ভূমিদস্যুদের আদিপত্যে নগরীর বড় ঐতিহ্যবাহী খাল গুলী হারাচ্ছে তাদের আকার ও নাব্যতা অন্যদিকে ময়লা আবর্জনা গুলী নালা ও খালে পড়ে পানির স্বাভাবিক গতিতে সৃষ্টি করছে বাধা। অবশ্য নাগরিক সচেতনতা এখানে অনেকটা জরুরি। আপনি আমি একটু সচেতন হলেই দৃশ্যপট পাল্টাতে বাধ্য। অন্য কিছু নয় নালা বা খালে সরাসরি ময়লা/আবর্জনা না ফেলা বিশেষ করে এই বর্ষা মৌসুমে। অবশ্যই যেন নির্দিষ্ট ডাস্টবিন গুলা ব্যাবহার করব সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারণ করে দেয়া সময়ে। এতো গেল ময়লা আবর্জনা সমাচার যেটা পানির স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে জরুরী যেটা মনে করছি তা হল আমাদের প্রিয় এই চট্টগ্রাম শহরকে বাঁধ দিয়ে ঘিরে ফেলা আর খাল গুলোতে সুইস গেট দেয়া। যেহেতু সামুদ্রিক অঞ্চল এই চট্টগ্রাম সেহেতু সাগরের পানির লেবেল এর সাথে নগরীর বৃষ্টির জমা পানি একাকার হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়, যার ফলে পানি দ্রুত সরে যায়না। যদি একটা পরিপূর্ণ বাঁধ নির্মাণ করে বিভিন্ন পয়েন্টে ওয়াটার পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যেত তাহলে অনেকখানি সুফল পাওয়া যেত বলে ধারনা।

সরেজমিনে পুরো শহর ঘুরে দেখা যায়, বহদ্দারহাট,চান্দগাঁও,বাকলিয়া, ষোলশহর, মুরাদপুর, চকবাজার, ২নং গেইট, হালিশহর, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, সাগরিকা সহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল ও ব্যাবসায়িক স্থানে কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাওবা বুকসমান পানি জমে যায়৷ সড়কে যানবাহন তুলনামূলক কমে যায় আর যা কিছু চলাচল করে তার মধ্যে বেশিরভাগই পানিতে বিকল হয়ে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী লোকজন, শিক্ষার্থীরা। এ যেন দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে এক মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। পথচারীদের অনেকেই পানি ডিঙিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন৷ সুযোগে বিভিন্ন যানবাহনগুলি ভাড়া দ্বিগুণ করে নিচ্ছে বা তারও বেশি। এভাবে কি দিনের পর দিন চলা সম্ভব?
নগর প্রশাসন/প্রশাসক যেন সুপারম্যান গতি পাক এবং নগরবাসীকে দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিক এই প্রত্যাশা।

আপনার মন্তব্য