পুরো পরিবার সহ আইএস যোগদান এবং একটি উদ্বেগ

1430
SHARE

ব্রেকিং নিউজ তো নিশ্চয় দেখেছেন এতক্ষনে। ঢাকা শিশু হাসপাতালের একজন ডাক্তার পুরো পরিবার সহ আইএস এ যোগদান করার জন্য সিরিয়া হয়ে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গমন করেছে (সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪)। এতদিন তো তরুনদের কথা শুনে আসছিলাম। নর্থসাউথের ছাত্রদের কথা শুনছিলাম। এখন পুরো পরিবারসহ ব্রেইনওয়াশ? কিভাবে? অবশ্য এই পরিবারের একটি মেয়েও নর্থসাউথের ছাত্রী ছিলেন। তবে সেটি ভিন্ন কথা। একজন উচ্চ শিক্ষিত ডাক্তার, বলতে গেলে পুরো পরিবারই উচ্চ শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত, বড় সরকারি হাসপাতালের চাকুরী – সব কিছু ছাপিয়ে তাঁদের কিভাবে ব্রেইনওয়াশ করা হলো ? কিভাবে পারল নিজেদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অন্ধ বিশ্বাসে মৃত্যুর দিকে ঝাপ দেয়ার? একবারও কি ভাবেন নি তারা নিজেদের সন্তানগুলোর কি হবে, নিজের মেয়ে দুটোর কি হাল হবে বা অন্যদের? এত শিক্ষিত মানুষকেও ব্রেইন ওয়াশ?

আরো একটা নিউজ তো দেখেছেন নিশ্চয়, নর্থ সাউথের প্রো-ভিসিকে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এলিট শ্রেনীর মানুষ বলতে আমরা যা বুঝি এরা কিন্তু তারাই। ডাক্তার, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, নামি-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। এটি আমাদের কি সিগন্যাল দিচ্ছে? সমস্যার মূলটা কোথায়? আর সবজায়গায় নর্থসাউথ বিশববিদ্যালয়টা কেন জানি লিঙ্কড হয়ে আছে। ভেবে দেখুন পুরো পরিবারের মধ্যে অন্তত একজন সদস্য নর্থসাউথে পড়ালেখা করত – আবার সেই ডাক্তারের স্ত্রী কিন্তু কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের প্রফেসর ছিলেন!

সবখানেই নর্থসাউথের ছোয়া আছে। উদ্বেগটা ঠিক এখানেই। ২০,০০০ ছাত্র-ছাত্রী বর্তমানে এখানে অধ্যয়নরত। এত ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত কি এখন সম্পূর্ন হুমকির মধ্যে না? আর এদের মধ্যে ব্রেইনওয়াশ করা হয়েছে ঠিক কতজনের? কিভাবে বুঝতে পারবেন কাদের কাদের ব্রেইনওয়াশ করা হয়েছে? পুলিশ তো ঘোষনা দিয়েছেন যে কেউ যদি জঙ্গি বাহিনী থেকে ফেরত আসে তাকে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। কিন্তু কিভাবে বুঝতে পারবেন অতি সাধারন কেউ একজন ওঁত পেতে আছে ? এই প্রশ্নগুলো কিন্তু এখন সবারই। কিন্তু উত্তর নেই কোন। আরেকটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজমেন্ট কমিটি কি করছিল এতদিন? এখনই বা কি করছে? অবশ্য, যেখানে প্রো-ভিসিকে বরখাস্ত করা হয়েছে সেখানে আর কিইবা বলার আছে।

তবে একটা ব্যাপার তো বুঝাই যাচ্ছে, এসব আইএস জঙ্গী দের জঙ্গী হতে দেশের ভেতর থেকে কোন একটা চক্র বা মহল সহায়তা করছে যাতে করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। এখন দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হলে ঠিক কারা লাভবান হবে? কারা এটির ফায়দা লুটবে? এরকম কারা আছে যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য নিজেদের বিক্রি করে দিবে? এসব প্রশ্নগুলো কিন্তু সব আপনাদের কাছে।

আমরা খেয়াল করেছি, আমাদের এই সাইটের আর্টিকেল গুলোতে কিছু কিছু খুব ভাল ডিসকাশন হয় যেখানে আপনার আমার মত কিছু অতি সাধারন মানুষের কিছু আইডিয়া বা ধারনা উঠে আসে তাঁদের বেশীরভাগই খুবই ভাল আইডিয়া। কিন্তু আমাদের দেশের সাধারন মানুষদের বলতে গেলে পুরো অংশটাই এটা নিয়ে তেমন কোন আলোচনা করছে না। সমাধানগুলো আমাদের মাঝ থেকেও বেরিয়ে আসতে পারে। দেশটা আমাদের। আমাদেরকেই বাচিয়ে রাখতে এই দেশকে। প্রটেক্ট করতে হবে। আর তাই আমাদের মতামত এবং আমাদের দেশ বাচানোর আইডিয়া গুলো কোন না কোন কাজে আসবেই। এই আর্টিকেলে যতগুলো প্রশ্ন করা হয়েছে তার প্রতিটাই বার্নিং কোয়েশ্চন এই মুহুর্তে যাদের কোন উত্তর বা ভাল উত্তর এখনও পাওয়া যায় নি। তাই জানতে চাই আপনাদের কাছে এসব প্রশ্নের উত্তর? আপনারা কি মনে করেন কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব? কিভাবে বুঝতে পারব কাউকে ব্রেইনওয়াশ করা হয়েছে? কিভাবে এধরনের হামলা আগে থেকে ঠেকানো যাবে? আমাদের দেশের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তাই সরকারকে আমাদেরও সাহায্য করতে হবে। আচ্ছা সরকারের কথা বাদ দেন, কিন্তু নিজেদের তো করতে হবে, নাকি?

আর এই  নিয়ে আমাদের কিছু নতুন ভিডিও আসছে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে এবং আগেও কিছু বানিয়েছি। সাবস্ক্রাইব করে রাখুন চ্যানেলটি যদি কোন কাজে আসে ভিডিওগুলো। লিঙ্ক – http://youtube.com/bangladeshism

আপনার মন্তব্য