৯ মাত্রার ভূমিকম্প: বাঁচার কোন উপায় আছে কি?

29
SHARE

গত কয়েকদিন আসন্ন ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সম্পর্কে একটু জানার চেষ্টা করছিলাম । আমরা অতি সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে জানলেও এ সম্পর্কে গবেষণা চলছে প্রায় ১০-১২ বছর আগে থেকেই !!  কিন্তু আজও নির্দিষ্ট করে দিন তারিখ সময় সম্পর্কে কোন ভবিষ্যৎ বাণী করার মত তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই ! থাকবে কোথাত্থেকে ! বর্তমান মানব সভ্যতার অভিজ্ঞতায় এই রকম কিছু এটাই হবে প্রথম ! যদি হয়………!!!

তবে কিছু জিনিস স্পষ্ট ! যেমন, বাংলাদেশের কিছু অংশের ভূপ্রাকৃতিক গঠন বেশ নাজুক  (যেমনঃ ঢাকা) ! আর এই নাজুক ভূপৃষ্ঠের উপর যে মানব সন্তানেরা নিজেদের মাঝে হানাহানি আর স্বার্থের প্রতিযোগিতায় অন্ধের মত ছুটছে, আসন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় তাদের কোন প্রস্তুতিই নেই !!! থাকবে কেমন করে ?! দুর্যোগের মাত্রা যে ব্যাপক ; ৯ মাত্রা !!!  আর তারা তো অন্ধ !!  তাছাড়া টেক্টনিক প্লেট বলে কথা !!! ইন্ডিয়ান টেক্টনিক প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট, মায়ানমারের শান প্লেট ! সব বড় বড় প্লেটদের ধাক্কা ধাক্কি ! মাত্রা কম হলে চলে ?!

বিষয় হচ্ছে, গত ৪০ মিলিয়ন বছর ধরেই ইন্ডিয়ান সাব- কন্টিনেন্টের টেক্টনিক প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে ধুঁকে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে হিমালয়ের উচ্চতা। বাড়ছে  হিমালয় অঞ্চলের ভূমিক্ষয় , আর বাংলাদেশ অংশে মূল ভূ খণ্ডের উপর জমছে পলি। এই বাড়তি পলি জমার ফলে সংঘর্ষের সঠিক পরিমাপ বের করাটা কঠিন হয়ে পড়ছে বিজ্ঞানীদের জন্য !

দেখা যাচ্ছে , আমাদের বিরুদ্ধে প্রাকৃতির এই ষড়যন্ত্র চলছে বহু কাল আগে থেকেই । কিন্তু আমরা তো শুধু স্বার্থ চিন্তায় ডুবে থাকি এসব খোঁজ খবর রাখার আমাদের সময় কোথায় । আর যারা রাখে , অর্থাৎ , গবেষক বা বিজ্ঞানীরা যারা বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শি তাদের মতামত আমরা শুনি না , তাদের পরামর্শ মত আমরা পরিকল্পনা করিনা । এ অভ্যাসটা  আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় Culture এ একেবারেই নেই । ফলাফল আজকের ঢাকা !!!

ঢাকার উপর বিপদটা একটু বেশি ! কারণ, “Dhaka’s basically like building a city on a bowl of Jell-O,” – এটা আমাদের উক্তি না ।  Geologist Michael Steckler  এর । ইনার নেতৃত্বেই গবেষকরা ২০০৩- ২০১৪ পর্যন্ত এ বিষয়ে গবেষণা করে আসছিলেন । ধাক্কা লাগলে শক্ত কিছুর চেয়ে জেলির মত বস্তু একটু বেশী সময় ধরে নড়বে ! তাই ধাক্কার পর প্রাথমিক শক কেটে গেলে ঢাকার নড়াচড়া থামবেনা । আর problem টা ওখানেই ! কারণ, ঢাকা অপরিকল্পিত নগরী, ঘনবসতিপূর্ণ, ঢাকার ঘর বাড়ি লোভী-বাটপারদের হাতে বানানো ! তাই মানুষ  মরবে ঝাঁকে ঝাঁকে । বেশি নড়লে তলিয়েও  যেতে পারে ! এমন যদি হয় , তাহলে মানব ইতিহাসে কোন নষ্ট শহরের রসাতলে যাবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা  !!!

আহারে …!!!

এই ধাক্কার ফলে ঠিক কি কি হবে বলা মুশকিল , তবে একটা বড় ভূমিকম্প , একটা সুনামি আর ঢাকার জেলির নড়াচড়া — এই কয়টা Must ।

ভাবছিলাম, ভূমিকম্প হলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব – চেয়ার, টেবিল, পিলার – কোনটা ?! পরে দেখলাম কোন লাভ নাই !! কারণ, ৯ মাত্রার ভূমিকম্প !!! প্রায় ২৫০০০ নিউক্লিয়ার বোমের মত হবে এর শক্তি । সব লণ্ডভণ্ড করে দিবে !

মনে পড়ে গেল , জীবনে কিছুই তো করা হল না ! করতে তো অবসর লাগে , সামর্থও লাগে ! প্রতিযোগীতার এই ভরা মৌসুমে বড়  অনিশ্চয়তার মাঝে কেটে গেল জীবনটা !

শেষ কবে পথ চলতে পাশের মানুষটার দিকে তাকিয়ে একবার আন্তরিক হেসেছি?!    

মনে পড়ে নাহ !  যে হাসি দেখে সে  বুঝবে , একটু পর দুর্ঘটনায় পড়লে তার রক্তাক্ত দেহটা পথের ধুলোয় পড়ে থাকবেনা । তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাব  অনেক ব্যাস্ততার মাঝেও !

কোন ক্ষুধার্ত মানুষের  সামনে একা নিজের উদরপূর্তি করতে কখনও  বুক কেঁপে ছিল কিনা মনে পড়েনা !

অচেনা কারো জন্য নিজের সবার্থ বিসর্জন দেয়ার কি আনন্দ,  জানি না !

চেনা মানুষের চোখে স্নেহ আর একটু মমতার ছায়া, খোঁজা হয়নি কোন দিন !

কোন  মায়া ভরা চোখে রাখা হল না চোখ ! শেষ কবে আকাশ দেখেছি ! মনে পড়ে না !

আহ, আমি মুগ্ধ চোখে তাকাইনি বলে জীবনের  কত সূর্যোদয় পেরিয়ে গেল …… কত  গোধূলি আবীর রঙে সেজে  শেষে মুখমুছে আঁধারে লুকালো……… ! দেখিনি শরতের আকাশ ! হল না কাশের বনে গোপন খুনসুটি,  দেয়া হল না রাম, রহীম, জন- কে  নিয়ে কোন নদীর ধারে ভাটিয়ালী আড্ডা !

” পৃথিবীর সবার অর্থ লুট করে নিয়ে  আমি  একদিন বাঁচার মত বাঁচব” – এই স্বপ্নে আমি  বিভোর ছিলাম ! তাই প্রতিদিন আমি  একটু একটু করে বাঁচিনি !!! আমি বেঁচে থেকেও মাথা হেঁট করে  মরে ছিলাম !  মাথা তূলে দেখিনি, আমার মত জীবন্ত লাশে ভরে গেছে গোটা শহর , গোটা সমাজ, গোটা দেশ …… !!!  আমরা লুটপাট করে লন্ড ভণ্ড করে দিচ্ছি গোটা প্রকৃতিটাকে !!!

একবার কি মনে বাজেনি , সেই ভাটিয়ালী সুর ?!  মনে কি পড়েনি রাম, রহীম, জন- কে ?!

পড়েছে  ! কিন্তু মনকে  শাসন করেছি ! বিঝুয়েছি , রাম হিন্দু ! ওর ঘামও নাপাক , অশুচি ! রহীম মুসলমান – যবন – গরু খোর ! তার সাথে চললে ধর্ম থাকে ?! জন তো খ্রিষ্টান ! ওশালা শুয়োরের পোঁদে নাক গুঁজে রাখে ! আর ঐ বড়ুয়া শালার অন্তর জুড়ে বিষের নীল আকাশ ! ওদের সাথে কি আমি  মিশতে পারি ?! আবার ভাটিয়ালী গান ?! ছিঃ…!

আমি সর্ব শ্রেষ্ঠ !!!

কে বলল ?!

কেন – দেশে কি ব্রাহ্মণ , পুরোহিত , মোল্লা- মুনসীর অভাব পড়েছে !

অও…… তা এখন যে ব্রাহ্মণ ,  পুরোহিত , মোল্লা- মুনসী সব ছানাপোনা সহ একসাথে পাঁকে পড়ে মরবে – এখন কি হবে ?! মোল্লার লাশ গিয়ে ব্রাহ্মণের লাশ ছুঁয়ে দিলে তার কি নরকেও ঠাঁই মিলবে ?! তারপর , ছোটলোক, বড়লোক, ধনী-গরীব সব এক সাথে — নাহ ব্যাপারটা মানা যাচ্ছে না !  

মৃত্যু কেমন সবাইকে এক করে দিচ্ছে, তাই না ?!

হুমম , ভূমি কম্পটা  সব তালগোল পাকিয়ে দিচ্ছে !  

আহা, তালগোল পাকাবে কেন ?! তোমার বিবেক কে প্রশ্ন কর !

আমার বিবেক বলে কিছু নেই । আমার আছে অনুশাসন !

ঠিক আছে  তোমার হৃদয়কে প্রশ্ন কর !

আমার হৃদয় বলে কিছু নেই !

তাহলে বুকের বাঁ পাশে হাল্কা মত ওটা কিসের ব্যাথা ?!

কিডনির সমস্যা হতে পারে !

কিডনির সমস্যা ?! বুকের বাঁ পাশে ?!

হুম… !

ভালো তো, ভালো না ?! তা তুমি না, মিনারেল ওয়াটার টানছ আজকাল । Pure Dringking Water !!? কিডনি কখন ডেম্যাজ করলে ?!

শালার ভেজাল চারিদিকে !

ভেজাল ?!  ওতে তো অনেক লাভ , অনেক টাকা !! খুব ভালো ব্যাবসা !!

হুমম, ধান্দাবাজীর ব্যাবসায় লাভ থাকবেনা !

ধান্দাবাজীর ব্যাবসা বলছ কেন?! তুমিওতো মজুদদারী কর ! মনে নেই, অঢেল সাপ্লাই থাকার পরও বাঙালীকে ৪০০ টাকা কেজিতে কাঁচা মরিচ খাওয়ালে ?! কত টাকা কামাই করলে ! কিডনির চিকিৎসায় সব শেষ করেছো, নাকি ?!

আরে নাহ, ওটা অত সহজে শেষ হবার নয় ! অঢেল আছে ! শুধু গলা কাটা ডাক্তারের দল…!

বাহ ! তারাও শেষ করাতে পারেনি ?! তা ঢাকার জেলি নড়ে উঠলে সব যে রসাতলে যাবে !

হুম, বেঁচে থাকায় আর স্বাদ নেই ! তবুও বাঁচ তে বড় ইচ্ছে হচ্ছে !

ভালো তো ! খুব ভালো ! বাঁচ না ! মানুষের মত বাঁচ ! শান্তিতে  বাঁচ !

কিন্তু চারদিকে সব অশান্ত শকুনের দল ! তারা কি শান্তিতে  বাঁচতে দিবে ?!  

দিবে; তুমি পাল্টে যাও, জগত পাল্টে  যাবে ! স্রষ্টাকে ডাক , তাঁর কাছে সাহায্য চাও !

আমি যে ক্ষমার অযোগ্য ! আজ আমার ভালো হবার সব পথ রুদ্ধ !   আমার মত পাপীকে কি তিনি সাহায্য করবেন?!

অবশ্যই করবেন ! তুমি যত বড় পাপী, তিনি তার চেয়ে বড় ক্ষমাশীল ! তিনি রহমান, তিনি রহীম, তিনি অনেক কিছু…… ! বড় ভালবেসে তিনি গড়েছিলেন তোমাকে, তোমাদের, আমাদের … ! আশাছিল আমরা মিলেমিশে থাকব !

যদি সারা পৃথিবী আগামী দিন সকাল ১০টায় ধ্বংস হবার কথা থাকে , সেদিনও আমরা ৭ঃ৩০ টায় ঘুম থেকে উঠব, টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে খস খস করে দাঁত মেজে পরিপাটি হয়ে অফিসে যাব , মনে মনে প্রত্যাশা রাখব, আল্লাহই আমাদের রক্ষাকর্তা , তিনিই আমাদের হিফাজত করবেন -এমনটাই তিনি প্রত্যাশা করেন আমাদের কাছে !!!!!

পারবেনা তাঁর উপর ভরসা রাখতে ?!?!?!

আপনার মন্তব্য