‘আল্লাহু আকবর’ এবং এক অদ্ভুত প্রচারনা

941
SHARE

গত কয়েক বছরের আন্তর্জাতিক নিউজ হেডলাইনগুলো একটু একের পর এক দেখলে কি পাওয়া যাবে? আসুন তার একটা ধারনা নেই –

  • আমেরিকার নানা জায়গায় সন্ত্রাসী হামলা – “আল্লাহু আকবর” বলে সন্ত্রাসীরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরন ঘটায়। [গত বেশ কয়েক বছরের ঘটনা]
  • ইউরোপের নানা জায়গায় হামলা – “আল্লাহু আকবর” বলে সন্ত্রাসীরা খুন করা শুরু করে। [বেশ কয়েকবছর ধরে]
  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা এবং খুন – “আল্লাহু আকবর” বলে সন্ত্রাসীরা জবাই করা শুরু করে অথবা কোপানো শুরু করে। [বছর খানেক ধরে]
  • ফ্রেশ নিউজ জার্মানী – কুড়াল হাতে এক লোক “আল্লাহু আকবর” বলে কোপানো শুরু করে [এটা কয়েক ঘন্টা আগের ঘটনা]

এখানে তো শুধু একটা ‘overall’ অবজারভেশন দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা একটু পত্র-পত্রিকা ঘাটেন বিশেষ করে বিদেশী নিউজ মিডিয়া গুলোকে ফলো করেন তারা ঠিকই জানেন ব্যাপারটা। খেয়াল করে দেখেন খুব সুক্ষভাবে একটা ধর্মের কি পরিমান নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং চলছে। ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন টার্মকে কিভাবে জানি খুব বাজে ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবং অনেক বিশাল একটা ক্ষতি কিন্তু ইতিমধ্যে হয়েও গেছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? বাইরের কোন দেশে একটু ভিড়ের মধ্যে বা প্লেনের মধ্যে উঠে এমনি একটু “আল্লাহু আকবর” বলে ডাক দেন আর দেখেন ফলাফলটা কি হয়? বিদেশের কথা বাদ দেন, বাংলাদেশেই করে দেখেন। বাংলাদেশ কিন্তু মুসলিম প্রধান দেশ তাও দেখবেন রেস্পন্সটা কেমন পান।

খুব চারুকাজ করা, খুব সুক্ষ একটা প্ল্যানে সবকিছু এগিয়ে চলছে। পুরো জিনিষটা হঠাত করে খেয়াল করলে মনে হবে যেন এটাই সত্যি। সতর্কতার সাথে বানানো প্রতিটি কার্যকলাপ। মুসলিমদের দিয়েই ইসলামের নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং চলছে? কিভাবে? কি মনে করেছেন? সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আসলে কি করছে? আল-কায়েসা, আইএস এরা আসলে কি করছে? নিজেদের তারা তথাকথিত ‘জিহাদী’ বা ‘ইসলামের সৈনিক’ বলে প্রচার করছে কিন্তু ইসলামকে বিক্রি করে এই ধর্মকে প্রতিনিয়ত বির্কৃতরুপে উপস্থাপন করছে। জোর চেষ্টা চলছে ইসলামকে বিভীষিকা বানিয়ে দেয়ার জন্য। এখন অনেকেই জানে আইএস – আল-কায়েদার মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কাদের সৃষ্টি। কিন্তু এসব করে কার কি লাভ? ওয়েল, এটাও জানেন হয়তো। যুদ্ধ মানেই তো ব্যবসা।

আর এসব চক্রান্তের শিকার হচ্ছি আমরা সবাই। পৃথিবীর সাধারন মুসলিম সমাজ। কিভাবে? অনেক ভাবেই? মুসলমানরাই মরছে এসব কথিত “জিহাদী’ নামক নরপিশাচদের হাতে, নামে এবং প্রানে…। আন্তর্জাতিক কন্সপিরেসিগুলো এখন খুব জোরালোভাবে ফুটে উঠেছে। পশ্চিমাদের “War on Terror” নামের প্রক্সিযুদ্ধের ভেতরকার গল্পগুলো এখন উঠে আসছে। যুদ্ধ যে কতবড় একটা ব্যবসা এটা সবাই এখন কমবেশী বুঝে। ধর্মকে পুজি করে চলছে ব্রেইনওয়াশ, ধ্বংস করা হচ্ছে তরুন সমাজকে। ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে। তাঁদের শেখানো হচ্ছে “আল্লাহু আকবর” বলে মানুষ হত্যা করার। পবিত্র কোরান শরীফের আসল অর্থকে বিকৃত করে উপস্থাপর করা হচ্ছে। যে যেভাবে পারে সেভাবেই ধর্মকে পুজি করছে। কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, আবার কেউ ঘরোয়া রাজনীতিতে। কারন তারা জানে, মতাদর্শ, ধর্ম, আর বিশ্বাস এগুলো খুব স্পর্শকাতর এবং মানুষ খুব ইমোশনালি এগুলো চিন্তা করে। বিশ্বাস ব্যাপারটা মানুষের মনে আর ঠিক এখানেই খেলা হচ্ছে । আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা হয়তো জীবিকা নির্বাহ আর জীবনটাকে কোনরকমে চালানোর জন্য সারা জীবন খেটে যায় তাই সবকিছুতে মাথা ঘামানো সম্ভব হয় না, মাথায় ঢুকেও না। আর এই ফাকে ক্যাপিটালিস্টরা আমাদেরকেই তাঁদের পন্য বানাচ্ছে।

এসব সেদিনই থামবে যেদিন মানুষের লোভ করা থেমে যাবে। আর সেটি আদৌ সম্ভব কিনা কেউ তা জানেনা। সবকিছুই একটা কন্সপিরেসি । আর নীচের ভিডিওটি সেই কন্সপিরেসির কথাই স্পস্ট বলে।

“আল্লাহু আকবর” এর পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের কাজ। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম এটা স্থাপন করাও আমাদের কাজ। কিন্তু আজ আমাদের অজ্ঞতা সবকিছু উল্টো দিকে করে দিচ্ছে। মুসলমানদের আরো অনেক বেশী চিন্তা করতে হবে। অনেক বেশী ট্যাক্টফুল হতে হবে। অনেক বেশী ভাবতে হবে। কিন্তু আমরা একে পরের সাথে যুদ্ধে ব্যস্ত। নিজেদের মধ্যে হাজারটা বিভেদ তৈরী করতে ব্যস্ত। আর এই ফাকে অন্যরা আমাদের বানিয়ে দিচ্ছে কসাই।

আপনার মন্তব্য