ইতিহাসের সাক্ষ্য এবং রাক্ষুসি মাছ

464
SHARE

মোঘল সম্রাট বাবুরের পুত্র হুমায়ুনের কথা নিশ্চয় আমাদের মনে আছে ।চৌসার যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজয়ের পর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার জন্য পরের বছর হুমায়ূন বিলগ্রামের যুদ্ধে শেরশাহকে আক্রমণ করেন । সেবার তিনি চরম পরাজিত হয়ে প্রাণ নিয়ে পলায়ন করেন । পরাজয়ের ফলে রাজ্যচ্যুত হুমায়ূন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে নির্বাসিত জীবনে হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালান । প্রায় পনেরো বছর নির্বাসনে থাকার পর হুমায়ূন একে একে কাবুল, কান্দাহার , দিল্লী , আগ্রা পুনরুদ্ধার করার পর তার হারানো রাজ্য ফিরে পান ।
নবাব সিরাজ উদ্দৌলাকে ঘায়েল করার জন্য মীর জাফর আলী খাঁ ,ঘসেটি বেগম , শওকত জঙ্গ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে হাত মিলিয়ে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল । তারা ক্ষমতা লাভের আশায় এটি করেছিল । সিরাজকে পরাজিত করে তারা সাময়িক তাবেদার পুতুল মসনদে বসেছিলেন । প্রকৃত ক্ষমতা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে । কিন্তু ইতিহাসে তাদের করুণ পরিণতির সাক্ষ্য বহন করে চলেছে ।
রাক্ষসী মাছ তার রাজত্বে ছোট ছোট দুরন্ত মাছগুলোকে সাবাড় করে । ছোট মাছ যদি এই ভেবে রাক্ষসী মাছের সাথে সন্ধি করে নিজ থেকে ধরা দেয় এবং ভাবে আমি মনে হয় প্রাণে বেঁচে যাবো , তাহলে তা হবে তার আত্মহত্যার সামিল । কেননা কিছু সময়ের জন্য সে হয়তো রক্ষা পাবে । তবে এটা নিশ্চিত , রাক্ষসী মাছের হাতেই একদিন তার মৃত্যু হবে ।
মনে রাখতে হবে সত্যের সাথে মিথ্যের ,নীতি ও সততার সাথে অসৎ নীতিহীন সুবিধাবাদীদের , ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের কখনো সমঝোতা হয় না ।
বিশ্বাসী – দেশপ্রেমিক দুটি ভিন্নমতের মানুষের কিম্বা পক্ষের মিল হতে পারে । তাও তাদের বিবাদের ফলে বৃহত্তর কোন ক্ষতি বা জানমালের কোন ক্ষতি যেন না হয় এ কথাটি ভেবে !

আপনার মন্তব্য