নিখোঁজদের নিয়ে কি করা উচিত?

319
SHARE

র‍্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজ তালিকাটি হয়তো ইতিমধ্যে পেয়ে গেছেন। এই নিখোঁজরা আইএস এ যোগদান করেছে – এমনই সন্দেহ করা হচ্ছে। বেশীরভাগই বাড়ি-পলাতক। সব বয়সী মানুষই আছে এই তালিকায়। যদিও কয়েকজনের হদিস পাওয়া গিয়েছে তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এমন সব তথ্য আর গল্প বের হয়ে আসছে যা খুবই ভয়ংকর। ঠিক কিভাবে ব্রেইনওয়াশ করলে মানুষ এমন হতে পারে সেটা নিয়ে প্রশাসন, সরকার আর সাধারন মানুষ – সবাই খুব চিন্তিত।

যারা এভাবে পালিয়ে জঙ্গি দলে যোগদান করল, তাদের কি একবারও বুক কাপেনি নিজের ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়? তারা কি একটা বারও তাদের বাবা-মা বা ভাই-বোনদের কথা ভাবেনি? কেউ কেউ তো আবার পরিবার সহ নিয়ে গেছে। পুরো পরিবারের সব সদস্যরা কি নিজের ইচ্ছায় গিয়েছে নাকি জোর করে বাড়ির কর্তা নিয়ে গেছে? একসাথে পুরো পরিবারের ব্রেইনওয়াশ কিভাবে করল? আর যে লিস্ট বের হলো, শুধু কি এরাই? নাকি আরো আছে? আর এসব নিখোঁজরা কি সিরিয়াতেই আছে নাকি বাংলাদেশে ফিরে এসে আত্মগোপন করে আছে বড় কোন হামলার আশংকায়?

awdnews এর মতে, আইএস বাহিনী ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে তাদের রিক্রুটমেন্ট অপারেশন চালায়। একবারে একজন একজন করে তারা টার্গেট করে। অনেক সময় নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট, ইমেইল, স্কাইপ ইত্যাদির মাধ্যমে তারা কথা বলে তাদের টার্গেটের সাথে। অপরিচিত একজন থেকে তারা খুব সহজেই হয়ে যায় খুব কাছের বন্ধু। হয়ে যায় আপন কেউ। বিশ্বাস অর্জন করে। আর এরপরেই শুরু হয় তাদের আসল খেলা। এভাবে করে শুধু মাত্র পশ্চিমা দেশগুলো থেকে এই পর্যন্ত ৪৫০০ মানুষকে তারা আইএস এ ভিড়িয়েছে ব্রেইনওয়াশের মাধ্যমে। একটা সময়ে এই অনলাইনে একটা সার্কেল গড়ে উঠে। টার্গেটকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গুরুথ দেয়া শুরু করে। এমন ভাব, সে যেন বিশাল দায়িত্বশীল কোন মানুষ। নানা ধরনের পদমর্যাদা দেয়া হয় উৎসাহিত করার জন্য। আর এভাবেই দিন দিন ঠেলে দেয়া হয় তাদের সন্ত্রাসী কোন কর্মকান্ড ঘটাতে।

এখন প্রশ্ন হলো, যারা ইতিমধ্যে পালিয়ে আইএস এ যোগদান করেছে, তাদের ব্যাপারে কি করা উচিত? বিশেষ করে সন্দেহের যে লিস্ট সরকার রিলিজ করেছে, সেই লিস্টে থাকা আইএস জঙ্গীদের সাথে আসলেই কি করা উচিত যদি তারা এখনও দেশের বাইরে থেকে থাকে? তাদের কি ফিরিয়ে আনার কোন উদ্যোগ নেয়া হবে নাকি তারা ফিরে আসার জন্য ওত পেতে থাকা হবে। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক, তাদের উপর কয়া নজরদারি রাখা হবে ইমিগ্রেশনে। ব্রেইনওয়াশড করা কোন ব্যাক্তিকে কি আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়? ধরলাম তাদের কয়েকজন ফিরে আসল আর তাদের সুযোগ দেয়া হলো ভাল হবার, তাহলে কিসের গ্যারান্টি আছে যে তারা আসলেই ভাল হয়ে যাবে? তারা কোন সন্ত্রাসী হামলা করবে না  ভাল হবার অভিনয় করে? এই ব্যাপারগুলো কিন্তু অত্যন্ত জটিল পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।

আসলে যে ঠিক কত শত মানুষ বা কত হাজার মানুষ আইএস এ যোগদান করেছে বাংলাদেশ থেকে এটা নিয়েও আরও খোজ করা দরকার। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রভাবশালী কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী এসব নিয়ন্ত্রন করে যারা হয়তো সবার চোখের সামনেই থাকে বহুরুপী হয়ে। অবশ্যই জংগীদের দেশের কোন না কোন মদদদাতা আছে। হয় কোন ব্যাক্তি বা কোন গোষ্ঠী। এগুলো কারা। তবে এই ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা দেখে কিছুটা স্বস্তি কাজ করলেও পুরো ব্যাপারটা একটু গোলমেলে। আমাদের দেশে মোটামুটি টাকা দিয়ে সবই কেনা যায় – দুর্নীতি এখানে প্রতিটি স্তরে স্তরে আছে। এধরনের অবস্থায় আসলে অনেক কিছুই সম্ভব। আর আইএস এর ফান্ডের তো খুব একটা অভাব নেই যদিও গত কয়েকমাসের রাশিয়ান হামলায় আইএস এর অর্থের সোর্স অর্ধেকেরও অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে কারনে তারা এখন মরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। লাশের ফল লাশ ফেলছে – নিরীহ মানুষের লাশ। এতে করে তারা ত্রাস সৃষ্টি করছে। কেউ কোদাল নিয়ে, কেউ ছুরি নিয়ে আবার কেউ গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারা শুরু করেছে। এগুলো সবই তাদের দুর্বলতার লক্ষন। তারা এখন মরিয়া।

সবকিছু ছাপিয়ে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা হয়তো রাতারাতি শেষ হবে না কিন্তু মাঝে অনেক হাজার হাজার মানুষের জীবন বিনষ্ট হচ্ছে। যারা আইএস এর হামলার শিকার হচ্ছে এবং তারাও যারা আইএস এর ব্রেইনওয়াশের কারনে সন্ত্রাসী হয়ে যাচ্ছে।

কি করা উচিত এসব ব্রেইনওয়াশড পলাতক বাংলাদেশীগুলোকে নিয়ে যারা এখন নিখোঁজ হয়ে আছে?

আপনার মন্তব্য