ফেসবুকে কিভাবে নিরাপদ থাকবেন?

8248
SHARE

দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ৫ কোটি আর ফেসভুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও কোটি ছাড়িয়ে গেছে আগেই। মূলত ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রধান একটি কারন ফেসবুক বলা যেতে পারে। আর কোন ওয়েবসাইটে মানুষ যাক বা না যাক, ফেসবুকে ঠিকই একটা একাউন্ট সবার আছে। আর এই ফেসবুককে ঘিরে ভাল দিকও আছে আবার খুব খারাপও দিকও আছে। একে পুজি করেই হচ্ছে নানা রকমের অপরাধ। এমনকি সন্ত্রাসী-জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো ফেসবুককে তাঁদের রিক্রুটমেন্ট মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। গত কদিনের পত্র-পত্রিকা ঘাটলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন। আর যেহেতু ফেসবুক আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের একটা ভান্ডার, সে কারনে এটি হতে পারে অপরাধীদের ভয়ংকর কোন একটা অস্ত্র। তাই ফেসবুক ব্যবহার করার সময় কিছু ব্যাপার লক্ষ্য রাখা এখন অতি জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। ফেসবুকে বা যেকোন স্যোশাল নেটওয়ার্কে নিরাপদ থাকার জন্য নীচের বিষয়গুলোর দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।

  • কারা আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে? সবার আগে যে ব্যাপারটি মাথায় আসে সেটি হলো আপনি কাদের ফ্রেন্ডলিস্টে আনছেন। বন্ধুর সংখ্যা বাড়ানো এখন একটা ট্রেন্ড হয়ে দাড়িয়েছে। চোখ বন্ধ করে অনেকেই যাকে তাকে আমরা ফ্রেণ্ডলিস্টে যোগ করি। এখন তো এমন অবস্থা হয়ছে যে বাস্তব জীবনে একটাও ফ্রেন্ড না থাকলে কি হবে, ফেসবুকে কত ফ্রেন্ড আছে তা দিয়ে অনেক কিছু বিচার করা হয়। কিন্তু যত বেশী ফ্রেন্ড তত বেশী স্যোশাল – এটা ভুল ধারনা। আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে শুধু মাত্র আপনার পরিচিত মানুষজন থাকা উচিত। বাকীরা ফলোয়ার লিস্টে। আপনার পোস্টগুলোর প্রাইভেসী শুধু মাত্র ফ্রেন্ড অনলি করে রাখা উচিত এবং পাবলিক পোস্ট দিলে সেখানে ব্যাক্তিগত তথ্য বা ছবি দেয়া কখনও উচিত না। আর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য বা About Me সেকশনটি একেবারে প্রাইভেসী করে রাখা উচিত যেখানে আপনার ফোন নাম্বার, ইমেইল আইডি, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম বা রিলেশনশিপ রিকোয়েস্ট থাকে – এধরনের তথ্য একেবারেই গোপন রাখা উচিত। মনে রাখবেন আপনার এসব তথ্যগুলোর মালিক কিন্তু আপনি না, ফেসবুক। তারা যা খুশী তা করতে পারবে আপনার এসব ডাটা দিয়ে। আর যতটা সম্ভব ফেসবুকে আপনার লোকেশন ইনফো দেয়া কখনই উচিত না। বিশেষ করে আপনি যদি কোন পাবলিক ফিগার হয়ে থাকেন তাহলে তো অবশ্যই না। অপরিচিত যে কোন মানুষের সাথে চ্যাট করা থেকে বিরত থাকেন অথবা চ্যাট করলেও খুব বেশী কিছু শেয়ার করা বোকার কাজ। ফেসবুকে কার কি এজেন্ডা এটা কেউ বলতে পারে না।
  • আপনার ফেসবুকের প্রাইভেসী সেটিংস আবার চেক করুন।  প্রয়োজন নেই এমন যা কিছু সব প্রাইভেসী দিন। নিজের টাইমলাইন যেন অন্যকেউ পোস্ট করতে না পারে সে ব্যবস্থা করুন।
  • ফেসবুকে অবশ্যই কখন কোন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বা আলোচনা করবেন না। মেসেঞ্জারে কখনও কাউকে কোন ক্রেডিট কার্ড নাম্বার দিবেন না। কখনও নিজের ন্যাশনাল আইডি বা পাসপোর্ট বা যেকোন ধরনের গুরুত্বপূর্ন ডকুমেন্টসের ছবি তুলে দিবেন না, মজা করে হলেও।
  • কখনই, শুধু মাত্র ফেসবুকের পরিচয়ে কারো সাথে দেখা করতে যাবেন না। কখনই না।। বিশেষ করে মেয়েরা যেন এটি খুব ভালভাবে মাথায় রাখে। এভাবে এ নিয়ে অনেক ক্রাইম হয়েছে – খুন হতে ধর্ষন – সব। অতএব সাবধান! নিজের প্রোফাইলে যত কম তথ্য দেয়া যায় ততই ভাল।
  • নিজের পাসওয়ার্ডটি সহজ করবেন না। সবচেয়ে কঠিন আর লম্বা পাসওয়ার্ড দিন। আর হ্যা, অবশ্যই কেউ জানেনা এরকম একটা মোবাইল নাম্বার দিয়ে নিজের একাউন্ট সিকিউর করুন।
  • নিজের কম্পিউটার ছাড়া অন্য কারো কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন দিয়ে ফেসবুকে লগিন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ফেসবুকে অযথা বিবাদপূর্ন কোন স্ট্যাটাস দিয়ে কাউকে আঘাত করে কোন পোস্ট দিবেন না। অনলাইনে শত্রু বাড়িয়ে কোন লাভ নেই। আমাদের দেশে মানুষের নিরাপত্তা এমনিতেই একটু কম। আপনার নিরাপত্তা দিতে তেমন কেউ এগিয়ে আসবে না। তাই যতটা সম্ভব বিবাদ এড়িয়ে চলুন, কন্ট্রোভার্সি এগিয়ে চলুন।
  • সবসময় খেয়াল রাখবেন আপনি কি শ্যেয়ার করছেন বা কার পোস্ট শেয়ার করছেন। কখনও এমন কিছু শেয়ার করবেন না যা হয়তো আপনাকে অপরাধী বানিয়ে দিতে পারে।
  • উল্টপাল্টা লিঙ্কে কখনো ক্লিক করবেন না। অন্তত যেসব ওয়েবসাইট আপনি কোনদিন যাননি, সেসব লিঙ্কে ক্লিক করার আগে ভালভাবে খেয়াল করুন। কিছু ফিশিং লিঙ্ক আছে যেগুলো দেখলে মনে হয় কোন নিউজলিঙ্ক কিন্তু ক্লিক করার পর বলবে এই তথ্য দিতে বা ফেসবুক দিয়ে আবার লগিন করতে। আবার অনেক সময় অনেক ইমেইল আসে যেগুলো দেখলে মনে হয় ফেসবুক থেকে এসেছে এবং বলছে আপনার পাসওয়ার্ড রিসেট করতে। যখনই এটি করবেন তখনই তারা আপনার একাউন্ট হ্যাক করে ফেলতে পারে। তাই সাবধান।
  • এই আর্টিকেলের লিঙ্কে আপনি যখন ঢুকেছেন আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার করে, খেয়াল করেছেন এই লিঙ্কটি খুলতে আপনার আলাদা কোন ব্রাউজার খুলতে হয়নি? ফেসবুকের ভেতরেই খুব দ্রুত খুলে গিয়েছে? খেয়াল করেছেন? ফিডে  লিঙ্কটি যখন আপনি দেখেছেন তখন হয়তো খেয়াল করেছেন উপরের ডান কোনায় একটা “থান্ডার” আইকন আছে ছোট। এর মানে হচ্ছে আমাদের এই ওয়েবসাইটটি ফেসবুক আর্টিকেল ভেরিফাইড এবং নিরাপদ। সবসময় এধরনের লিঙ্কে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনার ঝামেলাও কমবে আবার আপনার এক্সট্রা ডাটাও কাটবে না কারন ফেসবুকের ভেতরেই খুলছে এই সাইট। বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের সব ওয়েবসাইটই এধরনের ফিচার আছে যা ফেসবুক কর্তৃক Approved। ফিচারটি নতুন, এখনও সবাই হয়তো এই ফিচারটি পায়নি যেহেতু কঠিন একটি সিকিউরিটি চেক আছে। কিন্তু বিদেশের বড় বড় সব সাইটগুলো এখন এই ফিচারের আওতায় চলে এসেছে। এবং এগুলো নিরাপদ লিঙ্ক অনেকটা।

আসলে ফেসবুক এখন প্রতিদিনের একটা টুল হয়ে গেছে। কিন্তু জানেন, রিয়েল লাইফ অনেক মজার। রিয়েল লাইফ ফ্রেন্ডশিপ, আড্ডা এগুলো হাজারগুন মজার। ফেসবুকের কারনে আমরা আসলে এন্টি-স্যোশাল হয়ে যাচ্ছি মূলত। বাস্তবজীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। অনেক মজার সময় হারিয়ে যাচ্ছে। সকালে জগিং, বিকেলে মাঠের খেলা বা চায়ের আড্ডা, রাতের টিভি এসবই আমরা আসলে মিস করছি এই ফেসবুকের কারনে। কোথাও গেলে মোবাইলের স্ক্রিন ছাড়া যেন আর কোন কাজ নেই। জীবনের সৌন্দর্য অনেকাংশে হারিয়ে ফেলেছি। বাস্তব উপভোগ করুন নিজের লাইফকে, ফেসবুকে না।

নিরাপদ থাকুন।

আপনার মন্তব্য