মুস্তাফিজ, মুস্তাফিজ, আমাদের মুস্তাফিজ ! !

478
SHARE

দেশ জয়, আইপিএল জন্য আর এখন ইংল্যান্ডের কাউন্টি জয়। মুস্তাফিজ ম্যাজিকের ঝলকানিতে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন চক চক করছে। সে আমাদেরই মুস্তাফিজ। দেশের নাম যে সে কত জায়গায় উজ্জ্বল করে আসল তার কোন হিসেব নেই। এই “ডাউন ট্যু আর্থ” মানুষটির জন্য দেশের মানুষের ভালাবাসারও কোন কমতি নেই। অবশ্য তিনি এটি ডিজার্ভও করেন। ক্রিকেট দুনিয়ার এই বিস্ময়বালক মুস্তাফিজকে চিনে না এমন মানুষ আছে। অন্তত ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোতে। সবার এখন মুস্তাফিজকে চাই। সেটা হোক আইপিএল বা কাউন্টি।

কাউন্টির প্রথম খেলাতেই ৪টি উইকেট, ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ও মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজ যাদু বলতে যা বোঝায়। ক্রিকেট আমাদের দেশটাকে অন্যরকম সম্মান এনে দিয়েছে আর আমাদের দেশের ক্রিকেটারদের একের পর এক সফলতা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে বেশ পজিটিভভাবে চিনিয়েছে। অনেকবারের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব-আল-হাসান, বিশ্বের সেরা ক্যাপটেনদের একজন মাশরাফি বিন মর্তুজা – উনারা আসলে সবাই দেশের জন্য এক একটা গর্ব। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা হলো বাংলাদেশের একমাত্র সত্যিকারের আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটি। হাজারো না পাওয়ার মাঝে এই ক্রিকেটের প্রাপ্তিতা আমাদের কাছে অনেক বড়। পুরো দেশকে এক করে দিতে পারে এই ক্রিকেট। অন্যকিছুতে কি হয় জানিনা, কিন্তু আমরা হয়তো দেখেছি, শুধু মাত্র ক্রিকেট দল পুরো বাংলাদেশকে কিভাবে এক করে দেয়।

যদিও আমাদের ক্রিকেটের উপর বার বার খড়গ নেমে আসে ক্রিকেটের কর্তাব্যাক্তিদের ঠেলায়। কখনও ম্যাচের উপর অন্যরকম প্রভাব আবার কখন খেলোয়ারদের উপর অদ্ভুত সব নিষেধাজ্ঞা। বিশ্ব ক্রিকেটের মাতব্বরগন বেশ ভালই চেষ্টা করে আমাদের ক্রিকেটকে দমিয়ে রাখার জন্য। এখনও মনে পড়ে এক কালে টিভি কমেন্টেটররা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে কত না ঠাট্টা তামাশা করত। খুব খারাপ লাগত তখন। রাগও লাগত। মনে মনে বলতাম, একদিন দেখিয়ে দেব। এখনও যে করে তা না। তারা এখনও বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক তামাশা করতে চায়। কিন্তু কেইসটা এখন ভিন্ন। বাংলাদেশ এখন আগের বাংলাদেশ না। অনেক কিছু বদলে গেছে। আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্ব দরবারে সুনন্দিত। এত সোজা না বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তামাশা করা। অন্যান্য সব দেশ ক্রিকেটে বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহ করে চলে। এককালের “অঘটন” এখন নিয়মিত ঘটন এবং এটাই বাস্তব। যেকোন দলকে যেকোন মূহুর্তে হারাবার ক্ষমতা আমরা রাখি। ভারত পাকিস্তান তো রীতিমত নার্ভাস থাকে বাংলাদেশের সাথে কোন ম্যাচ থাকলে। সোজা পথে না হলে বাকা পথে হলেও বাংলাদেশকে হারাতে চায়। এসব নাটক তো আমরা কম দেখিনি। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটাররা মাথা ঠান্ডা রেখে এসব সহ্য করে আজ অন্যরকম  একটা লেভেলে উঠে এসেছে। অনেক কস্ট করে এসেছে তাই সহজে কেউ নামাতে পারবে না। এসব অর্জন অনেক কঠিন। আর এই কঠিন কাজটাই তারা করেছে।

বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট ম্যাচ থাকলে সেদিন যেন দিনটাই অন্যরকম। কখন মাশরাফি আসবে, কখন সাকিব ব্যাটীং করবে, কখন মুস্তাফিজ বোলিং করবে, কখন তামিম ছক্কা পেটাবে – এগুলোর জন্যই যেন বসে থাকা। উত্তেজনা আর দোয়া – দুটোই থাকে মানুষের মনে। আর আমার মতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দর্শক সারা পৃথিবীর সেরা দর্শক। ইন্ডিয়াতে এক ম্যাচ হারলে দর্শকরা খেলোয়াড়দের বাড়ির সামনে লাঠিসোঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, পাকিস্তানে তো পারে না মেরেই ফেলতে। আর আমাদের দেশে, হারি বা জিতি… তাদের বরন করে নেই বীরের বেশেই। মাঠে বোতল ছুড়ে মারি না, মন খারাপ করে গালি দিয়ে বসি না। কারন আমরা জানি, ক্রিকেট আমরা সহজে পাইনি, আমাদের ক্রিকেটাররাও সহজে ক্রিকেটার হয়নি। তাই আমরা জানি কোথায় কিভাবে বিহেভ করতে হয়।

মুস্তাফিজের তো সবে মাত্র শুরু। সামনে অনেক দিন আছে। সম্ভবত তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বাঘা বাঘা বোলারদের খাতায় নাম লিখাবেন শীঘ্রই। লিভিং লিজেন্ড বলতে যা বোঝায় আর কি। সামনে আরও অনেক নতুন যুদ্ধ আছে তাদের জন্য। কিন্তু মুস্তাফিজরা আমাদের মনে যে জায়গা করে নিয়েছে, তা আজীবন থেকে যাবে।

মুস্তাফিজের আরও অনেক নতুন চমকের অপেক্ষার আছি আমরা বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে, এই ক্রিকেট আমাদের দেয়ার  জন্য যার জন্য আমরা আজ লিখতে পারি, বলতে পারি, গর্ব করতে পারি। তোমরাই হিরো – দ্যা রিয়েল হিরো।

আপনার মন্তব্য