জংগীদের ইন্টারনেট !

আইএস জঙ্গী গোষ্ঠীর এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ইন্টারনেট। বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্বে প্রতিষ্ঠানের মতে আইএস এর বেশীরভাগ টুইটার মেসেজ পোস্ট করা হয় সৌদি-আরব, কুয়েত এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকট দেশ থেকে (সুত্র – বিবিসি)। সাধারনত আইএস তাঁদের টুইটার একাউন্টে তাঁদের নানা ধরনের হামলা, অপারেশন, সুইসাইড মিশন, হত্যা ইত্যাদির সম্পুর্ন বিবরন দেয়। কখন কোন দেশে বা কোন জায়গা তার দখল করে নিয়েছে বা নিয়ন্ত্রন নিয়েছে তার তথ্যও তাঁদের টুইটার একাউন্টে নিয়মিত আপডেট করে। তারা বেশীরভাগ সময় ২টি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে – #Baghdad_is_liberated” এবং “Iraq_is_liberated”। আর এভাবে স্যোশাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করে তারা সবার দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করে। নিজের নৃশংসতা আর ভয়াবহতাকে তুলে ধরে মানুষের ভীতিকে কেনার চেষ্টাটা তারা মূলত এভাবেই করে।

এগুলো ছাড়াও টুইটার এবং ফেসবুকে আইএস এর বেশ কয়েকটা অ্যাপ আছে যেগুলো আসলে ইউজার একাউন্টকে এক রকম হ্যাক করে আর যেকোন ইউজারের প্রোফাইলে তাঁদের পোস্ট গুলো নিজে থেকেই আপলোড করে দেয়। ছদ্মবেশে থাকা এসব প্রোগ্রামগুলো প্রথম অবস্থাতে একেবারে বোঝায় যায় না। কারন যত বেশী মানুষ তাঁদের বার্তা শেয়ার করতে ততই তাঁদের মার্কেটিং হবে। ততই তারা ত্রাস সৃষ্টি করতে পারবে। তাঁদের এজেন্ডা ততটাই শক্ত হবে। তাঁদের পোস্ট গুলোতে নৃশংস সব ছবি আর মানুষ হত্যার ভিডিওগুলো তারা মানুষের মাঝে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যই ব্যবহার করে। ইরাক এবং আরও কয়েকটি দেশে ফেসববুক আর টুইটার ব্লক করে দেয়া হলেও কার্যত খুব একটা ইফেক্টিভ হয়নি আইসিস কে ঠেকানোর জন্য। কারন তারা এখন তাঁদের গ্লোবাল ক্যাম্পেইন করছে।

এখানে সাইট ইন্টেলিজেন্স – যা আইএস এর সব পোস্ট করা খবরের আগাম খবর দেয়, তাঁদের নিয়ে বড় একটা প্রশ্ন আছে। আইএস কোথায় কি করছে না করছে তার খবর সবার আগে পায় সাইট ইন্টেলিজেন্সের রিটা কার্টজ। প্রথম অবস্থায় ব্যাপারটা বোঝা না গেলেও পরে গিয়ে মনে হয় এই সাইট ইন্টেলিজেন্স সম্ভবত আইএস এর কোন মিডিয়া উইং। সাইট ইন্টেলিজেন্সের প্রতিষ্ঠাতা রিটা কার্টস একসময় ইসরায়েলের সিক্রেট এজেন্সী মোসাদ এর সক্রিয় সদস্য ছিল। বাংলাদেশের গুলশান হামলার প্রথম বার্তা-ছবি রিটা কার্টজের মাধ্যমেই অনলাইনে এসেছিল। আইএস কোথাও কিছু করলে ছবি ভিডিও নাকি রিটা কার্টজের কাছেই পাঠিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। কানেকশনটা বড় অদ্ভুত!

এছাড়াও টুইটার এবং ফেসবুকে আই এস আর আছে হাজার হাজার একাউন্ট – সবই ছদ্মবেশে। ফেসবুক ব্যবহার করেই আইএস তাদের রিক্রুটমেন্ট চালায়। এ ব্যাপারে একটু বিশ্লেষনধর্মী আর্টিকেল আমরা পাবলিশ করব যে কিভাবে আইএস ইন্টারনেট ব্যবহার করে নতুন সদস্য খোঁজে।

প্রযুক্তি আমাদের অনেক কিছু দিলেও কেড়ে নিচ্ছে অনেক কিছুই। সাধারন মানুষরা যেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে তেমনি আইএস এর মত সন্ত্রাসী বাহিনীরাও ব্যবহার করছে সেই একই প্রযুক্তি। আর এদের ঠেকানোর জন্য প্রযুক্তি কিন্তু নিরুপায়। অতএব ইন্টারনেটে ব্যবহারে আরো সাবধানী হোন। কারন তাদের পরবর্তী শিকার হতে পারেন আপনিও!

এনিয়ে আমাদের আসছে কিছু নতুন ভিডিও। যদে দেখতে চান, তাহলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি। লিঙ্ক – Youtube.com/bangladeshism

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in