ISIS যেভাবে “জিহাদি” সংগ্রহ করছে | তরুণেরা সাবধান!

1154
SHARE

ISIS – যুদ্ধ আর ত্রাস ছড়াচ্ছে বিশ্বময় ! একথা আজ সারা বিশ্ব জানে । কিন্তু তার চেয়ে বড়  কিছু, ভয়ংকর কিছু  করে চলেছে ISIS সারা বিশ্ব জুড়ে; সবার অন্তরালে !! কি সেটা ?!?!?! আসছি সে কথায় ! কিন্তু তার আগে কিছু বিষয় আমাদের বুঝতে হবে ! তাহলে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে ! কারণ, এটি যতনা জানার বিষয় তার চেয়ে বেশি উপলব্ধির বিষয় !

গল্প, কাহিনী বা চলচ্চিত্রে পাঠক বা দর্শক সব সময় ভালো চরিত্রের প্রতি সমব্যাথী হয় ! নিজের অজান্তে তারা ঐ চরিত্রের সাফল্য কামনা করে । চরিত্রের নায়কোচিত কার্যকলাপ পাঠক ও দর্শককে অনুপ্রাণীত করে নিজেকে তার স্থানে কল্পনা করতে ! এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদী এবং সুপ্ত ! হঠাৎ করে তা জাগ্রত হয় উপযুক্ত পরিবেশ পেলে !  ISIS এর খেলা এখানেই !!!

ISIS যতই  হম্বিতম্বি করুক না কেন যে তারা  সারা বিশ্বে অদ্ভুত ধারার এক ইসলাম কায়েম করে ছাড়বে, কেউ তাদের  প্রতিরোধ করতে পারবেনা … , বাস্তবে তারা  কখনই তা চায়না ! আর  এটা তাদের  অজানা নয় যে এটা শুধু অযৌক্তিকই নয়, অসম্ভবও  !!! আসলে তাদের পরিকল্পনা দীর্ঘ মেয়াদী ! তারা এখন একটা বিষ ফোঁড়ার মত ! চারপাশে তারা টনটনে ব্যাথা ছড়িয়ে যাচ্ছে ! কিন্তু প্রকৃত লক্ষ্য আস্তে আস্তে নিজেকে একটা ক্যান্সারে পরিণত করা !!! এই সংগঠনটিকে যে শুধু মুসলিমদের শক্তি , সামর্থ আর শান্তি নষ্ট করার জন্য তৈরি করা হয়েছে তা নয় । পৃথিবীর সকল ধর্মের মানুষকে অশান্ত করে তুলতে বিরাট আয়োজন করে চলেছে ISIS !!!

তার জন্য সংগঠনটিকে শুধু  টিকে থাকতে হবে !  সে জন্য শুধু আমেরিকা আর ইসরাইলের অস্ত্র, সমর্থন  আর টাকা হলেই চলবেনা ! জনবলও  লাগবে ! ছড়িয়ে দিতে হবে মতাদর্শকে ; তৈরি করতে হবে কিছু সুপ্ত মানব বোম্ব , যা নিজের মত করে সক্রিয় হবে !  ত্রাস ছড়াতে হবে না ?! এ আর এমন কি সারা দুনিয়া জুড়ে এসবের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েই আছে ! শুধু মাথা খাটিয়ে খেলতে হবে !

তাহলে কিভাবে চলছে এই জনবল যোগাড় ও মতাদর্শ ছড়ানোর কাজ ?!

ISIS ঘরে ঘরে এসে যুদ্ধের দাওয়াত দিয়ে যায়নি ! বিশ্ব জুড়ে সার্কুলারও দেয়নি ! কি করে তাহলে তাদের জনবল বাড়ছে ?! বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের মতাদর্শের সমর্থক পাওয়া যাচ্ছে ?!

উত্তর হলঃ ISIS হাত বাড়িয়ে রেখেছে। আগ্রহীদের  শুধু  সেই হাতটা গিয়ে ধরতে হবে ! এখন কথা হল মুসলিমরা  কেন আগ্রহী হবে ?! আসলে, সারা বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চলছে । অসহায় নিষ্পাপ নারী শিশুরা মরছে । মুসলিম দেশ গুলোর সরকার গুলো দীর্ঘ দিন ধরে মৌনতা আর ব্যার্থতা দেখিয়ে আসছে এইসব সমস্যা সমাধানে ! সেসব জনমনে ক্ষোভ, হতাশা আর প্রতশোধ স্পৃহা তৈরি করেছে । ISIS এই প্রতশোধ স্পৃহাকেই দারুণ বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজে লাগাচ্ছে নিজের লক্ষ্য পুরনের জন্য ! অর্থাৎ,  মুসলিমদের মেরে , মুসলিমদের উত্তেজিত করে, মুসলিমদের ধ্বংস করতে মুসলিমদেরই ব্যাবহার করছে তারা !!!

এই কাজে তারা ব্যাবহার করছে ইসলামের ও  কুরানের কিছু ভুল ব্যাখ্যাকে । বস্তুত, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই নিজের ধর্ম সম্পর্কে তেমন একটা জানেনা , শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করে মাত্র ! মুসলিমদেরও বিরাট অংশের একই অবস্থা ! ধর্মের ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে মানুষ শোনা কথায় বিশ্বাস করে অভ্যস্ত ! ধর্মের কথা আসলে সেখানে মাথাখাটানোটা পাপ ! যা শুনবে তাই পালন করবে – চিন্তা ভাবনা অনেকটা এরকম ।   আর ISIS  এর খেলা এখানেই । তারা আত্মত্যাগ, জিহাদ, ও হত্যা সম্পর্কিত কোরানের বিভিন্ন আয়াতকে ব্যাবহার করছে একাজে । কিন্তু খুব চালাকির সাথে । কিভাবে ?! কোরানের সূরা ও আয়াত গুলো বিশেষ পরিস্থিতিতে, বিশেষ কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে । বিশেষ ঐ আয়াতের অর্থ বুঝতে হলে তার আগে পরের সব কিছু পড়তে হবে । নাইল হবার ইতিহাস অ কারণ সহ । যা মুসলিমরা করেনা, করছেনা । তাই তাদের ব্যাবহার করা সহজ হচ্ছে  !!!

ISIS কোন রাজনৈতিক দল না, সামজিক সংগঠন না । এটা একটা উগ্রবাদী সংগঠন । এদের কোন দলীয় নীতিমালা নেই ! এদের একমাত্র ভরসা আশান্ত মুসলমানদের মনে ধর্মীয় বানীর ভুল ভাল উপস্থাপনের মাধ্যমে উগ্রতা ছড়িয়ে দেয়া ! তারা ইবাদাত করতে বলছে, তারা হারাম কাজ করতে নিষেধ করছে, তারা অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকতে বলছে বিভিন্ন আয়াত দিয়ে ! মানুষ সেটা শুনছে ও  মানছে । এগুলো ভাল কথা, বিবেক সমর্থন দিচ্ছে , কেউ আয়াত খুঁজতে যাচ্ছে না !  কেন যাবে ?! সব তো ঠিকই আছে !! এবার  সাথে  ব্যাবহার হবে মুসলিমদের উপর চালানো অত্যাচার আর নিপীড়নের চিত্র ; যেটা মানুষকে উত্তেজিত করে তুলবে  ! তারপরই তারা আরেকটা আয়াত ব্যাবহার করছে অত্যাচারীদের হত্যা করার জন্য ! পূর্বের আয়াত গুলোও সবাই বিশ্বাস করেছে , এটাও করবে ! ১০টা ভালো মালের সাথে একটা মাত্র একটা খারাপ মাল !!! কে বুঝবে , তো সময়ই বা কোথায় !!! সন্দেহ করবে ?! বাঘের খাঁচায় ধুঁকে বাঘকে সন্দেহ করার কোন সুযোগ নেই । বাঘ তোমাকে খেয়ে ফেলবে ! পালানোর পথ ও রুদ্ধ !

ঠিক আছে, বাঘের খাঁচায় ঢুকবনা !

হ্যাঁহ… তুমি না ঢুকলে আরেক জন ঢুকবে , দুলিয়ায় কি ছাগলের অভাব ?!?!?! আমাদের অত বড়  Online Network …..!!! Propaganda চলবে একশ একশ !!! ছাগল আপনি ই আসবে বাঘের গুহায় !!!

তাহলে উপায় ?!?!?! সব বন্ধ করে দিব ?!?!

নাহ, সচেতন হও  ! হৃদয়ের সব বন্ধ জানালা খুলে দাও ! ধর্ম পালন কর সচেতন ভাবে !

তাহলে মধ্যপ্রাচ্য ?!?!?     

দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান দীর্ঘমেয়াদী হয় ! হুট করে হয় না !  

আপনার মন্তব্য