কল্যানপুরের জঙ্গী অভিযান নিয়ে কেন সন্দেহ?

105596
SHARE

কল্যানপুরের ঝড়ো অভিযানে জংগী হত্যার বিষয়টি নিয়ে এখন চলছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোনা। আর তারই মাঝে ঠাই নিয়েছে অনেক সন্দেহ।  স্যোশাল মিডিয়া জুড়েই দেখা যাচ্ছে সন্দেহের কালো ছায়া। ব্যাপারটা নিয়ে দেখা যাচ্ছে বিভক্তি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন বেশ কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে বিশেষ করে অপারেশনের পর যখন পুলিশ ছবি শেয়ার করে সবার সাথে। অনেকেই বলছেন এত গোলাগুলিতে শুধু জংগী কেন মারা গিয়েছে? পুলিশ মরে নাই কেন? – তবে এই প্রশ্নটা বড়ই অদ্ভুত! সাধারন মানুষ মারা গেলে কাদের ভাল লাগে ব্যাপারটা জানা দরকার সেক্ষেত্রে।

ক্রটিসিজম থাকবে তবে অত্যাধিক সমালোচনা খুব একটা সবাস্থ্যকর না। মাঝে মাঝে বুঝিনা আসলেই এদেশের মানুষ কি চায়? গুলশানের হামলা হবার পর যখন সাধারন মানুষের মৃত্যু ঠেকানো গেল না তখন এক ধরনের রিএকশন। আর এখন জংগী যখন আগে ধরে পড়ে গিয়েছে তখন উল্টো রিএকশন? কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড? তাহলে এই জংগীরা কি কোথাও হামলা করে মানুষ মারলে তবেই ভাল হত?

আমাদেরই ওয়েবসাইটে এবং পেজে একজন বিশাল এক কমেন্ট করেছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো একই কমেন্ট নানা আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে একই জায়গায় শুধু দেখানোর জন্য কমেন্টগুলো অনেকেই করছে। সেই কমেন্টের কিছু সন্দেহের উত্তর আবার অন্যান্য ফ্যানরাই দিয়ে দিয়েছেন। যেমন

” জালায় নীলরঙের পর্দা ছিল। সেটার একদিক খুলে সেখানে নতুন ঝকঝকে আইএস-এর কালো পতাকা টাঙিয়ে ফটো সেশন করে পুলিশ। আবার এটা জানালার চেয়ে ছোট সাইজের। এমন আবাল কাজ করে ধরা খাওয়ার কি দরকার ছিলো? এটায় ফিঙার প্রিন্ট কিন্তু পাওয়া যাবে পুলিশের।”

এর উত্তরে আরেকজন ছবি দেখিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন এটাই সে জায়গা যেখানে নিব্রাসরা ছবি তুলেছিল। 1111

222

অনেকেই বলছেন জংগীরা কি কালো পাঞ্জাবী আর জুতো পরেই ঘুমাচ্ছিল নাকি? পালানোর জন্য যখন কোন অপরাধী সময় পায়, তাহলে সে তো প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে। প্রথমবার যখন পুলিশ তাদের দরজায় নক করে তখন গোলাগুলি হয়েছিল কিন্তু এরপর অনেকক্ষন কর্ডন করে রেখেছিল বাড়িটা। মাঝখানে যথেষ্ট সময় ছিল পালানোর প্রস্তুতি নেয়ার। এররকম আরো অনেক প্রশ্ন আছে মানুষের যার লজিক্যাল উত্তরও আছে।

আমাদের মূল সমস্যাটা যে কোথায় আসলেই আমরা তা জানিনা। জংগী হামলা হলেও দোষ, হামলা হবার আগে ঠেকালেও দোষ। সব কিছুতেই রাজনীতি চলে আসে, সবকিছুতেই বিভক্তি। যেকোন ইস্যুতে দেশের মানুষ দুভাগ হয়ে যায়। একতা বলতে, ঐক্য বলতে কিছুই নেই। গুলশানের এতগুলো মানুষ মারা যাবার পরেও আসলে আমাদের কোন শিক্ষা হয় না। এখন যদি কাল কোথাও আবার জংগী হামলা হয় অথবা কল্যানপুরে যেসব মরেছে তারা না মরে গিয়ে যদি কোথাও হামলা করত, তখন প্রশ্নটা এরকম হত “পুলিশ কিছু করেনি কেন? এত সাধারন সন্ত্রাসীগুলোকে পুলিশ আগে ধরতে পারেনি কেন?”।

অনেকেই বলছেন সরকার ড্রামা করছে। আচ্ছা কথার ছলে মেনে নিলাম সরকার ড্রামা করছে। তো আমরা কি করছি? মেলোড্রামা না? ঠিক কোন টাইমে কোনদিন কে সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য একবেলা ভাবছে? এরকম কতজন মানুষ আছে? কতটুকু সিরিয়াস? গুলশান হামলার পর ১০১ টা সন্দেহ আর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলাম আর এখনও ঠিক তাই করছি। এই ফাকে মদদ পাচ্ছে আসলে জংগীরাই। আমাদের মধ্যে আসলেই কোন একতা নেই। শুধু প্রশ্ন করার জন্যই করি কিন্তু করার আগে মনে হয়না ততটা ভাবি। এখন যদি পুলিশ নিস্ক্রিয় হয়ে বসে থাকে, তাহলে দেখা যাবে আরো ২০০ প্রশ্ন ছুড়া হবে। তো তারা করবেটা কি? হামলা হবার আগেই নিরাপত্তা দিবে নাকি হামলার পর লাশের পাশে বসে নিরাপত্তা দিবে? কোনটা চায় মানুষ?

বুঝলাম, ফ্রিডম অব স্পিচের যুগ এখন, কিন্তু তার আগে, ফ্রিডম অব মাইন্ড টা মনে হয় আমাদের জন্য অনেক জরুরী। নিজেদের মধ্যকার দন্দ হতে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে দেশের জন্য, নিজের জন্য। কারন দেশ টিকলে সবাই টিকবে। দেশের বড় বড় ব্যাপারগুলো নিয়ে মানুষের কোন চিন্তাই নেই এখন! রামপাল নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। যেখানে ব্যাথা দেখানোর প্রয়োজন নেই সেখানে লাইন লেগে আছে সন্দেহের। অথচ নাকের নীচ দিয়ে সুন্দরবন শেষ হতে যাচ্ছে।

যাই হোক, হয়তো সুদিন আসবে। তবে তার আগে আমাদের চিন্তাধারাকে আরো সুস্থির করে তুলতে হবে। যেদিন আমরা তা করতে পারব, সেদিন সব বদলে যাবে।

আপনার মন্তব্য