নেই ঐক্য, আছে শুধুই বিভক্তি

4426
SHARE

আজকাল লক্ষ্য করা যায় আমরা সবকিছুতেই নিজেরা নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমার ধর্ম এটা তো আপনার ওটা, কেউ পাকিস্তানিদের দালালি করছেন তো কেউ আবার ভারতের, কেউ এক রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী তো কেউ অন্য আরেকটি। এই হচ্ছে অবস্থা যেন বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই উন্মাদনা পেয়ে বসেছে কিছু কিছু চিন্তাবিদদের যাদের ভাব, আপনি আর্জেন্টিনা তো আমি ব্রাজিল। সব কিছুতেই যেন বিরোধিতা আর কুতর্ক… দেশের স্বার্থ নিয়ে খুব একটা কেউ ভাবছিনা। এমন কিছুই কি নেই যেখানে দেশের স্বার্থে ও কল্যাণে একই সুরে সুর মেলাতে পারি… অনেকেই হয়ত মনে মনে ভাবছেন ছিঃ ছিঃ কিসের সুর আর মিলামিলি? নাউজুবিল্লা…!

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক, বারংবার জঙ্গিদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছে সাধারণ জনগণ সর্বোপরি আমাদের এই মাতৃকা। সোনার বাংলা দিন দিন যেন জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার আভাস দিচ্ছে। যদিও বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ নির্মূলে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে তা প্রতিরোধ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ও প্রশাসনকে সমর্থন না জানিয়ে অনেকেই আছে যারা অপারেশনের ফল্ট খুঁজে বেড়াচ্ছে, জঙ্গিদের নিরপরাধ প্রমাণ করতে তাদের পক্ষে মিথ্যে সাফাই গাচ্ছে। তাদের উদ্দ্যেশেই বলছি- লজ্জা করেনা এমন সেন্সেটিভ অপরাধজনিত ব্যাপারগুলোতে কাল্পনিক উধাহরন ও প্রমাণ সাজিয়ে প্রশাসনের সফলতাকে অহেতুক বিতর্কিত করার প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত আছেন…! লজ্জা থাকবে কোত্তেকে…! লজ্জাতো বরং আমরাই পাচ্ছি আপনাদের মত হীনমন্য কিছু মানুষের এইসব বাঁদরামো দেখে।

অপরাধ সবসময় অপরাধই, অপরাধের বিরোধিতা করলেই এখানে এমন কোন সস্তা কথা বলার অবকাশ নাই যে বলবেন- আপনি অমুকের পক্ষ পাতিত্ত করছেন … হ্যাঁ এটা ঠিক যে আমাদের সকলেরই পক্ষ পাতিত্ত করা উচিত সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে সর্বোপরি দেশের স্বার্থের পক্ষে। আর যে যাই কিছুই ধারণ করেননা কেন অন্তত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের কল্যানে দ্বিমত থাকতে পারেনা কারোই, সংবিধান তাই বলে। আর যদি দ্বিমত থেকে থাকে তবে দেশে থাকার নৈতিক অধিকার আপনি হারিয়েছেন, আপনাকে আপনার ভাবধারার কোন দেশে পারি জমানোর কথা ভাবতে হবে এখনি। এখনো অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অতি নগণ্য একটি অংশ মনে করে পাকিস্তান থাকলেই বোধয় ভাল হত, থার্ড ক্লাস নাগরিকের মত থাকলেও মনে মনেতো তারা ভাই (পাকিরা)…! বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনই যেন তাদের কাছে অভিশাপ। আর এই সমস্ত চেতনায় বিশ্বাসী গোঁয়ার মূর্খ কুলাঙ্গাররাই দেশের প্রায় প্রতিটি ভাল উদ্যেগে অন্তরায় সৃষ্টি করে প্রতিনিয়ত। তারা তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জানান দেয় দেশ বিরোধিতার। ধর্ম ভিরু এই জাতিটাকে এইসব নগণ্য অমানুষগুলি পথব্রষ্ট করার চেষ্টায় প্রতিনিয়ত লিপ্ত। আজকের এই জঙ্গি উত্থান তারই ধারাবাহিকতার অংশ, অনেক তথাকথিত চিন্তাবিদ জঙ্গিদের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে একদিকে বলছে- তারা আল্লাহর ইবাদত রক্ষায় আর ইসলাম কায়েম করতেই এই কাজগুলি(সন্ত্রাসবাদ) করছে, আবার আরেকদিকে বলছে সরকার নিরাপরাধ ভাল ছেলেদের জঙ্গি বানিয়ে মেরে ফেলছে..! তার মানে কি? জাতীর কাছেতো জঙ্গিবাদের এই বিষয়টি স্পষ্ট। এই জাতীয় বক্তব্য কি পক্ষান্তরেই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের সমর্থন দিচ্ছেনা। কেউ হামলা করবেতো কেউ তাদের ভাল বলে প্রটেক্ট করার চেষ্টা করবে, যেভাবেই হউক উদ্দেশ্যতো এক। জঙ্গি দমনে ব্যার্থ হলে তারাইতো আগ বাড়িয়ে বলবে সরকার ব্যার্থ হয়েছে।

গুলশানের হলি আর্টিসানসহ শোলাকিয়া এবং সর্বশেষ কল্যাণপুরে কমান্ডো ও স্পেশাল এলিট ফোর্সের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল সংখ্যক জঙ্গি নিধন হয়েছে, সর্বমহল এই উদ্যেগ ও সফলতাকে সমর্থন দিয়ে সাধুবাদ জানালেও কিছু মানুষরুপি কিট আছে যাদের পিত্তি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিদের গায়ে লাগা প্রতিটি বুলেটই যেন তাদেরও জাজরা করে ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে। দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের ন্যায় কোথায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবে, কোথায় প্রশাসনের এই বীর সেনাদের ধন্যবাদ দেবে যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশকে বড় কোন ইন্সিডেন্ট থেকে মুক্ত করেছে, কিন্তু তা না এটা ওটা বলে প্রমাণ করতে চাচ্ছে তাদের নিধন করাটা উচিত হচ্ছেনা। বাঁচিয়ে রেখে তাদের দুধ ভাত খাওয়ানোটাই কি ভাল হত…?

তাই এখনি সময় সেইসব কিটদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, যারা বিভিন্ন মহল থেকে জঙ্গিদের সমর্থন ও মদদ দিয়ে যাচ্ছে এবং একই ভাবধারায় বিশ্বাসী হয়ে অনলাইনে প্রলাপ বকছে। জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসাটাই এখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসুন কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে রুখে দিই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের এই অপতৎপরতা।

আপনার মন্তব্য