রামপালের আসল বিপর্যয়টা ঠিক কোথায়?

41121
SHARE

সুন্দরবনের রামপালে নির্মিতব্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারনে পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথা আমরা কমবেশী সবাই একটু হলেও বোঝা শুরু করেছি। যদিও বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হচ্ছে পরিবেশগত কোন ক্ষতি হবে না অথবা বিদ্যুৎএর প্রয়োজন অনেক বেশী। নানা জায়গায় মানুষের মতামতে এগুলো উঠে আসছে। আবার নীতি নির্ধারকরাও এগুলো বলছেন।

আচ্ছা ঠিক আছে। কোন এক দৈবক্রমে ধরা যাক রামপালের বিদ্যুতকেন্দ্রের কারনে পরিবেশগত কোন ক্ষতি হবে না। ওকে, ফেয়ার এনাফ। কিন্তু এর সামাজিক প্রভাবটা ঠিক কি রকম হতে পারে? এই কেন্দ্রের মালিকানা অর্ধেক বাংলাদেশের আর অর্ধেক ভারতের। কিন্তু কেন্দ্রটি হচ্ছে বাংলাদেশের সীমানার ভেতর – বলতে গেলেই মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে খুব একটা কাছেই। সুন্দরবনে আছে শত শত কোটি টাকার সম্পদ। মাছ, চিংড়ি, কার্বন, বন্যপ্রানী – কি নেই সেখানে। যদি কেন্দ্রটি চালু হবার পর যখন খারাপ ইফেক্টগুলো দেখা যাবে তখন নিঃসন্দেহে একটা বৈরিতা মানুষের মধ্যে তৈরী হবে, এপার আর ওপার। যেহেতু বাংলাদেশী সীমানার ভেতর, সেহেতু ক্ষতির কারনে এদেশী মানুষের বা সেই এলাকার মানুষের ক্ষোভটা একটু বেশীই থাকবে। যদি এমন কিছু হয়, তাহলে কি সেসময় মানুষ আন্দোলনে নামবে? কোন ধরনের সক্রিয় আন্দোলন? আন্দোলনে নেমে কি সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপর চড়াও হবে মানুষজন? কোন ধরনের সাম্প্রদায়িক বৈরিতা কি হতে পারে? আর যদি ক্ষোভে মানুষ সেই কেন্দ্রে কোন কিছু ঘটায়, তাহলে ভারত কি কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রের আশেপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রন নিজের হাতে নিবে? যেহেতু তারাও মালিকানায় আছে, সেহেতু, তারা কি চাইলেই কেন্দ্রের নিরাপত্তার অজুহাতে সুন্দরবনের বেশ বড় কোন অংশ সিকিউর করে ফেলবে এবং প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিবে? এভাবে কি সুন্দরবন বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যাবে? এমন কোন সম্ভাবনা আছে কি? আর একারনে কি বছরের পর বছর কোন ধরনের বৈরিতা চলতে থাকবে? পরিবেশগত বিপর্যয়ের কথাটা বাদ দিলাম, কিন্তু এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কি অন্যকোনভাবে দেশের ক্ষতি করবে?

একজন সাধারন মানুষ কিভাবে বুঝবে সালফার-ডাই-অক্সাইড দিয়ে ক্ষতি হতে পারে বা কার্বন ইমিশন কি করতে পারে পরিবেশের? দেশের কতজন মানুষ বুঝবে সেই কথা? কিন্তু এই কেন্দ্রের কারনে কি রাষ্ট্রের অন্য কোন ক্ষতি হবে যেটা খুব পার্মানেন্ট? ধরুন আমি আর আপনি মিলে একটা ব্যবসা শুরু করলাম যেখানে দুজনেরই সমান অংশীদারিত্ব আছে। আপনি খালি জায়গা দিলেন ব্যবসার জন্য, কিন্তু অংশীদারিত্ব আমি সমান দাবী করলাম। বন্ধু হবার কারনে আপনি তা মেনে নিলেন (বাস্তবে জীবনেও আমি মেনে নিব না)। ব্যবসা চালু হবার কিছুদিন পর কোন একটা ঝামেলা হলো। ব্যবসার কারনে হয়তো এলাকাবাসীর কোন ক্ষতি হলো। যে কারনে আমি ঠিক করলাম আমি সেই জায়গাটা পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব নেব। আপনার সে জায়গাটা নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসব আর আপনাকে দেখালাম যে ব্যবসার নিরাপত্তা বলে কথা – আমার অনেক টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে দখল করে রাখলাম। নিরাপত্তা এমনই যে আপনি নিজেই ঠিক মত এক্সেস করতে পারছেন না, বা আপনার জায়গায় আপনার নিজের ঢুকতে আমার পারমিশন নিতে হচ্ছে। ঠিক এমনটাই কি হতে পারে সুন্দরবনের কপালে? পরিবেশগত বিপর্যয় পাশে রাখলাম। কিন্তু যদি এমন হয় তখন আমাদের ঠিক কেমন লাগবে?

প্রশ্নগুলো ছুড়ে দিলাম সবার দিকে, তবে উত্তর আমাদের জানা নেই। যদি আপনারা জেনে থাকেন, তাহলে সিদ্ধান্ত নিন, কি করবেন। আমাদের বিশ্বাস, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিরাশ করবেন না।

আপনার মন্তব্য