প্রতি ৮৪ ঘণ্টায় একটি আইএস হামলা ! ! !

10342
SHARE

কিছু দিন  আগে একটি আর্টিকেলে আশংকা প্রকাশ করেছিলাম যে , ISIS সারা বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপ  জুড়ে মুসলিম ভীতি আর ক্ষোভ ছড়িয়ে দিতে চাইছে ! আর আজ ৩১শে  জুলাই ২০১৬, CNN এর International Edition এ” ‘One ISIS attack every 84 hours’ spurs dread and anger in Europe”  শিরোনামে বিশ্লেষণ ধর্মী এই প্রতিবেদন…!!!

আমরা যেই পথে ভাবছিলাম সেটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে , সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে আমরা মুসলমানদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি ! কিন্তু CNN এর আজকের এই রিপোর্ট আমাদের আস্থা যোগাল যে আমরা সঠিক পথেই ভাবছি !

প্রতিবেদনটিতে রিপোর্টার Atika Shubert এর ২ মিনিটের একটি  AV যুক্ত করা আছে । Atika Shubert  তার প্রতিবেদনে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করে বিশ্লেষণ করেছেন । যেমনঃ

১। তিনি বলেছেন,  ISIS attracts & Exploits Vulnerable Individuals- আমরাও ঠিক এই কথাটিই বোঝাতে চেয়েছিলাম আমাদের তরুণদের, যে ISIS তোমাদের ব্যাবহার করছে । বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালিয়ে তারা  তোমাদের রাগিয়ে তুলছে ! তারপর সারা পৃথিবীর মানুষের মনে মুসলমানদের জন্য ঘৃণা তৈরি করতে তোমাদেরই ব্যাবহার করছে !

২। তিনি আরও বলেন, ISIS is Quick to claim Ownership even there is little direct evidence ISIS was involved – ঠিক তাই হচ্ছে ! পৃথিবীর যেখানে যা হচ্ছে ISIS নিজেদের বলে তাৎক্ষণিক দাবি করছে ! তারা  চাইছে চারদিকে একটা ত্রাস তৈরি করতে !

৩। Atika Shubert ইউরোপে সাম্প্রতিক এইসব ISIS Attack  কে Terrorist attack  বলতে রাজি নন ! তাঁর মতে Terrorist attack এর সংজ্ঞানু্যায়ী যে কোন  Terrorist attack এর পেছনে ২টি লক্ষ্য কাজ করবে ; যথাঃ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ ; আর সেই উদ্দেশ্য পুরনের জন্য জনমনে ভয় সঞ্চার করা ! যার কোনটিই নেই ISIS এর !    ( Definition of a Terrorist attack ( according to Merriam – webster ) :The use of a violent act to instill fear in order to achieve a political goal .)

So, No Political Motivation, No Terrorist Attack . সতরাং , যেখানে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই সেটা Terrorist attack নয় ।

৪। তিনি আরও বোঝাতে চেয়েছেন যে,  , এগুলো যে Terrorist attack  নয় , বরং ২ / ১ জন অত্যাচারিত তরুণের বিভ্রান্ত উম্মাদনা , এটা ইউরোপের জনগণও বুঝতে পারছে ! কিন্তু উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন , ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো সেটা ভাববেনা । আপনজন হারানোর ব্যাথা তারা  কোন ভাবেই ভুলতে পারবেনা । (  But for the FAmilies of victims that hardly matters whatever the motivation .That does nothing to reduce the pain of their loss. )

সুতরাং, বুখতেই পারছেন,  ইউরোপের জনমনে মুসলিম রিফুজিদের জন্য আর কোন মায়া মমতা থাকবে না । আর এটিই ISIS এবং তাদের বাপেরা ( যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়ীল ) চায় ! মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নারী পুরুষ আর শিশুরা যখন ঝাঁকে ঝাঁকে মরছিল বোমা পড়ে, যখন বেঁচে থাকার তাগিদে প্রাণটা হাতে নিয়ে তারা ভেলায় চড়ে মহাসমুদ্র পাড়ি দিলো অনিশ্চিত ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে তখন ইউরোপের যে কয়টি দেশ তাদের আশ্রয় দিল আজ প্রত্যেকটি দেশ আক্রান্ত তাদেরই দ্বারা ! চাপ বাড়ছে সরকারগুলোর উপর যারা একসময় এসব অসহায় মুসলমানদের পাশে এসে দাড়িয়েছিল। 

এজন্য   ISIS  কে মিসাইল হামলা চালাতে হয়নি ইউরোপে ! শুধু মুসলিম তরুণ তরুণীদের আবেগকে ব্যাবহার করেছে তারা ! ব্যাস, তারা এক এক জন হয়ে উঠেছে জীবন্ত ত্রাস ! নিজেরা মরছে , সাথে বিপদ ডেকে আনছে অবশিষ্টদের জন্য ! এটিই তো  ISIS  চায় ! এরা কেন বোঝে না !?  আমাদের দেশের তরুণরাও সেটা কেন বোঝে না ?!  তারা কেন বিপথে পা বাড়ায় ?! যেখানে দেশ গড়ার জন্য তাদের কাজ করার কথা , বুদ্ধিদীপ্ত পথে শত্রুদের প্রতিহত করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার কথা সেখানে তারা বেছে নিচ্ছে আত্মঘাতী পথ !

Reference: 

CNN: One ISIS attack every 84 hours’ spurs dread and anger in Europe

 

আপনার মন্তব্য