চট্টগ্রামের যত সমুদ্র সৈকত

12077
SHARE

বাংলাদেশের দক্ষিণ – পূর্বে চট্রগ্রাম এর অবস্থান। প্রকৃতি যেন ঢেলে সাজিয়েছে পাহাড়, নদী আর সাগর ঘেরা এই নগরীকে। চট্রগ্রাম এর  দক্ষিন – পশ্চিম পুরোটা জুড়ে রয়েছে বিশাল সমুদ্র সৈকত। অবস্থান গত ভাবে কিছু কিছু সৈকত বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে  প্রকৃতি প্রেমী, দর্শনার্থী আর স্থানীয় মানুষের কাছে। আজ কথা বলবো চট্রগ্রাম নগরিতে অবস্থিত এমনি কিছু সমুদ্র সৈকত নিয়ে।

১.  পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত –  চট্রগ্রামের একেবারে দক্ষিন – পশ্চিমে অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। শহরের কেন্দ্র  থেকে এর দূরত্ব ১২  কি:মি: এর কিছুটা বেশী। সরকারি ভাবে পাথর দিয়ে বেড়িবাধ দাওয়া হয়েছে , যা পর্যটকদের কাছে বসার এবং সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পছনের একটি স্থান । ভাটায় পানি অনেক দুর পর্যন্ত সরে যায়,  তখন কক্সসবাজারের মত বালুকাবেলার সৃষ্টি হয়। আপনি চাইলে গোসলও করতে পারেন এ সৈকতে। এ সৈকতের মুল অকর্ষণ হল  সুর্যাস্থ দেখা এবং দুরের বাণিজ্যিক, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও মাছ ধরার ট্রলার ও সাম্পানের চলাচল দেখা। স্পিডবোটে। নীচের ভিডিওটি আস্মাদের সম্প্রতি তৈরী করা পতেঙ্গার উপর একটি প্রামান্য চিত্র। দেখে নিতে পারেন ছোট্ট এই ভিডিওটি।

২. কাট্রলী সমুদ্র সৈকত এবং ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট –  এটি মুলত দক্ষিন কাট্রলীতে অবস্থিত। জহুর আহমেদ চোধূরী স্টেডিয়ামের ঠিক পেছনের দিকে এটি অবস্থিত। অসাধারণ একটি জায়গা এই কাট্রলী সমুদ্র সৈকত। এটি সম্পুর্ণভাবে বালুর সৈকত নয়, কিন্তু খুবই সুন্দর আর পাশেই একটি ম্যানগ্রোভ গাছের বন রয়েছে যা প্রকৃতি প্রেমিকদের খুবই ভালো লাগবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে মানুষে ভরতি হয়ে যায় এখানে , আর ছেলেরা ফুটবল, ক্রিকেট সহ  নানান খেলায় মত্ত হয়। বনের ভেতরে ছোট ছোট কিছু সৈকত আছে। অনেকেই এখানে ভোর বেলায় ভীর জমান তাজা মাছ কিনতে।

10358978_10152810934032930_7633509397007861941_o
কাট্টলী সমুদ্র সৈকতের একাংশ। এটাকে “দইজ্জার পারও” বলে

৩. আনোয়ারা পারকি সৈকত – চট্রগ্রাম থেকে একটু দুরে আনোয়ারা পারকি বিচ এর অবস্থান। খুবই সুন্দর একটি বিচ আনোয়ারা পারকি বিচ এবং এর পাশ ঘেঁষে একটি বনও আছে। যারা নিরিবিলি যায়গা পছন্দ করেন তাদের জন্য এই জায়গাটি উত্তম। একদম ছিমছাম আর টুরিস্টদের সংখ্যাও খুব কম। দূরে জাহাজ দেখতে পাওয়া যায় আর,  সমুদ্র এবং কর্নফুলী নদী দুটোই দেখা যায় এক বিচ থেকে।

৪. কুমিরা ঘাট – কুমিরা ঘাট আসোলে একটি জেটি ঘাট সন্দিপে যাওয়ার জন্য। যারা সন্দিপ আশা যাওয়া  করেন তারা ছাড়াও প্রকৃতি প্রেমিরা ভীর করেন এখানে। এখান থেকে কিছুক্ষন পর পর ট্রলার সহ স্প্রিড বোট ছেড়ে যায় সন্দিপ এর উদ্দেশ্যে। কাছেই একটি ছোট চর আছে। ঘাটটা বিশাল আর জাহাজ কাটার শিল্প গড়ে উঠেছে  এর পাশেই। বিশাল বিশাল জাহাজ কাটার দৃশ্য দেখা যায় এখান থেকে।

আজ তবে এই পর্যন্ত। যারা এখন এ সকল সমুদ্র সৈকত এ ঘুরতে যাননি, আশা করব আপনারা সকলেই উপভোগ করবেন আমাদের চট্রগ্রামের সমুদ্র সৈকতের রুপ মাধুরী।

চট্টগ্রামের সমুদ্র সৈকতগুলো নিয়ে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে বেশ কয়েকটি ভিডিও আছে। দেখতে চাইলে আমাদের চ্যানেলটি সবাস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism.

আপনার মন্তব্য