টং দোকানের চায়ে বাংলার তারুন্য

2831
SHARE

মান্না দে’  কি কখনো টংয়ের দোকানে চায়ের কাপ হাতে আড্ডা দিয়েছিলেন ?!?!?! আমাদের জানা নেই !

” মামা এক কাপ চা দাও ” এই কথাটি কতবার শুনেছেন বা বলেছেন তার হয়তো হিসেব নেই।  টংয়ের দোকানে খুবই কমন একটি কথা। এইসব দোকানে না থাকে সুন্দর কাপ না ভাল বসার জায়গা।  কিন্তু এইসব  দোকানে ভিড় থাকে সবসময়ই । তরুণদের কাছে এই টং এতই জনপ্রিয় যে  অন্তত  পক্ষে দিনে একবার হলেও টংয়ের চায়ে চুমুক দেয়া চাই !  

এই  টংয়ের  দোকানের আড্ডা আজ  আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যেন ! ক্লাসের ফাঁকে বিরতি, ক্লাস শেষে অবসাদ দূর করা, বিকালের চা, বন্ধুর সাথে দেখা করা , আড্ডা সবই চলে এই  টংয়ের  দোকানে !  এলাকায়, প্রতি মহল্লায়, রাস্তার গলিতে, বা মোড়ে, স্টেশন-বন্দরে, ইউনিভার্সিটি আশপাশে , হসপিটাল প্রাঙ্গণে, মেইন রোডের ধারে, ফুটপাতের ওপরে, স্কুল-কলেজের পাশে, পার্কের গেটে সবখানে দেখা যায় এই টং। টং এ আড্ডা জমে যায় সহজে আর এসব আড্ডার বিষয়ে  কোনো নির্দিষ্টতা নেই ।  ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ গঠনমূলক আলোচনাও হয়, অনেক সময় হাস্যরসের আড্ডাও হয়। আর এই প্রাণোচ্ছল আড্ডা চলতে থাকে দোকান বন্ধ করা পর্যন্ত। টং আকারে ছোট একটি দোকান যেখানে ছয় সাত জন বসার জায়গা থাকে, ডজন খানিক কাপ আর চা এর পাশাপাশি সিগারেট, কলা, পাউরুটি, বিস্কুট, বাটারবন, কেক এবং স্বল্প দামি নানা খাবার থাকে। তবে টংয়ের মূল আকর্ষণ চা, যে দোকানের চা ভালো হয় সে দোকানেই আড্ডাবাজদের ভিড় লেগে থাকে,  আড্ডার ফাঁকে চলে চায়ের কাপে চুমুক! এইখানে শুধু সমবয়সী না, দোকানে আসা বড় ছোট সবার সঙ্গেও আড্ডা জমে ওঠে। ছোট ছোট চুমুক দিয়েই সামাজিক, রাজনৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন ধারণা নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই উঠে আসে আড্ডায়, পক্ষে-বিপক্ষে চলে আলোচনা, আড্ডা মানে অফুরন্ত আনন্দ। টং দোকানের আড্ডা তারুণ্যের কাছে দৈনন্দিন জীবনের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশই বলা চলে এখন । সারাদিন ক্লাসের পর টং দোকানে এক কাপ চা যেন তৃষ্ণার্ত পথিকের কাছে শীতল পানির মতো। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে এক কাপ চা হলেই সব ক্লান্তির অবসান ঘটে। ক্লাসের ফাঁকে চায়ের আড্ডাই যেন উদ্দীপনা ফিরিয়ে নিয়ে আসে। তরুণরা বরাবরাই আড্ডা প্রিয় । সারাদিন এলাকার বাইরের বন্ধুদের সাথে আড্ডা, সন্ধ্যারাতে ফিরে এলাকার ভাই ও বন্ধুদের সাথের আড্ডা, যারা আজ তরুণ সময়টি পেরিয়ে এসেছেন তাদের প্রায় সবার অভিজ্ঞতায় কলেজ ও ভার্সিটি জীবনে শুধু আড্ডার জন্য ক্লাস পালিয়ে কোনো টং দোকানে চা পান করার অভিজ্ঞতা না থেকেই পারেনা !   আর চায়ের কাপ হাতে আলোচনার  ঝড় তুলতে কেউ যেন কারো চেয়ে কম যায় না! আর এই আলোচনা আর আড্ডাবাজীর জন্য কেউ না কেউ জুটে  যাবেই ! এটি যেন  টং দোকানের  আড্ডাবাজদের এক অবধারিত নিয়তি !!! তাই গল্পের ছলে টংয়ের আড্ডা আর সেই সাথে বাড়ে আড্ডার বিষয় , বাড়ে চায়ের বিল !  

আপনার মন্তব্য