১০ থেকে ১২ মাত্রার ভূমিকম্পেও কিছু হবেনা??!!?!

13412
SHARE

(আর  HBRI এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিল্ডিং নির্মানে  তাদের প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হলে তা ১০ -১২ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকবে বিল্ডিং  !!! )

হিসেব মতে ২০৪১ সাল নাগাদ দেশে ৫ কোটি মানুষের খদ্যাভাব দেখা দিবে !

দেশে উল্লেখ যোগ্য হারে কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে ! ইউনাইটেড ন্যাশন্স এর হিসেব মতে বর্তমানে  বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬,৩০,৭৬,৯,৪৭ জন ! যা বার্ষিক ১.১৯% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে !  বিভিন্ন হিসেব মতে আগামী ২০৪১ সাল নাগাদ এই জন সংখ্যা ২০ থেকে ২৩ কোটি হতে পারে ! ঠিক কত হবে সেটা নির্ভর করছে আমরা কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি তার উপর ! কিন্তু পদক্ষেপ যাই হোক না কেন জনসংখ্যা বাড়বে ! এটি অবধারিত ! তাই বাড়বে খাদ্য চাহিদা ও আবাসন সমস্যা !

২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়ন ও সহযোগিতায় Bangladesh  Soil Resource Development Institute (SRDI)  এর পরিচালনায়  এক গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয় ! উদ্দেশ্য ছিল আগামী দিনের বার্তি খাদ্য চাহিদা মুকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার  জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা  ! গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল থেকে দেখা যায় যে,  ১৯৭৬ সালে দেশে শস্য উৎপাদন যোগ্য ভূমি , বনাঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল , নদী , খাল, বিল, হাওড় , চা বাগান লবন চাষে ব্যবহ্রত ভূমি সহ কৃষিকাজে ব্যাবহৃত মোট ভূমির পরিমাণ ছিল ১৩৩০৩৬৫৪ হেক্টর , যা দেশের মোট ভূমির শতকরা ৯১.৮৩ ভাগ ।  

যা প্রতি বছর গড়ে ২৩৩৯১ হেক্টর করে কমতে কমতে ২০০০ সাল নাগাদ ১২৭৪২২৭৪ হেক্টরে এসে দাঁড়ায় ! আর ২০০০ সাল  থেকে  গড়ে বার্ষিক ৫৬৫৩৭ হেক্টর করে কমতে কমতে ২০১০ সাল নাগাদ এই ভূমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১২১৭৬৯০৪ হেক্টর ! বোঝা যাচ্ছে ২০০০ সালের পরে এই বার্ষিক কৃষিজমি হ্রাসের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে !

বোঝাই যাচ্ছে, বার্তি খাদ্য চাহিদার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন উপযোগী ভূমীর পরিমাণ কমছে ! কিন্তু আশার কথা এই যে , কৃষিকাজে আধুনিকায়নের ফলে কম পরিমাণ ভূমি ব্যাবহার করে আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অধিক খাদ্য উৎপাদন করতে পারছি ! Bangladesh Bureau of Statistics (BBS) এর ২০১৬ সালে প্রকাশিত ২০১৪ সালের বার্ষিক কৃষি পরিসংখ্যান  হিসেব অনুযায়ী ২০১১-১২ সালের চেয়ে ২০৯ একর ভূমি  ( ২৯৩৭২ – ২৯১৬৩ হেক্টঃ  )  কম ব্যাবহার করে ২০১৩-১৪ সালে ৭৭৫ টন অধিক খাদ্য উৎপাদন করা গেছে , যার মোট পরিমাণ ৩৫৬৫৯ টন ! উল্লেখ্য যে,  SRDI যে হিসেবটি পূর্বে উল্লেখ করেছি সেটি দেশের  শস্য উৎপাদন যোগ্য ভূমি , বনাঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল , নদী , খাল, বিল, হাওড় , চা বাগান লবন চাষে ব্যবহ্রত ভূমি সমস্ত কিছুর সমন্বিত পরিমাণ । BBS এর উল্লেখিত হিসেবটি শুধু মাত্র প্রধান খদ্য শস্য গুলোর একাংশের হিসেব ! পুরো প্রতিবেদনটি আরও অনেক বিশদ ও  বিস্তৃত !

আরেক সরকারী হিসেব মতে প্রতিদিন প্রায় ৬৯২ একর কৃষি জমি বিভিন্ন কাজে ব্যাবহৃত  হচ্ছে ! যার মধ্যে ৫৫৪ একর ভূমি শুধুমাত্র অপরিকল্পিত আবাসনের কারণে কমে যাচ্ছে ! তাছাড়া ১২০ একরের মত ভূমি কমে যাচ্ছে নতুন নতুন ইটের ভাটা স্থাপনের করণে ! আর অন্যান্য কারণ তো রয়েছেই ! কারণ যাই হোক, বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে !!! যার একটি প্রধান কারণ অপরিকল্পিত আবাসন !

এই সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত হতে হবে! আসার কথা এই যে সরকার ইতিমধ্যে বিষয়টিকে আমলে নিয়েছেন ! ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গ বন্ধুর হাতে প্রতিষ্ঠিত হাউজিং  এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টার , যা বর্তমানে হাউজিং এন্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউট, ইতিমধ্যে পরিকল্পিত আবাসনের মাধ্যমে কৃষিজমি রক্ষার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ও সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে ! সাম্প্রতিক সময়ে এই ইন্সটিটিউট (HBRI) পরিবেশ বান্ধব, ব্যায় সাশ্রয়ী ও দুর্যোগ সহনীয় বহুতল বিল্ডিং নির্মানে সফলতা অর্জন করেছে ! বাংলাদেশের সামনে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা ! যে কোন মুহুর্তে আঘাত হানতে পারে ৯ মাত্রার ভূমি কম্প !   আর  HBRI এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিল্ডিং নির্মানে  তাদের প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হলে তা ১০ -১২ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকবে !!!

শুধু তাই নয় , HBRI এর  দাবি তাদের প্রযুক্তিতে প্রচলিত বাড়ি নির্মাণ ব্যায়ের দুই তৃতিয়াংশ খরচে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে ! এতে সময়ও কম লাগবে ! আগ্রহী বাড়ি নির্মাতাগণ যোগাযোগ করলে  HBRI সার্বিক সহযোহীতা প্রদান করতে প্রস্তুত আছে !!! তাই আর দেরি নয় আজই যোগাযোগ করুণ ! ভূমিকম্প বলে কথা !!!

শুধু তাই নয় সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটি চিরাচরিত সরকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেকটা যেন বেসরকারি কোন লাভজনক প্রতিষ্ঠান ! সবাই কেমন গবেষণা কাজে ব্যাস্ত ! সে সাথে আছে অভূতপূর্ব সফলতা ! ঠিক যেন একটি যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান ! আহারে , যদি সমস্ত সরকারী প্রতিষ্ঠানের চিত্র এমন হত !!!

ভাবতে অবাক লাগে; সরকারের একটা প্রতিষ্ঠান দেশ বাঁচাতে ব্যাস্ত আর আরেকটা প্রতিষ্ঠান রামপাল কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্রের মত অদ্ভুত প্রকল্প নিয়া দেশ ধ্বংস করতে ব্যাস্ত !!!

 

আপনার মন্তব্য