বাবুল আক্তার একটি জলন্ত আতঙ্ক

129253
SHARE

এসপি বাবুল আক্তার সারাদেশে একটি আলোচিত নাম। সততা ও ন্যায় পরায়নতার জন্য সাবেক কর্মস্থল চট্টগ্রামেই রয়েছে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা। গত ৫ এপ্রিল পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হওয়ার কয়েকদিনের মধ‌্যে গত ৫ জুন বন্দর নগরীর ওআর নিজাম রোডে বাসার কাছে দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু। মিতুকে ছুরিকাঘাত পরবর্তীতে গুলি চালিয়ে হত‌্যা করা হয় তার স্কুলপড়ুয়া ছেলের সামনেই। এরপর বাবুল আক্তার চট্টগ্রামে ফিরে এসে মামলা করে ছোট্ট দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শ্বশুরালয়ে ওঠেন। সারাদেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এই হত্যাকাণ্ডে, বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয় নিন্দা। ছাত্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবী সমাজ দীর্ঘ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে জানায় এই হত্যার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। শুরুতে সবাই ধরে নিল এটা জঙ্গি গোষ্ঠীর কাজ কেননা বাবুল আক্তার চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর-দক্ষিণ জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এর দায়িত্বে থাকাকালীন চট্টগ্রামে জঙ্গিদের দুটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এক জেএমবি আস্তানার খোঁজ পান,  পরে উপুর্যপুরি অপারেশন চালিয়ে চট্টগ্রামের জঙ্গি নেটওয়ার্ক একপ্রকার গুড়িয়ে দেন তিনি। স্বাভাবিকভাবে সবাই ধরে নেয় তাঁর উপর এটা কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর প্রতিশোধ। কেননা আগেও তাঁর উপর বেশ কয়েকবার হুমকি এসেছিল যেটা তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলেন। জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে বাবুল আক্তারকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আসছিল—এমন ধারণা পূর্ব হতে ছিল গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এমন খবরও আসে সংবাদ মাধ্যমে। কোন কিছুকে তোয়াক্কা না করে সাহসী এ অফিসার জঙ্গি দমনে ব্যাপকভাবে অপারেশন অব্যাহত রাখেন সেসময়ে। নিভৃতে তাঁর সফলতা থাকলেও তিনি আলোচনায় আসেন ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে পরিচালিত অপারেশন গুলি একে একে সফলতার মুখ দেখে।

মিতু হত‌্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর ঢাকায় গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয় বাবুল আক্তারকে, ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আবার নামিয়ে দেয়া হয় শ্বশুরালয়ে। এ নিয়ে নানা মহলে শুরু হয় গুঞ্জন কোন কোন গণমাধ্যমে তাকে সন্দেহের কথাও প্রচার হয়। মামলার তদন্তে প্রথমত দেখানো হল খুনে যারা জড়িত তারা বাবুল আক্তারের একসময়কার সোর্স। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি মোড় নিল অন্যদিকে, সবাই ভাবতে লাগল হয়ত বাবুল আক্তারই স্ত্রী হত্যায় জড়িত। আর অনেক হলুদ মিডিয়া আছে যারা শুরুতে বাবুল আক্তারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ(তাদের অধিক প্রচারণার জন্য) থাকলেও কোনরুপ প্রমাণের তোয়াক্কা না করে তাকে ভিলেনে পরিণত করার ঘৃণ্য চেষ্টা চালায়।

জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি এখন পর্যন্ত। এদিকে বাবুল আক্তারের স্বেচ্ছায় গৃহবন্দিত্ব বিষয়টিকে ক্রমশ ঘনীভূত করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছিলেন,  বাবুল আক্তার পুলিশের নজরদারিতে নেই। এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মস্থলেও বাবুল আক্তার যাচ্ছেন না, আর কিছুদিন আগে গেলেও চাকরিতে যোগ দেননি বলে জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আবার এও শোনা যাচ্ছে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তাঁর স্বাক্ষরিত যে চিটিটি লিখেছেন তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পোঁছে গেছে। এ সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়- প্রশাসনের অনেকে বলেছেন নিজের চাওয়া অব্যাহতি তুলে নেওয়ার প্র্যাকটিস বাংলাদেশে নেই।  ঘটনা চক্রে কেন জানি মনে হয় সর্ষের ভিতরই ভূত লুকায়িত!

সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা চৌকস এই পুলিশ কর্মকর্তা তার কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ পেয়েছেন পুলিশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল-বিপিএম (সাহসিকতা), আইজি ব্যাজ ও দু’বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম)। এছাড়াও চারবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন বাবুল আক্তার।

এখন কথা হল জঙ্গিবাদ আগ্রাসনের এই কঠিন সময়ে এমন একজন বীর পুলিশ অফিসারকে কিসের স্বার্থে ইনঅ্যাকটিভ করে রাখা হল। যদি স্ত্রী হত্যায় তাঁর সম্পৃক্ততা থেকে থাকে তবে জাতীর কাছে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত করা হউক । যেহেতু তা করছেন না সেহেতু তার নিরপরাধের ব্যাপারে সাধারণ জনগণ এই বার্তা পায় যে- এটা তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো গল্প ও অপবাদ মাত্র। যেখানে বাবুল আক্তার নিজেই চাকরীতে ফেরার আগ্রহ ব্যাক্ত করেছেন সেখানে সমস্যাটা কার আদৌ বোধগম্য নয়? দেশের শান্তিকামী আপামর জনগন (জঙ্গি/অপরাধী ব্যাতিত) তাঁর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে প্রতিনিয়ত।

বাবুল আক্তারের সাম্প্রতিক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে একটা বিষয় প্রতীয়মান হয়যে প্রিয়তমা স্ত্রী হারার বেদনা তাঁকে তাড়া করছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে তাঁর অবুঝ দুটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে এহেন টানা পোড়েনে। আশা করছি সংশ্লিষ্ট উচ্চ পদস্থ কর্তাব্যাক্তিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছেন।

এখানে বাবুল আক্তারকে নায়ক বানানো উদ্দেশ্য নয়, উদ্দেশ্য একজন সৎ ও সফল চৌকস অফিসারকে দেশের প্রয়োজনে সকল অপবাদ থেকে মুক্তি দিয়ে প্রশাসনে ফিরিয়ে আনা। কেননা অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এমন সোচ্চার থাকা বাবুল আক্তারদের  প্রয়োজন এখন সবচেয়ে বেশি।

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

 

আপনার মন্তব্য