নাস্তানাবুদ আইএস

37
SHARE

ঢাকার গুলশানে হামলা করে আইএস মারাত্মক একটি ভুল করেছিল। বাংলাদেশকে নিজেদের সন্ত্রাস চর্চার স্থান হিসেবে তাদের সবচেয়ে বড় ভুল। নিরীহ নিরস্ত্র কিছু মানুষ মেরে হয়তো আইএস প্রথম দিকে কিছুটা ত্রাস সৃষ্টি করতে পেরেছিল কিন্তু পরে তা হয়ে যায় শাপেবর। বাংলাদেশে ত্রাস সৃষ্টি করা তো দূরের কথা, ২ পয়সা পাত্তা পেলনা পৃথিবীর তথাকথিত নৃশংসতম এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী – যাদের কাজ হলো পেছন দিক থেকে নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা করা আর ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করে তা বাজারে বিক্রি করা। কিন্তু, বাংলাদেশে তাদের স্বপ্নের সেই নেটওয়ার্ক আর হলো না। এদেশের মানুষ আসলেই একটু “ডেঞ্জারাস” টাইপের – এটা তারা বুঝতে একটু দেরী করে ফেলেছিল।

পত্র-পত্রিকা আর নানা সূত্র মতে, মূলত জেএমবিই বাংলাদেশে আইএস এর নামে সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করছে। আর আইএস এর কাজ হলো কোথাও কোন পটকা ফুটলে বলা “কাজটা আমরা করেছি”। নিজেদের একটু বেশীই জাহির করতে চায় তারা। এগুলো আসলে মানুষের মনের ভেতর ত্রাস সৃষ্টি করার একটা উপায় যা তারা এত বছর ধরে পশ্চিমা দেশগুলোতে করে আসছিল। নিরস্ত্র মানুষকে মেরে তারা নিজেদের “মহাবীর” মনে করা শুরু করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে এসে তাদের বীরত্বে একেবারে পানি ঢেলে দেয়া হলো। বাংলাদেশের মানুষ তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল তারা কত বড় কাপুরুষ।

দিন দিন যেভাবে জংগী বিরোধী সফল অভিযান চালানো হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আইএস এর বংশ সহ উপড়ে ফেলার চেষ্টায় আছে বাংলাদেশী প্রশাসন। ভেদাভেদ যতই থাকুক, আপাতত এই জংগী ইস্যুতে পুরো বাংলাদেশ কমবেশী এক কাতারেই আছে। জঙ্গী দেখা মাত্র নিধন করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন সূত্র আর নতুন নতুন জঙ্গী ধরা হচ্ছে জংলীদের মত। ধর্মকে এরা যতই বিক্রি করুক, বাংলাদেশীদের বোকা বানাতে পারবে না। হ্যাঁ, কতিপয় ছাগল জাতীয় অপদার্থকে তারা ভুলিয়ে ভালিয়ে জংগী ঠিকই বানিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের বসবাস। এখানে কিছু করা অনেক কঠিন। বিশেষ করে কাপুরুষের মত নিরীহ মানুষ হত্যা করে ধর্মের নামে সন্ত্রাসী হামলা চালানো – এসব এদেশে চলবে না কোনদিন। কেউ কোনদিন করতে পারেনি।

সেদিন একগ্রুপ ছেলেদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে এই মুহুর্তে যদি একটা জংগী বা একাধিক জংগী সামনে আসে তাহলে কি করবে? তাদের উত্তর ছিল “এই জায়গা থেকে পেটাতে পেটাতে নদীতে গিয়ে ফেলে দেব”। আমাদের মনোভাবটাই এমন। আসলে আমরা বাংলাদেশীরা কাপুরুষদের ঘৃনা করি সবসময় আর জানি কাদের কিভাবে জবাব দিতে হয়। এটা ভেবেওনেক ভাল লাগে যে, আইএস যে ত্রাসটা বাংলাদেশে সৃষ্টি করতে চেয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলোর মত, সেটা তারা এখানে মোটেও করতে পারে নি। উল্টো এখন মারের উপর আর দৌড়ের উপর আছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

আইএস কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে সেটা তো প্রায় সবাই জানে এখন। আমেরিকার ব্রেইনচাইল্ডই বলা যায়। তাদের কাছে আমেরিকা অস্ত্রও বিক্রি করে। ভাল কথা। কিন্তু ধর্ম নিয়ে এই ব্যবসাটা তারা করতে পারে একটাই কারনে আর সেটি হলো পৃথিবীর মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোন একতা বা ইউনিটি নেই। একজন আরেকজনের সাথে লেগেই আছে কোন না কোন দন্দে। এক মুসলিম দেশ আরেক মুসলিম দেশের শত্রু। এক মুসলিম দেশ জংগী তাড়ায় তো আরেক মুসলিম দেশ জঙ্গী পালে। যেমন পাকিস্তান। আর মধ্যপ্রাচ্যের কথা বাদই দিলাম। খোদার দেয়া কাড়ি কাড়ি তেলের টাকাই আছে তাদের, মাথায় বুদ্ধি বলতে কিছুই নেই। আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে হাজারগুন পেছনে পড়ে রয়েছে তারা। প্রযক্তি, বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ডিপ্লোম্যাসী – এসব থেকে হাজার গুন ধরে। শুধু আছে কিভাবে আরাম আয়েশ করে থাকা যায় আর ২০ টা করে বিয়ে করা যায়। আর আমাদের মত দেশগুলোর অবস্থা হলো নুন আনতে পান্তা ফুরায় কিন্তু মেধার অভাব নেই। শুধু সুযোগের অভাব। এসবের ফাঁকে পশ্চিমা দেশগুলো ভালই সুযোগ নেয় মসুলমানদের। নতুন নতুন সন্ত্রাসী থিওরী দাঁড় করিয়ে তারা লুফে নিচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। কখনও অস্ত্র নিয়ে, কখনও যুদ্ধে সাপ্লাই, কখন তেলের খনি দখল করে। একেবারে লুটেরা। আবার তাদের সাহায্য করছে কতগুলো মুসলিম দেশ।

এভাবে চলতে থাকলে একসময় মুসলিমরা একঘরে হয়ে পড়বে। এবং সেটাই করার চেষ্টা চলছে। আর এসব আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ভিক্টিম হচ্ছে বাংলদেশের মত দেশগুলোতে যার কোন ইনভল্ভমেন্টই নেই এসবে। স্রেফ ভিক্টিম। কিন্তু তাতে কি? উল্টো তারাই আবার সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে দেয় বাংলাদেশে, বাংলাদেশ ভ্রমনে এলার্ট জারি করে, হ্যান ত্যান অনেক কিছু। তাদেরই সৃষ্টি করা সন্ত্রাসী, তাদেরই সৃষ্টি করা যুদ্ধ আবার তাদেরই স্ট্যান্ডার্ড সিকুরিটি প্রটোকল। প্রহসনেরও একটা লিমিট থাকে। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার সবসময় করতে থাকলে সেই ক্ষমতার পতন ঘটবেই – আজ হোক আর কাল হোক। যেভাবে আমরা এই মুহুর্তে আইএস কে নাস্তানাবুদ করছি, ঠিক সেভাবেই আইএস এর পেছনের শক্তিও একদিন নাস্তানাবুদ হবে আর সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে পৃথিবীর সাধারন মানুষের।

এনিয়ে আমাদের কিছু ভিডিও আছে, আরো সামনে আসছে। দেখতে চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। লিঙ্ক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য