রামপাল ইস্যুতে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড?

38
SHARE

একটা বিশেষ প্রতিবেদন পড়ে অদ্ভুত এক জিদ চেপে বসেছে মাথায়। বাংলাট্রিবিউনে দেয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে বনের এত কাছে রামপালের মত কোন প্রকল্প করার অনুমতি পেত না। অথচ বাংলাদেশে সুন্দরবনের এত কাছে রামপালের মত কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত এখন ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের মতই লাগছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে বাংলাট্রিবিউন যোগাযোগও করেছে এই ব্যাপারে।

কিছুদিন আগে আমরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য বলে সম্বোধন করেছিলাম। কারন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আসলেই অনেক বড় একটা আশ্চর্যের বিষয়। রামপাল ইস্যু নিয়ে পুরো দেশ দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ রামপালের পক্ষে আবার কেউ রামপালের বিপক্ষে। যদিও রামপাল নিয়ে বাংলাদেশিদের কোন আন্দোলন মেইন স্ট্রিম মিডিয়াতে তেমন একটা কাভারেজ পাইনি। এখনো পাচ্ছে না। কিন্তু দেশের অনেক বরেন্য ব্যক্তিত্ব এবং বিশেষজ্ঞরা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছেন। ফেসবুকের নামকরা বড় বড় সেলিব্রিটিরাও এর বিপক্ষে অবস্থান করেছেন।

যদিও যারা রামপালের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তাদের উল্টো বোকা, গাধা এমনকি দেশের শত্রু বলেও আরেকটি পক্ষ সম্বোধন করে যাচ্ছেন। আসলে আমরা বড়ই কনফিউজিং জাতি। কে কখন কোনদিকে কিভাবে কনফিউজড হয়ে যায়, বলা যায় না।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই রামপাল প্রকল্প কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না। কোন ধরনের আন্দলোনও পাত্তা পাবেনা। খুব সম্ভব কারো বাপেরও সাধ্য নেই এই প্রকল্প ঠেকানোর। আন্দোলন যত ছোট বা বড় হোক। আমরা সম্ভবত সবকিছু হারিয়ে শিখি। কিন্তু সুন্দরবন হারিয়ে শেখার কোন অবকাশ আসলেই আমাদের নেই। কারন একটা সুন্দরবন গেলে তো আরেকটা সুন্দরবন আসবে না! সেদিন কে যেন বলল “দেশের নীতি নির্ধারকরা তো ঘাস খেয়ে বড় হয়নি, তারা বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা আপনার চাইতে হাজার গুন বেশী জানেন, হাজার গুন বেশী দেশপ্রেমী”। মানলাম তারা অনেক বড় মানুষ আর বড় মানুষ বলেই তো তাদের উপর ভরসা করার চেষ্টা করি। দেশ তো তাদের হাতেই তাই না। কিন্তু দেশের মানুষেরও তো কিছু কথা, কিছু চাওয়া পাওয়া আছে। তারাও তো দেশের ক্ষতি চায় না। দেশকে ভালবাসতে হলে কি বড় মানুষ হওয়া জরুরী। হয়তো জরূরী। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করাটাই শ্রেয়।

কিন্তু যত যাই হোক, রামপালকে আর ঠেকানো মনে হয় যাবেনা। যারা আন্দোলন করছেন, তারা এবার ক্ষান্ত দেন। লাভ নেই গলা ফাটিয়ে। কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না। সাধারন মানুষের দেশপ্রীতির তেমন কোন দাম আছে নাকি তাই না? আমরা বরং ঠিক করি কাল কি খাব, বাজার কিভাবে করব, কিভাবে এই সপ্তাহ চলবে… এগুলো নিয়ে থাকি। এসব বড় বড় ব্যাপার নিয়ে আমাদের মাথা ঘামানো কি মানায়?

তবে একদিন, যেদিন অনেক দেরী হয়ে যাবে, সেদিন…… সেদিন হয়তো আমরা বলব “ইস, একটু মাথা ঘামানো জরুরী ছিল”।

আপনিও কি লিখতে চান, প্রকাশ করতে চান আপনার নিজস্ব মতামত যে কোন বিষয়ে? তাহলে চলে আসুন আমাদের নতুন শেয়ারিং প্লাটফর্ম আর লিখুন নিজের কোন আর্টিকেল বা পোস্ট। আমাদের নতুন প্লাটফর্মটি হলো – ফুডবার্তা। লিঙ্ক – www.FoodBarta.com

আপনার মন্তব্য