খুশীতে হরতাল নাকি দুঃখে ?

30
SHARE

বাংলাদেশে এক কালের হরতাল ছিল সেই লেভেলের হরতাল। ভয়ে তো রাস্তাঘাটে বের হওয়া যেতনা। হরতাল মানেই আতংক, বিভীষীকার অপর নাম। হরতাল মানেই মারামারি, কাটাকাটি, বোমা ফাটাফাটি, গাড়ি ভাঙাভাঙ্গি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সেসব এখন শুধুই ইতিহাস। আগে তো হরতালে রাস্তাঘাট কেমন খালি ছিল এটা অনেকটা হরতাল আহবানকারীদের শান-শওকতের অংশ ছিল! গাড়ি কহাজার ভেঙ্গেছে, কত বাসে আগুন দেয়া হয়েছে, কত লোক মরেছে – ইত্যাদি ছিল হরতালের সফলতার মাপকাঠি।

একটা ফাসির রায় হলেই একটা হরতাল। এটা একটা নিয়মে দাড়িয়েছে ইতিমধ্যে। এক রাজাকারের ফাঁসি হয় তো হরতালের ডাক আসে তার পরের দিন। ব্যাপারটা একটি রেগুলার রুটিনে দাড়িয়েছে। এখন কথা হলো এই হরতাল গুলোর আদৌ কোন ভ্যেলু আছে কিনা। আপাতদৃষ্টিতে নেই। হরতালের ব্যাপার-স্যাপার সব বদলে গেছে অনেক আগেই। এখন হরতাল আসলে কেউ মানেই না। হরতাল একটা জোক হয়ে দাড়িয়েছে। হরতাল হলেই মানুষ একটা কাজের বদলে দুটো কাজ নিয়ে বের হয়। কারন জানে আজকে যানজট অন্যান্য দিনের তুলনায় একটু হলেও কম হবে আর এক কাজের বদলে দুই কাজ করা যাবে। তবে হরতালের দিনও যানজট লেগেই থাকে। শুধু ট্রাফিক একটু কম থাকে এই যা।

আবার আরেক ধরনের মানুষ এখনকার হরতালকে অনেকটা “হলিডে” মুডে নেই। হরতালের দিন বের হলেও কোন সমস্যা হয় না কিন্তু ফ্রি তে একটা হলিডে পেলে ক্ষতি কি? পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ঘুরা, যানজট কম – এর চাইতে আর কি লাগে! আর জানেন নিশ্চয়, ঢাকা – চট্টগ্রামের মত শহরগুলোতে যানজট কম হলে বিদেশী যেকোন উন্নত শহরের চাইতে কম হবে না। খুশি খুশী একটু ঘুরা ফিরা – খারাপ কি?

তাই মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, এই শান-শওকতহীন হরতালের ডাক আসলে কেন? ফাঁসি দেয়ার সুখে নাকি দুঃখে? এখন আমি যদি সরকার হতাম, তাহলে প্রতিবার এক একটা রাজাকারের ফাঁসি দেয়ার পর সাধারন ছুটি ঘোষনা করতাম একদিনের জন্য। কিন্তু সেটা কি আসলে সম্ভব নাকি যদি সরকার থেকে এসব করা হয়। ব্যাপারটা একটু কেমন না! সামান্য কারনে রাষ্ট্রীয় ছুটি! ইচ্ছে করলেও তো দেয়া যায় না। কিন্তু সেই কাজটা যাদের ফাঁসি হচ্ছে তাদের দল বেশ ঢালাওভাবেই করে আসছে। ফাসির পর একদিনের অকথিত ছুটি বা হরতাল!

বর্তমান সরকারের একটি অনবদ্য অবদান হলো এই হরতালের বারটা বাজানো। এবং এটি অনেক গুরুত্বপূর্ন অবদানের মধ্যে একটি। অন্তত আমার কাছে! আপনারা কি মনে করেন? আগের হরতাল ভাল ছিল নাকি এখনকার হরতাল?

আপনার মন্তব্য