খুনী বাঁচাতে মরিয়া অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল!

23
SHARE

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা – অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বেশ বড় সড় ব্যানার তাদের। আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম বেশ বড়। বাংলাদেশে তাদের কার্যকলাপও ইদানীং অনেক! কিন্তু কেন জানি মনে হয় ক্ষেত্র বিশেষে। বিশেষ করে যখনই রাজাকারের ফাঁসির আদেশ আসে, তখনই অ্যামনেস্টির খবর পাওয়া যায় বেশী। ফাঁসি রুখতে তাদের দাবি ছাপিয়ে উঠে সবকিছুই!

মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের বাঁচানোর জন্য মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান দাবি করছে – What an irony? তবে যেখানে আসলেই মানবতার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা দরকার সেখানে তাদের কেন তেমন একটা দেখা যায় না? অন্তত বাংলাদেশে? রাজাকারের ফাঁসি এগুলো তো পরের ইস্যু। তার আগে তো অন্তত বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন? মানবাধিকার কি শুধু অপরাধীদের ফাঁসি ঠেকানোর জন্য?

একজন মানবের খাবারের যোগান থাকা কিন্তু তার অধিকার। তেমনি তার শিক্ষা, বাসস্থান, ভাল জীবন – এসবই কিন্তু একজন মানব বা মানুষের জন্মগত অধিকার। একটা চাকুরী পাওয়া কিন্তু মানবাধিকার। ভালভাবে বেচে থাকা কিন্তু মানবাধিকার। তাই নয় কি? অবশ্যই তাই।

তো, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কি পারেনা বাংলাদেশের সুবিধা বঞ্ছিত মানুষগুলোর মানবাধিকার নিশ্চিত করা রাজাকারদের আগে? রাস্তায় অনেক ভিক্ষুক দেখা যায়, বৃদ্ধ, অসুস্থ – যাদের বেচে থাকার সব অধিকার থাকলেও আদপে তারা জীবিত থেকেও মৃত। না আছে বাড়িঘর, না আছে খাবার দাবার না আছে কাজ। রাজাকারদের মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠার আগে মনে হয় এসব বঞ্ছিত মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করলে অনেক ভাল হবে। রাজাকারদের ফাঁসি ঠেকাতে যেসব ক্যাম্পেইন করা হয়, তার বাজেটগুলো বঞ্ছিত মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজে লাগানো যেতে পারে। তাহলে সত্যিকারের মানবদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে হবে।

রাজাকার মীর কাসেমের মৃত্যুদন্ড স্থগিত করার জন্য এই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইতিমধ্যে দাবি তুলে ফেলেছে মুখে ফেনা তুলে। মীর কাসেমকে তারা রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই অভিহিত করছেন। একজন খুনীকে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের জন্য অ্যামনেস্টির এত দরদ খুব চোখে লাগে।

এসব না করে অ্যামনেস্টি পথশিশুদের নিয়েও কাজ করতে পারে। কত পথ শিশুই তো মানবতাহীন জীবন-যাপন করছে। মানব অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যখন তাদের এত কস্ট, তখন কেন তারা এদের নিয়ে কাজ করে না! যেখানে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার দরকার সেখানে করে না? নাকি এতে কোন লাভ নেই?

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আসলেই চোখে পড়ে যায় সেটা যে মোড়কেই বিক্রি করা হোক না কেন।

আপনার মন্তব্য