এই সেই জঙ্গী মুরাদ এবং একটা অশনী সংকেত!

26
SHARE

শেষ জঙ্গী দমন অভিযানে নিহত জঙ্গী মুরাদের আসল নাম মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। বাবার নাম মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম আর মায়ের নাম জেবুন্নাহার ইসলাম। জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ থেকে তার এই পরিচয় উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাঙ্গীর ছিল তার ছদ্মনাম। জঙ্গীদের জন্য বাসা বাড়ার কাজটি সে করত। মিরপুর ক্যান্টেনমেন্টের অফিসার্স কোয়ার্টারের কথা উল্লেখ রয়েছে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে আর পেশা লেখা রয়েছে সরকারী চাকুরীজীবি।

তার পরিচয় পত্রের বিবরনগুলো কেন জানি অশনি সংকেত দিচ্ছে। আর্মি কোয়ার্টারে থেকে, সরকারী চাকুরী করে, পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে সাধারন মানুষের আড়ালে এরা যেন ঘাপটি মেরে ছিল এত বছর। ঠিক কোন কোন ধরনের মানুষ এসব জঙ্গী পথে চলে যাচ্ছে তা ভাবলে এখন শিউরে উঠতে হয়। এই জাহিদুলের জঙ্গী হবার কারনও কি “ব্রেইনওয়াশ”? মনে তো হয় না। একজন পূর্ন বয়স্ক লোক ঠান্ডা মাথার খুনী না হলে জোর করে বা ব্রেইনওয়াশ করে তাকে কেউ খুনী বানাতে পারবে না। এরা কিভাবে পারে, নিজের দেশে বসেই সে দেশের বিরুদ্ধে এসব হীন চক্রান্ত করতে? এদের কাছে কি এদের পরিবার পরিজনও কিছু না? ধর্ম বিক্রি করাই প্রধান উদ্দেশ্য? নব্য জেএমবিদের এই জাহিদুল সামরিক প্রশিক্ষন দিত – অর্থাৎ, মানুষ মারার ট্রেনিং দিত সে। আর তাদের বাসা ভাড়া নেয়ার ব্যবস্থা করে দিত।

এখন অশনী সংকেতটা হলো, এরকম জাহিদুলের মত আরও কত জংগী লুকিয়ে আছে সাধারন মানুষের ছদ্মবেশে! এটা বেশ বড় একোটা প্রশ্ন। গুলশান হামলার পর থেকেই যত দিন গড়াচ্ছে তত নতুন নতুন রহস্য বের হচ্ছে আর নতুন তথ্য আসছে যেগুলো আসলেই খুব নেগেটিভ একটা ইফেক্ট ফেলছে। যদিও এসব জংগীরা বাংলাদেশের কিছুই করতে পারবে না আর ইতিমধ্যে তাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তবে একেবারে শতকরা ১০০ ভাগ সমস্যার সমাধান হবে তাও কিন্তু না। জংগী দমন এবং শোধরানো – দুটো একসাথেই করতে হবে। তবে এখনও বিশ্বাস হয় না, এরা বাংলাদেশী হয়ে বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এত বড় সব চক্রান্ত করতে পারে। ৭১ এ ছিল রাজাকাররা আর ২০১৬ তে আসল জংগী। সবই এক – শুধু মোড়ক ভিন্ন যেহেতু এখন দিন বদলে গেছে।

এখন শুধু দেখার অপেক্ষায় আছি সামনে আর কি কি বের হয়।

_________________________________________________

বাংলাদেশীজম টিভির নতুন ভিডিও রিলিজ –

আপনার মন্তব্য