এখনও সময় আছে, ভাল হয়ে যাও……

42
SHARE

তাদের লাশ নিতে কেউ আসে না। না আসে তাদের পরিবার, না আসে তাদের স্বজন। নিজেদেরকে বীর উপাধি দেয়া সেসব সন্ত্রাসীগুলোর বেশিরভাগেরই লাশ পড়ে আছে এখনও মর্গে। তাদের লাশের দায়িত্ব তাদের নিজেদের পরিবারও নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ধর্ম বেচে বীর হতে গিয়ে আজ তারা স্বঘোষিত “জিহাদের” সৈনিক হিসেবে মানুষের ঘৃনার খাতায় নাম লিখিয়েছে। এমনকি, মরার পরেও তাদের জন্য তাদের নিজেদের বাবা-মায়ের মন গলে না। তো লাভ কি হলো এমন “বীর” হয়ে?

যারা এদের তথাকথিত “বীর” বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তারাই বা কোথায়? কেউ মরছে পুলিশের গুলিতে আবার কেউ মরছে নিজেদের অপারেশনে? নিরীহ মানুষ হত্যা করে যারা নিজেদের “ইসলামের যোদ্ধা” বলে, তাদের শেষ পরিণতি এমনই হয়। আগেও হয়েছে, পরেও ঠিক এমনই হবে।

প্রিভিলেজড ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে তারা নিজেদের জংগী বানিয়েছে। অথচ তাদের হাতের নাগালে ছিল সুন্দর ভবিষ্যত যা বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষের কপালেও জুটেনা। আর সেসব ঠেলে দিয়ে মানুষ মারার “মহৎ” কাজে নিজেদের বিক্রি করেছে তার ধর্মের দোহাই দিয়ে। লাভ কি হলো? তাদের লাশ ডাস্টবিনেও স্থান পেল না। এরকম জঙ্গী সমমনা যারা এখনও আশেপাশে ঘুরছে, তাদেরও পরিণতি একই হবে। হতে বাধ্য।

শুনেছি তারা নাকি খুব মেধাবী ছাত্র! তুখোড় ছাত্র! নামী-দামী প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সৌভাগ্য তাদের হয়েছে! এত “মেধাবী” হয়ে তারা কিভাবে এসব পথে পা বাড়ায়! আসলে তারা কতটুকু মেধাবী বা স্মার্ট যে এত সহজে তাদের ব্রেইনওয়াশ করা যায় ভুল-ভাল বুঝিয়ে? কি আর লাভ হলো এত কিছুর? এসব না করে এসব নরপশুরা যদি দেশের জন্য কিছু করত, মানুষের জন্য কিছু করত তাহলে আজ মানুষের ভালবাসা পেত। মরার পরে তাদের হাজারো মানুষ সম্মান জানাতে আসত। কিন্তু এখন থুথু ছিটাতে আসে। তাদের কিন্তু সুযোগ ছিল দেশের জন্য বড় কিছু করার। সব ধরনের সুযোগ ছিল! কিন্তু তারা উল্টোটা করল। দেশের কথা বাদ দেন, তারা নিজেদেরকে মানুষ করে গড়ে তুলতে পারলেও তো হত। কিন্তু তারা এখন এসবের অনেক উর্ধে! কি? বেহেশতে আছে? নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে পাশবিকভাবে হত্যা করে তারা জান্নাতে গেছে? তাদের লাশের দাফন পর্যন্ত হয়নি এখনও, জান্নাত তো দূরের কথা।

আর যেসব জংগীমনা মানুষজন এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা ভাল মত শুনে নেন – এটা বাংলাদেশ। এখানে ব্রেইনওয়াশ, জংগীগিরি, মাইন্ডওয়াশ – এসব চলে না। এখানে শুধু বাংলাওয়াশ চলে। সুতারাং, ভাল হয়ে যাও সময় থাকতে। তা না হলে লাশের ঠিকানা পর্যন্ত পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখনও ফুসছে। হাতের নাগালে যদি পায় তাহলে পুলিশেরও মনে হয় দরকার হবে না। সাধারন মানুষই তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিবে অনায়াসেই। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিধা করবে না। এখনও সময় আছে, ভাল হয়ে যাও।

বাংলাদেশের এরকম সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়ে ইউটিউবে আমরা নিয়মিত ভিডিও আপলোড করি। যদি দেখতে চান তাহলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি। লিংক – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য