এ লাশের মিছিল থামাও

43
SHARE

 দেশের সড়কগুলো  মৃত্যুফাঁদ ফাঁদে পড়ে প্রতিদিনই মৃত্যুবরণ করছে শিক্ষকশির্ক্ষাথী, আলেম, কৃষক, শ্রমজীবি, শিক্ষাবিদ, জ্ঞানীগুণী বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী পেপার মিলস্ লি: (কেপিএম) এর মহাব্যস্থাপক সৈয়দ আহম্মদ (এমপিএস) সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা হতে রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যাত্রাবাহী বাসটি থামলে পিছন দিক থেকে আসা একটি কার্ভাড ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে  করে উক্ত পরিবহনে থাকা কেপিএম-এর মহাব্যস্থাপক সৈয়দ আহম্মদসহ আরো কয়েকজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন

এর একদিন আগে খাগড়াছড়িতে বাস খাদে পড়ে গিয়ে নিহত হয়েছে ৫ জন। অন্যদিকে রাজশাহীতে একটি বাস রাস্তা ছেড়ে বাড়ির উপর উঠে পড়ায় নিজেদের ঘরের বিছানায় ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় গভীর রাতে নিহত হয়েছেন স্বামী-স্ত্রী।

এমন মর্মান্তিক খবর আমাদের কাছে প্রতিদিনই আসে।কখনো বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে সজোরে ধাক্কা, বাস ছিটকে পড়েছে হয়তো গভীর খাদে এভাবে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত প্রতিদিন গণমাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার বীভৎস ছবি, স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে শোকে কাতর করে ফেলেছে!  

কুরবানির ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে ১২ দিনে (১৮ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে সড়ক, রেল নৌপথে ২১১ দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত হাজার ১৫৩ জন আহত হয়েছেন এরমধ্যে শুধু ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪৮ জন আহত হয়েছেন হাজার ৫৬ জন ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিতঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন২০১৬প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা  যায়

মৃত্যু মানুষের স্বাভাবিক নিয়তিকিন্তু সে মৃত্যু যখন হয় সড়ক দুর্ঘটনায় তখন কষ্টের শেষ থাকে না, কোনো দুর্ঘটনার ফলে নিমিষেই ঝরে যাচ্ছে একেকটি প্রাণ, তবে তা সত্যিই বেদনাদায়ক এবং একই সঙ্গে উদ্বেগের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী এই মানুষগুলো কারো  না কারো কারো স্বজন অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরটি আপনজনের কাছে কতই না বেদনার!  স্বজন হারানোর বেদনা শুধু স্বজনরাই অনুভব করেন

সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু যে মানুষের জীবনই ঘাতক বাস, ট্রাক কেড়ে নেয় তা কিন্তু নয় দুর্ঘটনায় পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম দুর্ভোগ এমন পরিবার আছে শুধু উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি মারা যাওয়ার ফলে পরিবারপরিজন, সন্তান নিয়ে চরম অর্থনৈতিক অশ্চিয়তার মধ্যে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে বেঁচে থাকলেও সারাজীবন পঙ্গুত্ব বহন করতে হয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত বছরের তথ্য মতে, প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২১ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় বর্তমানে সংখ্যা আরও বেশি দুর্ঘটনার মৃত্যুর ৩২ শতাংশই নিরীহ পথচারী অথচ পাশ্বর্বর্তী দেশ ভারতে পথচারীর মৃত্যুহার শতাংশ এবং ভুটানে মাত্র শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীর মৃত্যুহার ৪১ শতাংশ এবং চালকের মৃত্যুহার ২৭ শতাংশ

 

সাম্প্রতিককালে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একের পর এক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গত সাত মাসে ১৪৭৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় তাছাড়া বিগত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৬০৭ জনের অকাল মৃত্যু হয়েছে ২০১২ সালে ২০০৯ জন, ২০১৩ সালে ১৫৪৬ জন, ২০১৪ সালে ২১৩৫ জন, ২০১৫ সালে ২৫৮০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়

সড়ক দুর্ঘটনার বহুবিধ কারণের মাঝে চালকের অদক্ষতা বেপরোয়া গাড়ি চালনা, বিপজ্জনকভাবে পাশ কাটানো (ওভারটেকিং), সড়কে বিভাজক না থাকা, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকের বেপরোয়া মনোভাব, প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ চালক, যাত্রীদের অসচেতনতা,  অপ্রশস্ত, রাস্তায় ডিভাইডার না থাকা, পুরনো ওত্রটিযুক্ত ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের সুযোগ, অদক্ষ চালককে লাইসেন্স প্রদান, ড্রাইভিং পেশার উৎকর্ষহীনতা, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি  না হওয়া,  গাড়ি মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা অনাদায়  এবং কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োগের অভাবে সড়কে লাশের মিছিল বাড়ছে

কিন্তু সড়কে এই লাশের মিছিল আর কতদিন চলবে? আর কত দীর্ঘ হবে? না এটা আর চলতে দেওয়া যায় না।

কর্তা ব্যাক্তিরা রুখে দাঁড়াও, এ লাশের মিছিল থামাও।  

আপনার মন্তব্য