এগুলো কি গ্যাস সিলিন্ডার নাকি বোমা

55
SHARE

আমাদের অনেকেরই হয়ত গাড়ি আছে, যাদের নেই তারাও গণপরিবহন ব্যবহার করি বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করার জন্য।ঢাকাসহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চলের বেশির ভাগ গাড়িই এখন গ্যাসে চলে। কেননা এতে খরচও অনেক কম হয়।

আর গ্যাসের এই অর্থনৈতিক সুবিধার কারণে ক্রমেই বেশি করে গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে এর বিপজ্জনক দিকটিও সামনে চলে আসছে। প্রায়ই ঘটছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা। হতাহত হচ্ছে মানুষ। নষ্ট হচ্ছে সম্পদ। তাই যানবাহনে গ্যাস সিলিন্ডার সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গ্যাস সিলিন্ডার সংযোজনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মকানুন মানা হয় না। যত্রতত্র গড়ে উঠেছে সিলিন্ডার সংযোজনের দোকান। গাড়ির মালিকরাও কম পয়সায় সিলিন্ডার সংযোজনের জন্য এসব দোকানের আশ্রয় নেন। এসব দোকান পুরনো নিম্নমানের সিলিন্ডার এবং কিট সংযোজন করে থাকে।

তাছাড়া পাঁচ বছর পর পর সিলিন্ডার সংযোগ পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে প্রায় কেউই তা করেন না। সংযোজনের মান, নিয়মনীতি কিছুই মানা না হলে সিলিন্ডারগুলো পরিণত হবে এক একটি বোমায়। বিষ্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্থ হবো আমরাই। তাই যেকোনো মূল্যে ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।

সড়কে যে গণপরিবহনগুলো চলে, তা কতটুকু নিরাপদ তা জানা কোনো যাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রকেই যানবাহনের, বিশেষ করে গণপরিবহনের নিরাপত্তার মানটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাসটিতে যে গ্যাস সিলিন্ডার সংযোজন করা হয়েছিল, তা কত দিন আগে কোথা থেকে করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময় পরীক্ষা সময়মতো করা হয়েছিল কি না তা জানতে হবে। যদি তা যথাযথভাবে করা না হয়ে থাকে, তাহলে বাস মালিককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যাত্রীদের জীবনের বিনিময়ে মুনাফা করার অধিকার কারো থাকতে পারে না।

যানবাহন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নাগরিকদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। নিম্নমানের সিলিন্ডার কিটস ব্যবহার এবং পাঁচ বছর পর পর রিটেস্ট করার নিয়ম না মেনে গাড়িচালকরা জীবন্ত বোমা নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন। চালকদের পাশাপাশি গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার যাত্রী এমনকি পথচারীদের জীবনের জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে।

এদিকে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু এলপিজি সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়েছে। মানহীন সিলিন্ডার ব্যবহার করায় নিরাপদ রান্নাঘর হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক স্থান। বাধ্যবাধকতা থাকলেও সিএনজিচালিত গাড়ির পাঁচ বছরের বেশি পুরনো সিলিন্ডার পুনঃপরীক্ষায় কেউ উদ্যোগী হচ্ছে না। রিটেস্টের মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় দুই লাখ গাড়ি বিপজ্জনক সিলিন্ডার নিয়ে রাস্তায় চলছে।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত সোয়া দুই বছরে সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ১১৩টি ঘটনায় অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যাও বিপুল। ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে সিএনজি সিলিন্ডারের নিরাপত্তায় উদ্বিগ্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লি. মানহীন ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার অনুসন্ধানে বিশেষ জোর দিচ্ছে। বিস্ফোরক পরিদফতরও অননুমোদিত কনভার্সন ওয়ার্কশপ নিয়ে বরাবরই উদ্বিগ্ন।

গত জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৯টি গাড়ি সিএনজিতে চলছে। এর মধ্যে লাখ ৪৮ হাজার ৬টি গাড়ি দেশে সিএনজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বাকি ৪০ হাজার ৩৮৯টি গাড়ি সিএনজি অবস্থায় আমদানি হয়ে এসেছে। দূরপাল্লার বাণিজ্যিক যানবাহন বিশেষ করে বাসট্রাকের কোনো কোনোটিতে দুই থেকে ছয়টি সিলিন্ডার সংযোজন করা হয়। এসব যানবাহনের লাখ সিলিন্ডারের পুনঃপরীক্ষার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এর অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনা রোধে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এবং সরকার সক্রিয় হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

সচেতন হতে হবে আমাদের নিজেদেরকেও। আমার গাড়িতে কিংবা আমি যেসব গণপরিবহন ব্যবহার করি সেসব গাড়িতে যে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো আছে, সেগুলো আসলেই গ্যাস সিলিন্ডার নাকি মানহীন এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ এক একটি বোমা?

 

আপনার মন্তব্য