বিশ্বের শীর্ষ ২০ যুবকের একজন নারায়ণগঞ্জের রকিবুল!!!!!

26
SHARE

বাংলাদেশি যুবক রকিবুল হাসান। কিন্তু এখন তাঁর নাম অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও উইমেন ডেলিভারের বিশ্বব্যাপী ২০০ জনইয়াং ফেলোতো জানেনই। রকিবুলও একজন ফেলো। এর বাইরেও ২০০ ফেলো থেকে আলাদাভাবে অনুদানের জন্য নির্বাচিত ২০ জনের মধ্যেও রকিবুল একজন। অনুদান হিসেবে তিনি পাবেন পাঁচ হাজার ইউএস ডলার। অনুদান দিয়েপিস এম্পায়ারশীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। ছয় মাসব্যাপী প্রকল্পের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করবেন তিনি।

সম্প্রতি উইমেন ডেলিভার অনুদানপ্রাপ্ত (সিড গ্র্যান্টস) ২০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে। তরুণেরা স্বাস্থ্য অধিকার, বিশেষ করে নারী শিশুর যৌন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। তরুণদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মধ্যে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে অবস্থানকারী উইমেন ডেলিভার ১৫টি দেশ থেকে ২০ জনকে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিতদের মধ্যে নাইজেরিয়া থেকেই সর্বোচ্চ তিনজন রয়েছেন। তা ছাড়া ভারত, জিম্বাবুয়ে কেনিয়া থেকে দুজন করে এবং বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বতসোয়ানা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, জর্ডান, ক্যামেরুন, মালাউই ইন্দোনেশিয়া থেকে একজন করে ফেলো আছেন তালিকায়। 

ফেলো হিসেবে গত মে মাসে রকিবুল ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিয়েচতুর্থ উইমেন ডেলিভার সম্মেলনেঅংশ নেন। আঞ্চলিক ককাস, জাতীয় সম্মেলন, প্যানেল অধিবেশন, সংলাপ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে রকিবুল প্রতিনিধিত্ব করেন।

রকিবুল সিড গ্র্যান্টস পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ২০১৪ সালের শেষ দিকে। অনলাইনে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে ১০ মাস ক্লাস করতে হয়। নিজ নিজ দেশের সমস্যা চিহ্নিত করতে বললে রকিবুল বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন বেছে নেন। অনেক যাচাইবাছাইয়ের পর অনুদান মেলে।

রকিবুল জানালেন, ‘পিস এম্পায়ারপ্রকল্পে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিনটি কলেজ, ১০টি স্কুল পাঁচটি মাদ্রাসার ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীসহ প্রায় এক হাজার জন ক্যাম্পেইনার থাকবে। ৩৫ জন কমিউনিটি সাংবাদিক, ২৫ জন পিয়ার এডুকেটর এবং ইয়াং অ্যাডভোকেটও সম্পৃক্ত থাকবেন। সবাই মিলে এলাকায় বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করবেন।
প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, প্রামাণ্যচিত্র, ব্লগিং, অ্যাডভোকেসি ওয়ার্কশপ, রচনা প্রতিযোগিতা সামাজিক ক্যাম্পেইনপথনাট্য, মূকাভিনয় জনসমাবেশের আয়োজন করা হবে। মুঠোফোন অ্যাপস অন্যান্য সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে কমিউনিটি সাংবাদিকেরা যেকোনো বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করবেন। এতে ওয়েবসাইট ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করতে হবে। উইমেন ডেলিভারকে প্রজেক্ট রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রকিবুলের সঙ্গে প্রকল্পে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত অন্য তিনজন ফেলোসহ মোট ছয়জন সহায়তা করবেন।

রকিবুলের বাবা বখতিয়ার হোসেন শিক্ষকতা করেন। মা শামীমা সুলতানা গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে রকিবুল সবার বড়। রকিবুল ছাত্রজীবন থেকেই স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। তিনি রাজধানীর নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের নিরাপত্তা গবেষক হিসেবে পেশাদার জীবন শুরু করেন। তবে সম্প্রতি কাজটি ছেড়ে দিয়েছেন।

রকিবুল জানালেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন সাময়িকীতে তাঁর ১৫টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, উন্নয়ন শান্তিবিষয়কম্যানোক্রাসিনামে তাঁর প্রথম বইও প্রকাশের পথে। তা ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২০টি সংবাদপত্রে রকিবুল এখন পর্যন্ত ৭০টির বেশি কলাম/উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। দক্ষিণ এশিয়া বাংলাদেশি সমাজে ভিন্ন ধারায় নেতৃত্ব বিকাশে ভূমিকা রাখায় ২০১৪ সালে ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকেবিশ্ব যুব অ্যাওয়ার্ড২০১৪পান। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ভি কে দুগোলের হাত থেকে এই সর্বোচ্চ মর্যাদা গ্রহণ করেন। একই বছরউদীয়মান ৪৬ দক্ষিণ এশীয় পেশাজীবীদেরএকজন হিসেবে শান্তি প্রতিষ্ঠাবিষয়ক নেপালে এক আঞ্চলিক কর্মশালায় অংশ নেন। বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি তিনি এক হাজারের বেশি তরুণ প্রজন্মকে নাগরিক সাংবাদিকতায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। তৃণমূলে ধরনের সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রজনন যৌন স্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে ধরছেন।

রকিবুল নারায়ণগঞ্জে বড় হয়েছেন। এখানকার রূপগঞ্জ থানাকে প্রকল্প এলাকা হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, ‘রূপগঞ্জ আয়তনে ছোট্ট হলেও বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি শিল্প এলাকা। এখানে সর্বোচ্চসংখ্যক কর্মজীবী নারীর বসবাস। এখানে নারী নির্যাতনের ব্যাপকতাও বেশি। অভিজ্ঞতার আলোকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেশ সহায়ক হবে বলে মনে হয়।

 

আপনার মন্তব্য