বিশ্বের সামরিক বাহিনীর পারমাণবিক দুর্ঘটনাগুলো

30
SHARE

পারমাণবিক বোমা, যার নামটি চোখের সামনে ভেসে উঠে এক বিশাল ধ্বংস ।   প্রথম ও দিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সমসাময়িক সময় গুলোতে  পারমাণবিক বোমার মারাত্মক দুর্ঘটনাগুলো ঃ

১৯৫০ – ব্রিটিশ কলম্বিয়া

তৎকালীন মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ভূ্লে ফেব্রুয়ারী ১৯৫০ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র হানি হয় । একটি কনভেয়ার বি – ৩৬, বোমারু বিমান, যার ক্রমিক নম্বর ছিল – ৪৪-৯২০৭৫। মার্কিন সামরিক এয়ার বেস থেকে বিমানটি উড্ডয়ন শুরু করার পর যার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল, সানফ্রানসিস্কোতে একটি কৃত্রিম পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো। কিন্তু বিমানটি ঐ সময় মার্ক – ৪ নামক একটি পারমাণবিক শক্তির বোমা ভন করছিল, যার ওজন ছিল আনুমানিক ২,২৫০ কিলোগ্রাম (৫০০০ এল.বি), ঠিক ঐ সময় আর্কটিক উপসাগরীয় বায়ুমণ্ডলের প্রভাবে বিমানে থাকা ১৭ জন ক্রু ছিলেন, যার মধ্যে, পাঁচ জন ইঞ্জিনিয়ার সঠিক ভাবে বিস্ফোরণ করতে ব্যর্থ হন। যার ফলশ্রুতিতে বিমানে থাকা সতের জনের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।

১৯৫৮ – মার্স ব্লাফ, ক্যারোলিনা

সাউথ ক্যারোলিনার, ফ্লোরেন্স কাউন্টিতে অবস্থিত মার্স ব্লাফ একটি মফস্বল গ্রাম ছিল। সময়টা ছিল, ঐ বছরে মার্চের ১১ তারিখে। বি- ৪৭-ই স্ত্রাতাটো জেট নামক একটি বিমান, যার মিশনের নাম “অপারেশন স্নো ফ্লুরি”। এই মিশনের প্রস্তুতির জন্য এইদিন মার্ক – ৪ পাল্লার পারমাণবিক বোমা প্রস্তুত রাখা হয়। বিমানের ক্যাপ্টেন বোমাটি যাচাইয়ের সময় ভুলবশত বোমা নির্গমনের ইমার্জেন্সী বোতামে চাপ দেন, যার ফলে বিমান হতে ৪,৫০০ মিটার নিচে (প্রায় ১৫,০০০০ ফিট), গিয়ে লোকালয়ের ভেতর, ওয়াল্টার গ্রেগ নামক এক অধিবাসীর ঘরের চালের উপর আছড়ে পড়ার সাথে সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মারাত্নকভাবে আহত হল।

১৯৫৮ – টেইবে আইস ল্যান্ড, জর্জিয়া

মার্কিন সেনাদের জন্য ১৯৫৮ সালটা মোটেও সুখপ্রদ ছিল না। এটি ছিল বছরের তৃতীয় দুর্ঘটনা।

৩,৫০০ কিলোগ্রাম (৭,৬০০ এল.বি)শক্তির একটি বি – ৪৭ বোম্বার মানসম্পন্ন বিমানের সাথে একটি এফ – ৮৬ বিমানের দুর্ঘটনা মূলক সংঘর্ষে বি – ৪৭ এর ডানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। দুইটি বিমানের ক্যাপ্টেন কিছুতেই বুঝতে পারছিলেন না, কিভাবে সতর্কভাবে অবতরণ করবেন। পরে দু’ জনেই বিমান থেকে প্রাণ রক্ষার্থে ৩,৫০০ কিলোগ্রাম শক্তির বোমাটি সেবাননাহ নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু অবাক করার বিষয় দুর্ঘটনার ৫৬ বছরেও বোমাটি আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১৯৫৬ – মেডিটেরেরিয়ান অঞ্চলে নিখোঁজ

প্রত্যেকটা পারমাণবিক শক্তিধর বাহিনী ও গবেষকদের গুলোর একটা উদ্দ্যেশ্য থাকে, সেটি হল, নষ্ট বা পরিত্যক্ত বোমা গুলো সক্রিয় বা পুনরুদ্ধার করে তোলা। এর ফলে, তারা বুঝতে চায়, কমপক্ষে বোমাটি কোথায় গিয়ে শেষ বা ধবংস হবে। ১৯৫৬ সালের মার্চ মাসের ১০ তারিখে বি – ৪৭ স্ট্রাটোজেট নামক একটি বিমান ম্যাকডিল এয়ার ফোর্স বেস, ফ্লোরিডা থেকে ক্যাপসুল আকৃতির বোমা বহনের জন্য, পরে তা মরোক্কোর বেন গেইরার এয়ার বেসে পৌঁছানো। বিমানটি আকাশে উঠার পর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছালে, কোনো এক অজানা কারণে উধাও হয়ে যায়। অবশেষে বিমানটি ও তার তিনজন ক্রুদের মৃত ঘোষণা করা হল।

আপনার মন্তব্য