মাশরাফির তুলনা মাশরাফিই

38
SHARE

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফির তুলনা মাশরাফিই। ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যখন ক্যাপ্টেন্সি পেলেন তখন দলের অবস্থা তথৈবচ। কিন্তু তার নেতৃত্বে সেই দলটিই হয়ে উঠল প্রকৃত টাইগার বাহিনী। একের পর এক সাফল্য আসতে থাকল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঝুলিতে।তার নেতৃত্বে গড়া দলটিই গত বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইন্ডিয়া টিমের মধ্যে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল। আর সে কাঁপন ঠেকাতে কতই কেলেঙ্কারির জন্ম দিতে হয়েছিল তাদের কর্তা ব্যক্তিদের।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সেই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে পাকিস্তান, ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে এশিয়া কাপ টিটোয়েন্টির ফাইনালে খেলেছেনড়াইল এক্সপ্রেসখ্যাত মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট ৩১টি ম্যাচ জিতেছে। আফগানদের বিপক্ষে জয়টি তার নেতৃত্বে ২১তম জয়। এছাড়া, তার নেতৃত্বে টাইগাররা ৯টি টিটোয়েন্টি আর একটি টেস্ট জিতেছে।

শুধু দলের ভালো খেলার মধ্যেই মাশরাফির নেতৃত্ব গুণ সীমাবদ্ধ নয়। যে কোনো খেলার আগে পরে সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যের পরিমিতি বোধও মুগ্ধ করছে সবাইকে। আর সে কারণেই সবার দৃষ্টিতে যখন মাশরাফি বাংলাদেশ দলের সেরা ক্যাপ্টেন তখন তার নিজের ভোটটি দিতে চান হাবিবুল বাশারের বাক্সে। আসলে একেই বলে বদান্যতা। একেই বলে নেতৃ্ত্ব গুণ।সর্বশেষ ১ অক্টোবর শনিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালে তার এক ভক্ত যখন মাঠে ঢুকে পড়ে তাকে জড়িয়ে ধরে, তখন মি. ক্যাপ্টেন মাশরাফি সে পরিস্থিতি যে দক্ষতায় সামাল দিয়েছেন তাও নজর কেড়েছে সবার। আবেগাপ্লুত করেছে তার ভক্তদের।

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই দেশের মাটিতে এসে হাজির হয়েছে ইংল্যান্ড দল। অন্যদিকে সবার প্রিয় মাশরাফি আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বোলিং করতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন! তাহলে কি মি. ক্যাপ্টেনকে ছাড়াই দলকে মাঠে নামতে হবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে? সে আশঙ্কায় ভক্তকূলের চোখে যখন হতাশা তখন ইনজুড়ির ভয় কাটিয়ে মাশরাফিই শোনালেন অভয় বাণী।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা হয়তো তেমন নেই। তবে বোলিং অনুশীলনে ফিরতে আরো দুএক দিন লাগবে বলে জানান মাশরাফি, ‘পায়ে ব্যথা আছে। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। আরো দুএক দিন হয়তো বোলিং করতে পারব না। তারপর, দেখা যাক কী হয়!’ টেলিফোনে এমনটা বলার ঘণ্টা দুয়েক পর বিসিবি থেকে পাঠানো হয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডের দল। তাতে অধিনায়ক যথারীতি মাশরাফি। সিরিজে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তাতে কেটে যায় আরো

এমনিতেই মাশরাফির ক্যারিয়ারের সমান্তরালে বয়ে চলে দীর্ঘশ্বাস। দুই হাঁটুতে সাত অস্ত্রোপচারের ধকল সামলে খেলে চলা তো চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। আর তাঁর অধিনায়কত্বের সঙ্গে ইনজুরির কেমন যেন শাপযোগ রয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজে; ২০০৯ সালে। প্রথম টেস্টেই ইনজুরির শিকার। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডনর্দার্ন আয়ারল্যান্ডস্কটল্যান্ড সফরে আবার নেতৃত্ব পান। সেখানে ঠিকঠাকই ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে চক্রের চক্র পূরণ করে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরবর্তী সিরিজেও অধিনায়কত্ব তাঁর কাছে। কিন্তু আবারও ইনজুরি। মাত্র এক ওভার বোলিং করেই মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় মাশরাফিকে

পরবর্তী সময়ে মাঠে ফেরেন, কিন্তু অধিনায়কত্বে আগ্রহী ছিলেন না তেমন। এমনকি এবারও মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে যখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব পান, ওই কুসংস্কারের কারণেই ছিলেন কিছুটা দ্বিধায়। তা ঝেড়ে মাশরাফি নেন নেতৃত্ব। শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বর্ণসময়ের। ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে শুরু। পরের বছর দুয়েকে ইনজুরি সামাল দেন ভালোভাবেই। অধিনায়ক হলেই ইনজুরিতে পড়তে হবেওই কুসংস্কার মন থেকে চলে যায় একরকম

কিন্তু পরশু ম্যাচের সকালে যে মনে আবার সেই অশুভ সংকেত! আর সত্যি সত্যিও তো বোলিং করতে গিয়ে পড়ে যান মাশরাফি। পুরনো ব্যথা তাঁর সর্বাঙ্গে, ডান পায়ের গোড়ালিতেও ছিল। সেখানে আবার ব্যথা পাওয়ায় ফুলে ওঠে জায়গাটি। অদম্য ইচ্ছাশক্তির বাংলাদেশ অধিনায়ক তবু বিশ্রামে যাননি। পরের দিকে বরং ছোট রানআপে বোলিং করেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে না হয় সেভাবে পার পাওয়া গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে পূর্ণ ফিট হয়েই মাঠে নামতে চান তিনি। সে জন্য আরো কিছুটা সময় পেলে ভালো হতো বলে জানান, ‘গোড়ালিতে ফোলা আছে এখনো। সকাল থেকেই বুঝতে পারছি, হাঁটতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করি এটি বড় কিছু না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে তো আরো চারপাঁচ দিন রয়েছে। আরো কয়েক দিন হাতে পেলে ভালো হতো।

ক্যারিয়ারের শুরুতে ঝড়ের মতো তাঁর আগমন। এরপর একের পর এক ইনজুরির ঝড়ে বিপর্যস্ত মাশরাফি। দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচারই করাতে হয় সাতবার। সঙ্গে টুকটাক কত ইনজুরি!

নড়াইল এক্সপ্রেস তাতে গতি হারান। কিন্তু মনোবল নয়। কারণেই তো এবারও ভরসা রাখা যায়। গোড়ালির এই ইনজুরির কি আর সাধ্যি আছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে মাশরাফিকে দর্শক বানিয়ে দেওয়ার!

 

 

আপনার মন্তব্য