সেলফি কালচার কতটা নিচে নামিয়ে দিচ্ছে আমাদের মানসিকতাকে

32
SHARE

ইউসুফ হায়দার

জীবন-মুত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা খাদিজাকে দেখতে গিয়ে নেত্রীদের সেলফি তোলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এখন বেশ সরগরম। এটা নিয়ে নিউজও করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

প্রথম আলো লিখেছে, ‘ঠোঁটে লিপস্টিক গায়ে আইসিইউ গাউন। পেছনে নাকেমুখে নল লাগানো অচেতন খাদিজা বেগম। খাদিজাকে দেখতে গিয়ে তোলা ছবি (সেলফি) আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন। সঙ্গে যুব মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ অপু উকিলসহ আরেকজন নারী।আইসিইউ মতো স্পর্শকাতর জায়গায় জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক নারীর পাশে সরকার দলীয় নারী নেত্রীদের এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।’

আসলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে ঝর উঠেছে।

Image result for selfie with khadiza

যদিও সাবিনা আক্তার তুহিন ব্যাপারে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘কালকে খাদিজা নামের মেয়েটা মারা গেছে বলে যে তথ্য বের হয়েছে, আমরা দেখাতে চেয়েছি মেয়েটা বেঁচে আছে জন্যই ছবিটা তোলা।’ নেত্রীর বক্তব্য সঠিক ধরে নিয়েও প্রশ্ন করা যায়, ম্যাডাম, খাদিজা বেঁচে আছে এটা প্রমাণের জন্য আর কোনো বিকল্প পন্থা কি ছিল না?

আসলে শুধু ওনাদের দোষ দিয়ে কি হবে? সময়টাই এখন আবেগ ও মানবিকতা বিবর্জিত। আমাদের ক্যাপ্টেন মাশরাফি সেদিন যা বলেছেন তার সারমর্ম অনেকটা এরকম, আগে কোনো ভক্ত একবার কাছে পেলে আর ছাড়তেই চাই তো না। ভালো-মন্দ খোঁজ-খবর নিত, ১০-১৫ মিনিট সময় পেলেও তাদের চোখে-মুখে অতৃপ্তি থেকে যেত। আর এখন! আসে আর একটা সেলফি তুলেই দেয় দৌড়!

সেলফি কালচার একটা মরণ নেশায় পরিণত হয়ে উঠেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই এই খামখেয়ালি মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে কত মানুষ মরছে, আহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে তারপরেও থামছে না। সেলফি ছাড়া যেন কিছুতেই আর জীবনটা চলছে না।

কদিন আগেও কক্সবাজারের সেলফি তুলতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা তো আমাদের নিশ্চয় মনে আছে।

সেলফি বা নিজে নিজে ছবি তোলার এই কালচার জনপ্রিয় হতে শুরু করে ২০১৪ সাল থেকে। এখন এই প্রযুক্তিটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে এর জন্য মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিতেও দ্বিধা করে না। কারণেই সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা দিনে দিনে বেড়েই চলেছেসম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দুই বছরে সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মারা গেছে মোট ৪৯ জন। এদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ ১৩ জন নারী।

সেলফি তুলতে গিয়ে যে শুধু মানুষের বাহ্যিক মৃত্যু ঘটছে তাই নয়, বরং মানুষের আত্মারও মৃত্যু হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলে দেখা যায়, মৃত ব্যক্তিকে সামনে রেখে হাসি হাসি মুখে সেলফি তুলে নিজেদের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে মানুষ। অসুস্থকে দেখতে গিয়ে সেলফি, কবর খুড়তে গিয়ে সেলফি, কুরবানির পশু উপর বসে সেলফি, এমনকি নামাজ পড়তে গিয়েও সেলফি তোলা হচ্ছে!!

সম্ভবত এসব কারণেই, মার্কিন গবেষকেরা দাবি করেছেন, অতিরিক্ত সেলফি তোলার অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক ব্যাধির সম্পর্ক থাকতে পারে। আর, অতিরিক্ত নিজের ছবি তোলার প্রবণতা এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে দেওয়ার এই মানসিক সমস্যার নামসেলফিটিস

 

আপনার মন্তব্য