বিএসএফ মাদক এবং অস্ত্র চোরাকারবারিদের গুলি করে না কেন?

34
SHARE

ইউসুফ হায়দার: বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন, গরু চোরাচালান বন্ধ হলে সীমান্তে হত্যা থামবে।বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, নয়াদিল্লিতে সদ্যসমাপ্ত সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবি ও বিএসএফ দুপক্ষই একমত হয়েছে যে সীমান্তে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটছে গরু চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে। গরু চোরাচালানের সঙ্গে স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গরু চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্তে হত্যা বন্ধের পাশাপাশি অন্যান্য চোরাচালানও রোধ করা সম্ভব হবে।

হ্যাঁ, বিজিবি এবং বিএসএফ একমত হয়েছে যে, সীমান্তে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ডই ঘটছে গরু চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, সীমান্তে গরু চোরাকারবারের সঙ্গে কি বাংলাদেশিরাই এককভাবে জড়িত? বাংলাদেশিরা কি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তাদের গরু চুরি করে নিয়ে আসেন? নাকি ভারতের নাগরিকরাও এর সাথে জড়িত থাকেন?
আসল ঘটনা হচ্ছে, ভারতের হিন্দুরা গরু পালন করেন, তারা গরুর দুধ খান, গরু দিয়ে চাষবাস করেন; মমতা ব্যানার্জির ভাষায় গরুর চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়েও পরেন, কিন্তু গোশত খান না (যদিও শাস্ত্রে নিষেধ নেই বলে অনেকেই খেয়ে থাকেন)। তাই হিন্দুদের পালিত গরুর বয়স হয়ে গেলে তাদের আর কিছু করার থাকে না। যারা গরুর গোশত খান তাদের কাছে যে কোনো উপায়ে সেটাকে বিক্রি করে দিতেই হয়। এতে তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা যেমন আসে, তেমনি গরুগুলোর মরে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়ানো থেকেও বাঁচা যায়।
তাই তারা বাংলাদেশিদের কাছে গরু বিক্রি করে দেন। কিন্তু বৈধ উপায়ে তা করার সুযোগ না থাকায়, বেছে নেন অবৈধ পথ। আর বাংলাদেশিরাও যখন দেখেন তুলনামূলক কম দামে ভারতীয়দের কাছ থেকে গরু পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারাও সেসব কিনে এনে এদেশের হাটবাজারের বিক্রি করে দুপয়সা লাভের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
আর অবৈধ পথে গরু আনার পথে ভারতীয় সীমান্ত প্রহরীদের চোখে পড়ে গেলেই বন্দুকের গুলি চলে। তাতে প্রতিনিয়তই মানুষ মরছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, গরু চোরাকারবারে সফল হলে ভারত এবং বাংলাদেশি উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট নাগরিকই লাভবান হন। কিন্তু বিএসএফের বন্দুকের কবলে পড়লে মরতে হয় শুধু বাংলাদেশিদের।
কিন্তু উভয় পক্ষ জড়িত থাকার পরও কেন শুধু বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে?
তাছাড়া বাংলাদেশে যত মাদক আসে তার ৯০ শতাংশের বেশি আসে ভারত থেকে, যত অবৈধ অস্ত্র আসে তাও আসে ভারত থেকে। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অস্ত্রও এসেছিল ভারত থেকে। কিন্তু এসবের সাথে জড়িতদের তো কাউকে বিএসএফ গুলি করছে না কেন?
তাহলে কি মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের চেয়ে গরু চোরাচালান বেশি ক্ষতিকর?
তাছাড়া, বাংলাদেশের প্রায় সকল সন্ত্রাসীর নিরাপদ আস্তানা হলো ভারত। এই সন্ত্রাসীরা যখন সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে তখন তারা সবাই বৈধ পথে যায়? আর কেউ যদি অবৈধ পথেই যায়, তখন কেন বিএসএফ এদের গুলি করে না?
আমরা না হয় আম পাবলিক, বুদ্ধিশুদ্ধি কম, তাই বুঝতে পারি না। কিন্তু বিএসএফ গরু চোরাকারবারিদের গুলি করলেও মাদক, অস্ত্র চোরাচালানকারী এবং সন্ত্রাসীদের কেন গুলি করে না এর জবাব কি আমাদের বিজিবি মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে আছে?

আপনার মন্তব্য