নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

51
SHARE

সোহেল হাবিব

বাংলাদেশের অর্থনীতির পালে হাওয়া লেগেছে। বিশেষ করে, আমাদের রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন অনেক দেশের জন্যই ঈর্ষণীয়। সেই সত্তর দশকের প্রথমার্ধে কিসিঞ্জারের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ ঘুচিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন অনেক স্বাবলম্বী। জনশক্তি ও গার্মেন্ট খাতের চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পর ওষুধ শিল্পে সাফল্য এসেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালেই দেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে যাবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার যখন নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; তখন স্বপ্ন হিসেবে এগিয়ে এসেছে চীন। চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরে উন্নয়ন ও সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়েছে। অর্থের হিসেবে যা ২৫ থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া চীনের ব্যবসায়ীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে। সব মিলিয়ে চীনের বিনিয়োগ হবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতির চালচিত্র।

চীনের এই অর্থ বিনিয়োগ হলে দেশকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি’র মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। যেমন থাকতে হয়নি পদ্মা সেতু নির্মাণে। চীনের এই বিনিয়োগে দেশ এগিয়ে যাবে সাফল্যের শীর্ষে। দেড় বছর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ হয়েছে। সে তুলনায় চীনের বিনিয়োগ ২০ গুণ বেশি। শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে দুই দেশের উন্নয়নের অংশিদারিত্বের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির বাস্তবায়ন দেশের অর্থনীতিকে ঊর্ধ্বগগনে নিয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা এমনটাই মনে করছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের বাংলাদেশে সফর ঘিরে শুরু থেকেই ছিল উচ্চাশা। এ সফর সে আশা পূরণ করেছে বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি চীনা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে বড় প্রকল্পে সহায়তা বাড়ানোর। জিনপিংয়ের এ সফরের ফলে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব বিনিয়োগচুক্তি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানসহ দু’দেশের প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগও।

চীন থেকে বিনিয়োগ আনতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশি লাভবান হবে। তাই বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকেই আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তবে, বিশাল জনসংখ্যার দেশ চীনের বাজার অনেক বড়। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে পারলে চীনে রপ্তানিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে সম্পর্কের ‘নতুন যুগের সূচনা’ বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ঢাকা পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চেলের ‘গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার’।

সত্যিই নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এখন প্রয়োজন শুধু সচেতনভাবে তার সদব্যবহার করা।শুধু দুর্নীতি আর অবিচার দূর করা গেলে দ্রুতই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য