ভুল ট্রেন চলে এসেছে বাংলাদেশে

55
SHARE

ইউসুফ হায়দার 

 বাংলানিউজের এক খবরে দেখলাম, ভুলে শীত প্রধান দেশের ডেমু ট্রেন বাংলাদেশে চলে এসেছে! কিন্তু কীভাবে এলো এই ডেমু ট্রেন? ঘটনার বিবরণে জানা গেল, ৬৫৪ কোটি টাকায় ২০ সেট ডিজেল-ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট বা ডেমু ট্রেন কিনে বিপাক যেনো পিছু ছাড়ছে না রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। ওই ডেমু ট্রেনগুলো আসলে শীত প্রধান দেশের জন্য ডিজাইন করা। আমাদের দেশের জন্য মোটেও প্রযোজ্য নয়। তা না হওয়ারই কথা। কেননা, শীতের দেশের ট্রেনের ডিজাইন আর আমাদের এই গরমের দেশের সাথে মানানসই ডিজাইন তো আর এক রকম হতে পারে না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে ভুল করে শীত প্রধান দেশের ট্রেন বাংলাদেশে আনার তথ্য উঠে এসেছে। কেন শীত প্রধান দেশের ডেমু আমাদের মতো গরমের দেশে নিয়ে আসা হয়েছে- সে বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে সঠিক ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমইডি।

ডেমু ট্রেনের ওপর আইএমইডি’র সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনের দেওয়া ঋণে সে দেশ থেকে ২০১০ সালে ডেমু কেনা হয়। প্রতি সেট ডেমু ৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা দরে কেনা। অথচ কোচগুলো খুব সাধারণ মানের। কোচের জানালাগুলো ছোট আকৃতির এবং অর্ধেক খোলা যায় না। এ ট্রেনের বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করেন। ফলে ছোট জানালা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসে। ট্রেনগুলো প্লাটফর্ম থেকে স্বাভাবিক ট্রেনের চেয়ে অনেক উঁচু। ফলে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য ডেমু ট্রেনে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

আইএমইডি’র পরিচালক পরিমল চন্দ্র বসু রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

আইএমইডি’র এক কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশে ডেমু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অথবা জানালাগুলো বড় হওয়া উচিত ছিল। যেন প্রচুর পরিমাণে বাতাস প্রবেশ ও নির্গমণের ব্যবস্থা থাকে। ভুল করে শীত প্রধান দেশের ডেমু বাংলাদেশে আনা হয়েছে। কিন্তু ডেমুর ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কিছু বলতে পারেননি। আমরা এ বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চেয়েছি’।

আইএমইডি’র পরিদর্শনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম শহরে একটি ডেমু চলাচল করতো, কিন্তু যাত্রীর অভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে। লোকসানি ৬৫৪ কোটি টাকার ডেমু মেরামতে ৩০৮ কোটি টাকা খরচ করে এখন ওয়ার্কশপসহ নানা অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তা না হলে বাকিগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘ডেমুগুলো শীত প্রধান দেশের, এটি পুরনো ইস্যু। গরম-শীত বিষয়ে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। অন্য দেশে একটি কোচে ভ্রমণ করেন ৫০ জন। সেখানে আমাদের দেশে ভ্রমণ করেন ১৫০ থেকে ২০০ জন। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের একটু সমস্যা হবেই। তবে  ডেমুর কোচগুলো আমাদের দেশের উপযোগী করা হচ্ছে’।

বাহ! কর্তাদের সাফাই গাওয়ার তরিকাটাও তো মন্দ না।

এর আগে শুনেছিলাম, রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নাকি আমেরিকার সড়ক আইন-কানুন অনুযায়ী ডিজাইন করা, যা আমাদের পুরাই উল্টা। কারণ, আমরা গাড়ি চালাই রাস্তার বাম দিকে আর আমরিকানরা চালায় ডান দিকে।আমেরিকান ফার্মকে নকশা ডিজাইন করতে দেওয়ার সময় এবং তা বুঝে নেওয়ার সময় আমাদের কর্তাদের কারো মাথাতেই আসেনি যে এই ডান-বামের উল্টা-সিধা নিয়মের কারণে পুরো ডিজাইনটাই উল্টে যেতে পারে! সুতরাং শেষ পর্যন্ত সেই উল্টা নিয়মের অনুসরণ করেই আমেরিকা থেকে ডিজাইন করে আনা হয়েছে আমাদের এই ফ্লাইওভারের নকশা।যার ফলে অতিরিক্ত সময় এবং টাকার গচ্চা দিয়ে দিয়ে খেসারত দিতে হচ্ছে দেশ এবং রাজধানীবাসীর, আর চালকদের খেসারত দিতে হবে এই ফ্লাইওভার থাকবে যতদিন, ততদিন।

তবে যাদের ভুলে আমেরিকান ডিজাইন বাংলাদেশের রাস্তায় এসে হাজির হলো তাদের কোনো খেসারত দিতে হয়েছে কি না, তা শোনা যায়নি। ভবিষ্যতেও শোনা যাবে বলে মনে হয় না।এবার যাদের ভুলে চীন থেকে শীত প্রধান দেশের ডেমুগুলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশ বাংলাদেশে আনা হয়েছে, তাদের দশার কোনো পরিবর্তন হবে কি না কে জানে?

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা –YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য